1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন

মৌমিতা আর ইঞ্জিনিয়ার হতে পারল না

  • প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১
  • ১৫১ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট: আমি আমার দুই মেয়েকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় থাকতাম। তারা সেখানে পড়ালেখা করত। লকডাউনের কারণে আমি মেয়েদের নিয়ে বাংলাদেশে আসি। আগামী মাসে চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিভাবে যে একটি ঝড় এসে আমার পুরো পরিবারকে তছনছ করে দিল। আমাদের ও তার ইচ্ছে ছিল সে ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু সে তো আর ইঞ্জিনিয়ার হতে পারল না। আমাদের সব স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে গেল।

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় বাসার ছাদ থেকে পড়ে নিহত তাজরিয়ান মোস্তফা মৌমিতার (২০) মা কান্না জড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলছিলেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারির (শুক্রবার) ওই ঘটনায় মৌমিতার বাবা কলাবাগান থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মৌমিতার মা বলেন, আমার তিন মেয়ে। বড় মেয়ে ডাক্তারি পড়াশোনা করে। মেজো মেয়ে মৌমিতা মালয়েশিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে চতুর্থ সেমিস্টারে পরত। আর ছোট মেয়ে ও-লেভেলে পড়ালেখা করে। মেজ ও ছোট মেয়েকে নিয়ে আমি মালয়েশিয়ায় থাকতাম।

মৌমিতার মা আরও বলেন, ‘আমার মেয়ের তো কারোর সঙ্গেই শত্রুতা ছিল না। কিন্তু কেন এমন হলো? কেন আমার মেয়েকে হত্যা করা হলো? কি করছিল আমার মেয়ে? শুধু এতটুকু জানি আমার মেয়েরা বাসার ছাদের গেলে বাড়ির মালিকের ছেলে ফাইজার ও তার বন্ধুরা মিলে বাসার ছাদে আড্ডা দিত। তারা আমার মেয়েকে বিরক্ত করত। প্রতিবাদ করলে ফাইজার ও তার পরিবার আমাকে ও আমার মেয়েকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ব্ল্যাকমেল করেছিল। আমি বুঝি না কিভাবে আমার মেয়ের কি হয়ে গেল।

তিনি আরও বলেন, ‌‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটাই অনুরোধ, যে আমার বুক খালি করেছে তাদের যেন আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।’

আমির হামজা রিমান্ডে
এ ঘটনায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কলাবাগান থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহ করে আমির হামজা আদনান নামে একজনকে গ্রেফতার করে। এরপর তাকে এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৯ মার্চ আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। গত ২ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তের স্বার্থে আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আদনানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২ মার্চ ফের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আদনানের ফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মৌমিতার পরিবারের অভিযোগ
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর মালয়েশিয়ার পড়ালেখা করার জন্য মা-বাবাসহ সেখানে চলে যান মৌমিতা। কিন্তু করোনার কারণে গত বছরের ১৮ জুন দেশে আসেন। দেশে এসে ধানমন্ডির ওই বাসাটিতে ওঠেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে আসার পর থেকে ফাইজার বিভিন্ন সময় মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করতেন। ফাইজারের পরিবারকে এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও তারা কোনো প্রতিকার করেনি। উল্টো এ বিষয়ে ফাইজারের পরিবার ছেলের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে মৌমিতার ফুফু শাহনেওয়াজ খানম বলেন, মৌমিতাকে ছাদে কিংবা সিঁড়িতে একা পেলেই ফাইজার তার বন্ধুদের নিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। ঘটনার দিন বিকেল ৪টায় মৌমিতা যখন ছাদে ওঠে তখন ফাইজার ও তার বন্ধুরা ছাদের গেট (দরজা) আটকে দেয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। এরপরই মৌমিতার মরদেহ পাওয়া যায়। এছাড়া আশপাশের অনেক ভবনের লোকজন দেখেছিল, ঘটনার দিন বিকেলে ৪-৬টা পর্যন্ত ছাদে অনেক লোকজন ছিল। কিন্তু পুলিশ ফাইজারকে আটক না করে তার বন্ধুকে আটক করেছে। ফাইজারকে আটক করলে সব তথ্য পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় ধানমন্ডির ৮ নম্বর রোডের বাসার ছাদে ওঠেন মৌমিতা। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিল্ডিংয়ের পেছনের গলিতে তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধার করে গ্রিন রোডের গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি ময়নাতদন্ত শেষে মৌমিতার মরদেহ মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ