1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৯:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আট মাসেও প্রতিবেদন না দেওয়ায় আদালতের উষ্মা আবরার হত্যা : ২৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ মণ্ডপে হামলা: নুরের দলের ৭ নেতাকর্মী রিমান্ডে বরগুনার আদালতে ব্যতিক্রমী রায়:মাদক মামলায় দোষী সাব্যস্ত আসামীকে ৭ শর্তে প্রবেশন দিয়েছে আদালত সোনাগাজীতে বদর মোকাম খালে অবৈধ বাঁধে জলাবদ্ধতা,ডুবে গেছে ফসল:ব্যবস্থা নিতে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বপ্রণোদিত আদেশ আবরার হত্যা: রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন ২৪ অক্টোবর বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষক রুমা সরকার রিমান্ডে বারাহিপুরে চাঞ্চল্যকর ফেসবুক লাইভে স্ত্রী খুনের মামলায় টুটুলের মৃত্যুদন্ড আদালতের পরিদর্শনে ধরা পড়ল এসি ল্যান্ড অফিসের নামজারি কার্যক্রমের ভয়াবহ অনিয়ম Producing a aktionär Porch Pitch

মেডিয়েশন বাধ্যতামূলক করে সুপ্রিম কোর্টের সার্কুলার গণমাধ্যমে প্রচার করতে ১২ মেডিয়েটরের যৌথ বিবৃতি

  • প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১
  • ১১৩ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট: বিরোধ মীমাংসায় মেডিয়েশন(মধ্যস্থতা)পদ্ধতি বাধ্যতামূলক ও মেডিয়েশন পদ্ধতি সম্পর্কে  বিচারপ্রার্থী জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে সুপ্রিম কোর্টের জারি করা দুটি সার্কুলার গণমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে প্রচার ও প্রকাশ করতে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন ইন্ডিয়া  ইনস্টিটিউট অব আরবিট্রেশন এন্ড মেডিয়েশন(আইআইএম) কর্তৃক স্বীকৃত বাংলাদেশের ১২ জন মেডিয়েটর।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রায় ৩৮ লাখ মামলারজটে ভারাক্রান্ত বাংলাদেশের বিচার বিভাগ। ঠুনকো অজুহাতে প্রতিদিন হু হু করে মামলার সংখ্যা বেড়ে চলছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে কম খরচে ও স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত  পদ্ধতি মেডিয়েশন(মধ্যস্থতা) আবশ্যিকভাবে’প্রতিপালনে অনুসরণীয় নির্দেশিকা জারি  করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। আমরা মনে করি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এই সার্কুলার    সুপ্রিম কোর্টের  যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সুপ্রিম কোর্ট মেডিয়েশন বিচারকদের জন্য বাধ্যতামূলক ঘোষণা করায়  বিচারপ্রার্থী জনগণের সময়, শ্রম ও অর্থের অপচয় রোধ করে আদালতে মামলার চাপ কমাতে  বিরোধ নিস্পত্তির এক দারুণ সুযোগ এসেছে।

বিবৃতিতে ১২ জন আন্তর্জাতিক মেডিয়েটর মেডিয়েশনের মর্মবাণী প্রচারে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রত্যাশা করে বলেন,গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চর্তুর্থ অঙ্গ বলা হয়। একমাত্র গণমাধ্যমই সারাদেশের মানুষকে মেডিয়েশন সম্পর্কে সচেতন ও মেডিয়েশনের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসায় বিচারপ্রার্থী জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে পারে। তাই দেশের মামলাজট নিরসন করে বঙ্গবন্ধুর কাংখিত সোনার বাংলা গড়তে মেডিয়েশন(মধ্যস্থতা)পদ্ধতি বাধ্যতামূলক ও মেডিয়েশন পদ্ধতি সম্পর্কে  বিচারপ্রার্থী জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে সুপ্রিম কোর্টের সার্কুলার আপনার গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

বিবৃতিদাতা ১২ জন মেডিয়েটর হলেন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেডিয়েশন সোসাইটির(বিমস) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এন গোস্বামী, অ্যাক্রিডিটেড মেডিয়েটর অ্যাডভোকেট পঞ্চজ কুমার কুন্ডু,বিমসের রিজওনাল ডিরেক্টর অ্যাডভোকেট খন্দকার রফিক হাসনাইন, অ্যাডভোকেট সৃজনী ত্রিপুরা, অ্যাক্রিডিটেড মেডিয়েটর অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবির শিকদার, অ্যাডভোকেট মো: আলমগীর হোসাইন, অ্যাডভোকেট ফারহানা আফরোজ, অ্যাডভোকেট আফরোজা শারমীন কনা, অ্যাডভোকেট মো: শাহীনুর ইসলাম,সাংবাদিক মেহেদী হাসান ডালিম,তন্ময় রহমান ও অ্যাডভোকেট কনিকা মন্ডল।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের জুডিসিয়াল রিফর্মস কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে গত ২১ মার্চ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নির্দেশক্রমে প্রচলিত বিভিন্ন আইনে অধস্তন আদালত সমূহে    মেডিয়েশন সংক্রান্ত বিধানাবলী ‘আবশ্যিকভাবে’ পালনের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সার্কুলার জারি করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৫ আগস্ট মেডিয়েশন পদ্ধতি সম্পর্কে  বিচারপ্রার্থী জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে সুপ্রিম কোর্টের অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য অনুসরণীয়  নির্দেশনা জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো: আলী আকবর স্বাক্ষরিত নির্দেশিকা অনুযায়ী এক বৈঠকে বিরোধ নিস্পত্তির পাশাপাশি জমা দেয়া কোর্ট ফি পর্যন্ত ফেরত পাবার সুযোগের রয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘দেওয়ানী মোকদ্দমায় লিখিত জবাব দাখিলের পর আদালত শুনানি মুলতবি করে ‘বাধ্যতামূলকভাবে’  মেডিয়েশনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং  মেডিয়েশন সংক্রান্ত শুনানীর জন্য একটি তারিখ ধার্য করবেন। ধার্য তারিখে বাদী, বিবাদী কিংবা পক্ষগণ চাইলে তাদের আইনগত প্রতিনিধি বা তাদের আইনজীবী স্বশরীরে আদালতে হাজির থাকবে বলে আদালত লিখিত নির্দেশ দিবেন। এরপর  মেডিয়েশন  সংক্রান্ত শুনানীর নির্ধারিত তারিখে মোকদ্দমার বাদী, বিবাদী কিংবা তাদের আইনগত প্রতিনিধি বা তাদের আইনজীবী স্বশরীরে আদালতে হাজির হলে আদালত পক্ষগণ বা তাদের আইনগত প্রতিনিধিকে মধ্যস্থতার বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহ ব্যাখ্যা করে বোঝাবেন। এক্ষেত্রে  মেডিয়েশনের যে বৈশিষ্ট্যগুলো আদালত তুলে ধরবেন তা হচ্ছে:-

# মেডিয়েশন শুরু হলে তার মাধ্যমেই মোকদ্দমার নিষ্পত্তি হতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। আর  মেডিয়েশনের আলোচনা শুরুর পর যদি দেখা যায় বিরোধীয় বিষয়টিতে পক্ষসমূহের অবস্থান এমন অনমনীয় যে কোনো মধ্যস্থতা সম্ভব নয়, অথবা  মেডিয়েশনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি কোনো পক্ষের জন্যই অনুকূল কোনো অবস্থানের সৃষ্টি করছে না, তাহলে সেই পর্যায় হতে পুনরায় প্রচলিত আইনে মোকদ্দমার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব। কিন্তু মেডিয়েশনের আলোচনা একবার শুরু হলে অনেক ক্ষেত্রেই পক্ষগণ আর প্রথাগত মামলা পরিচালনার কার্যক্রমে না গিয়ে  মেডিয়েটরের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে আগ্রহী হবেন তাই পক্ষগণের অন্তত একবার  মেডিয়েশনের জন্য আলোচনায় বসা উচিত।

মেডিয়েশনের ক্ষেত্রে পক্ষগণ নিজেরাই নিজেদের পক্ষের  মেডিয়েটর নির্বাচন করতে পারবেন। সুতরাং এই প্রক্রিয়ায় পুরো বিষয়টিতেই পক্ষগণের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।

#পক্ষগণ আদালত বা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের মাধ্যমে মোকদ্দমার বিরোধীয় বিষয়

মেডিয়েশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে চাইলে এ বাবদ তাদের কোনো খরচ বহন করতে হয় না ।

# দরিদ্র ও অস্বচ্ছল পক্ষগণ প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণসাপেক্ষে  মেডিয়েশন বাবদ খরচ আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার নিকট হতে লাভ করতে পারে।

#  মেডিয়েশনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে মেডিয়েটর কোন সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন না, বরং তিনি পক্ষগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করেন।এক্ষেত্রে পক্ষগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীন।

মেডিয়েশনের বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরার পর আদালত পক্ষগণ বা তাদের আইনগত প্রতিনিধিকে মধ্যস্থতার যে সুবিধাসমূহ ব্যাখ্যা করবেন সেগুলো হচ্ছে:-

# মেডিয়েশন প্রক্রিয়ার যে কোনো পর্যায়ে পক্ষগণের মধ্যে যে আলোচনাই হোক না কেন বা যে দলিল-প্রমাণই উপস্থাপন করা হোক না কেন, তার গোপনীয়তা অটুট থাকে এবং  মেডিয়েশন ব্যর্থ হলে  মেডিয়েশনের আলোচনা আদালতে প্রমাণ হিসাবে গ্রাহ্য হয় না।

# মেডিয়েশনের ক্ষেত্রে পক্ষগণ বা তাদের নিযুক্ত আইনজীবীগণ মধ্যস্থতা আলোচনার স্থান, কাল এবং কার্যসম্পাদন প্রক্রিয়া নিজেরাই ঠিক করেন বলে এর কার্যপ্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও ফলপ্রসূ। এর ফলে পক্ষগণের সময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় হয়।

# আদালতে অথবা আরবিট্রেশনে সাধারণত পক্ষগণের কথা বলার সুযোগ কম থাকে। কিন্তু  মেডিয়েশন প্রক্রিয়াটি অনানুষ্ঠানিক হওয়ায় পক্ষগণ নিজেরা নিজেদের সমস্যা বা বিরোধ নিষ্পত্তিতে অধিক কথা বলার সুযোগ পান। এর ফলে পরস্পরের ভুল বোঝাবুঝির অবসানের ক্ষেত্র তৈরি হয়।

# প্রচলিত পদ্ধতিগত কারণে অনেক ক্ষেত্রে মামলা নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর কালক্ষেপণ হয়ে থাকে, কিন্তু  মেডিয়েশনের  মাধ্যমে এক বৈঠকেই বিরোধ নিষ্পত্তি হতে পারে। আর এই পদ্ধতিতে আইনগতভাবে সর্বোচ্চ ৯০ (নব্বই) দিন সময় প্রয়োজন হতে পারে। পক্ষগণ মতৈক্যে উপনীত হওয়ার পরে আদালত সে মর্মে ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করতে পারেন। এতে মোকদ্দমা নিষ্পত্তিতে কালক্ষেপণের সুযোগ কম।

# মেডিয়েশনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে পক্ষগণ কোর্ট ফি ফেরত পাবেন। যার ফলে পক্ষগণের অর্থের সাশ্রয় হবে। এছাড়া  মেডিয়েশনের মাধ্যমে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম সময়ে মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হয়। তাই মোকদ্দমার সার্বিক পরিচালনা ব্যয়সহ আইনজীবীর ফি বাবদ ব্যয় কম হয়।

# আদালতে বিচার বা আরবিট্রেশনের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি হলে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা থেকে যায়। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মোকদ্দমা নিষ্পত্তি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বা উচ্চ আদালতে রিভিশন হয়। এরপর আপিল বা রিভিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল বা লিভ টু আপিল হয়। সে রায়ের বিরুদ্ধে আবার সংক্ষুব্ধ পক্ষ রিভিউ পিটিশন দায়ের করে। এর ফলে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা হতে পারে। তবে মেডিয়েশনের মাধ্যমে মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হলে সেই  মেডিয়েশনের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা রিভিশন রক্ষণীয় নয়। ফলে একদিকে যেমন বিরোধীয় বিষয়ের দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব, অন্যদিকে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা থাকে না। এতে পক্ষগণের সময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় হয়।

#মেডিয়েশনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে পক্ষগণ স্বাধীনভাবে নিজেরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বিধায় পক্ষগণের মধ্যে জয়-পরাজয়ের প্রশ্ন উদ্ভব হয় না। এই পদ্ধতিতে ‘win-win situation’ এর কারণে পক্ষগণ তাদের গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন। সর্বোপরি, মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে পক্ষগণ ঐক্যমতের ভিত্তিতে তাদের সমাধান খুঁজে নেন বা বিরোধ মীমাংসা করেন বিধায় একই বিষয়ে পক্ষগণের মধ্যে বা তাদের উত্তরাধিকারীগণের মধ্যে পুনরায় বিরোধ সৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। ফলে বিরোধের একটি স্থায়ী ও সফল সমাধান হয় এবং পক্ষগণের মধ্যে সম্পর্ক অটুট থাকে।

মেডিয়েশনের সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করার পর পক্ষগণ সম্মত হলে আদালত  মেডিয়েটর হিসেবে  মেডিয়েশনের আলোচনা শুরু করবেন অথবা মধ্যস্থতার জন্য সংক্ষিপ্ত বিরতিতে পক্ষগণের সুবিধামতো একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন। এছাড়া আদালত পক্ষগণকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের অন্য যে সকল বিকল্প রয়েছে অর্থাৎ, নিযুক্ত আইনজীবীগণের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ, জেলা জজ কর্তৃক প্রণীত প্যানেলের কোনো মেডিয়েটরের মাধ্যমে  মেডিয়েশন অথবা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের মাধ্যমে মেডিয়েশন ইত্যাদি বিষয় পক্ষগণকে বুঝিয়ে বলবেন এবং পক্ষগণ যদি এসব বিকল্পের যে কোনো একটিকে বেছে নেয়, তাহলে সে অনুযায়ী আদালত  মেডিয়েশনের জন্য পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। তবে পক্ষগণের সঙ্গে ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট ছিল বা প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে চাকরিরত আছেন এমন কোনও ব্যক্তিকে  মেডিয়েটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। আর অর্থ ঋণ আদালত আইন-২০০৩ এর অধীনে  মেডিয়েটর নিয়োগের ক্ষেত্রে এই আইনের ২২(২) ধারায় বর্ণিত ব্যক্তিদের মধ্য হতে মেডিয়েটর নিয়োগ করতে হবে। আর আদালতের আদেশের দশ দিনের মধ্যে  মেডিয়েটর নিযুক্ত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে মোকদ্দমার পক্ষগণ আদালতকে অবহিত করবেন। তবে পক্ষগণ মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত করতে ব্যর্থ হলে আদালত পরবর্তী ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে  মেডিয়েটর নিয়োগ করবেন। আর মেডিয়েটর নিযুক্ত হওয়ার ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আদালত মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। যদি ষাট দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে মধ্যস্থতার অগ্রগতি বা যথাযথ কারণ বিবেচনায় অতিরিক্ত ত্রিশ দিন বর্ধিত করা যাবে। অত:পর  মেডিয়েশনের মাধ্যমে বিরোধটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলে মধ্যস্থতাকারী উভয় পক্ষ কর্তৃক গৃহীত শর্তাবলি উল্লেখপূর্বক একটি চুক্তি প্রস্তুত করবেন এবং পক্ষগণ, তাদের নিযুক্ত আইনজীবীগণ ও  মেডিয়েটর তাতে স্বাক্ষর করবেন। সাত দিনের মধ্যে আদালত উক্ত চুক্তির আলোকে ডিক্রি বা আদেশ প্রচার করবেন। বিচারক নিজে আপস-মীমাংসা করে থাকলেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। মেডিয়েশনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়ে গেলে পক্ষগণ আদালতে দাখিলকৃত কোর্ট ফি ফেরত পাবেন। আর মেডিয়েশনপ্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে মামলাটি আগের অবস্থা থেকে চলবে।

তবে কোন বিচারক নিজে  মেডিয়েটর হলে এবং সে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে তিনি আর ওই মোকদ্দমার বিচার করবেন না। তিনি মোকদ্দমাটি উপযুক্ত একটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে বদলির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা জজের নিকট পাঠাবেন। আর কোনো আপিল মামলায় জেলা জজ মেডিয়েটর হলে এবং  মেডিয়েশন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে তিনি সে আপীল মামলা বিচার না করে উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে প্রেরণ করবেন। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের মাধ্যমে  মেডিয়েশন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক আইন ও বিধি অনুযায়ী একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা আদালতে দাখিল করবেন। সর্বোপরি,  মেডিয়েশন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় পক্ষগণের আলাপ-আলোচনা, বিবৃতি, স্বীকৃতি বা মন্তব্য গোপন রাখতে হবে এবং তা মোকদ্দমার কার্যক্রমে সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার বা বিবেচনায় নেওয়া যাবে না।  মেডিয়েশন প্রক্রিয়ার যে কোনো পর্যায়ে পক্ষগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালত সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান মতে প্রয়োজনীয় আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারবে।

 

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ