1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

জামিন নিতে মরিয়া চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিরা

  • প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
  • ৩০৬ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্টঃ উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন দেশজুড়ে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিরা। তারা হাইকোর্টে একের পর এক জামিন আবেদন করছেন। একই আসামির জামিন আবেদন এক বেঞ্চে খারিজ হওয়ায় ছুটছেন আরেক বেঞ্চে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর মামলার এক ডজন আসামির জামিন আবেদনের শুনানি হয়েছে। কেউ জামিন না পেয়ে আবারও নতুন আবেদন করেছেন। এর মধ্যে আলোচিত মেজর সিনহা হত্যা মামলার দুই আসামি,বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি মিজান, গোল্ডেন মনির, রিজেন্টের সাহেদ,ডা. সাবরিনাসহ একাধিক আলোচিত ধর্ষণ মামলার আসামির জামিন শুনানি হয়েছে। তবে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের প্রবল বিরোধিতার কারণে আসামিদের অধিকাংশ জামিন পাননি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, আদালতে আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে যেন চাঞ্চল্যকর এবং ভয়ংকর মামলার আসামিরা জামিনে বের হতে না পারেন সে বিষয়ে তারা সতর্ক ও তৎপর রয়েছেন। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, চাঞ্চল্যকর মামলার আসামির ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করি সরকারের বক্তব্য আদালতে সামনে তুলে ধরার। মামলার বিষয় বস্তু ও সঠিক তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে বা আদালতকে ভুল বুঝিয়ে প্রকৃত অপরাধীরা যেন জামিন না পান সে বিষয়ে আমরা সতর্ক ও তৎপর আছি।

সার্বিক বিষয়ে হাইকোর্টের একটি ফৌজদারি বেঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্লাহ বলেন, আসলে চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি, বড় বড় মাদক চোরাকারবারিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার জন্য খুবই তৎপর। কারণ এ সব অপরাধীদের একটা অর্থনৈতিক শক্তি থাকে। সে কারণেই তারা বার বার আদালতে আসে এবং জামিন পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। এজন্য এসব অপরাধীরা অনেক সময় বড় বড় আইনজীবী নিয়োগ করে। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে এমন সব আইনজীবী নিয়োগ করে তারা আদালতকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে, আদালতকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করে। তবে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ অত্যন্ত তৎপর ও সচেতন আছি। বিশেষ করে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে আমরা যেন চাঞ্চল্যকর এসব মামলায় জোরালো বিরোধিতা করি। কোন চাঞ্চল্যকর মামলায় বড় ধরনের অপরাধীরা যাতে জামিন না পায় সে ব্যাপারে সব সময় সচেষ্ট থাকি।

আলোচিত কক্সবাজারের টেকনাফে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি পুলিশের সোর্স মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আইয়াস হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলেন।

গত ৩ জুন বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারোয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চে তার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রবল বিরোধিতার কারণে সিনহা হত্যা মামলার এই আসামির জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন হাইকোর্ট।

এর আগে মেজর সিনহা হত্যা মামলার আরেক আসামি রুবেল শর্মাও হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলেন। তাকেও জামিন দেননি হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ।

সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং দুদক কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের দুই মামলায় পুলিশের সাময়িক বরখাস্ত আলোচিত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে জামিন দেননি হাইকোর্ট। তবে তার জামিন প্রশ্নে উচ্চ আদালত রুল জারি করেছেন।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

২০১৯ সালের ৯ জুন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পরিচালিত দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে দায়মুক্তি পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন ডিআইজি মিজান। ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথন রেকর্ড করে ওই চ্যানেলকে দিয়েছিলেন মিজান। ডিআইজি মিজান নিজেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা থেকে বাঁচতে ওই অর্থ ঘুষ দেন বলে ডিআইজি মিজান দাবি করেন।

রাজধানীর বাড্ডা থেকে গত বছর বিপুল অর্থ, অস্ত্র ও মদসহ গ্রেফতার হন মনির হোসেন ওরফে ‘গোল্ডেন’ মনির।
সম্প্রতি গোল্ডেন মনির হাইকোর্টের একাধিক বেঞ্চে জামিন আবেদন করেন। গত সপ্তাহে বিচারপতি কৃ্ষ্না দেবনাথ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারোয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক মামলায় তার জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। তবে গোল্ডেন মনিরের আইনজীবীরা আবারও অন্য বেঞ্চে জামিন আবেদন করবেন বলে জানা গেছে।

গত ১১ মে মনির হোসেন ওরফে ‘গোল্ডেন’ মনিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করে সিআইডি।

গত বছরের ২১ নভেম্বর মেরুল বাড্ডার বাড়ি থেকে মনিরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সেখান থেকে জব্দ করা হয় নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, চার লিটার মদ, ৮ কেজি স্বর্ণ, একটি বিদেশি পিস্তল ও কয়েক রাউন্ড গুলি।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি নুহাত আলম তাফসীরসহ দুই আসামি জামিন আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের এক বেঞ্চ থেকে আরেক বেঞ্চে ঘুরছেন।

গত ৫ জুন নুহাত আলম তাফসীরের জামিন আবেদন বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট আউট অব লিস্ট করে আদেশ দেন। জানা গেছে,তার আইনজীবী হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে আবারও জামিন আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

রিজেন্ট হাসপাতালে করোনাভাইরাস চিকিৎসার মহা প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. সাহেদ জামিন পেতে একের পর এক উচ্চ আদালতে আবেদন করে যাচ্ছেন। গত ৮ জুন প্রাইভেট কার থেকে মদ উদ্ধারের মামলায় মো. সাহেদের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সাহেদের আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।

এর আগে গত ২৪ মে অর্থ পাচার মামলায়ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ। জানা গেছে,হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চে জামিন আবেদন করে ব্যর্থ হওয়ার পর আবারও অন্য বেঞ্চে আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জামিন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মহাপ্রতারক সাহেদ।

জেকেজির সাবরিনার আবেদনে সাড়া দেন নি হাইকোর্ট । সম্প্রতি প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির অভিযোগে তেজগাঁও থানায় দায়ের হওয়া মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন করোনা পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। তবে তার আবেদনে সাড়া দেননি দেশের উচ্চ আদালত।

গত বছরের ২৩ জুন জেকেজির সিইও আরিফসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। মামলার তদন্তে জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনার নাম এলে গত ১২ জুলাই তাকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

এছাড়া বগুড়ায় কিশোরীকে ধর্ষণ এবং কিশোরী ও তার মাকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার, সারা দেশে একযোগে সিরিজ বোমা হামলার দিনে হবিগঞ্জে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নেতা সালাহউদ্দিনসহ জেএমবি সদস্যরা, গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার কাছাকাছি এলাকায় বাসে এক নারীকে গণ ধর্ষণের ঘটনায় আসামি হেলপার-সুপারভাইজারসহ অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিরা একের পর এক জামিন আবেদন করে যাচ্ছেন। যেকোন উপায়ে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেতে মরিয়া এসব অপরাধীরা।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ