1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন

জাল অনুমোদনপত্র দেখিয়ে করোনা টেস্ট : ৩ জন রিমান্ডে

  • প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪৪ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্টঃস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জাল অনুমোদনপত্র দেখিয়ে করোনা টেস্টের নামে পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার তিন জনের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

তারা হলেন- আব্দুল্লাহ আলামিন, আবুল হাসান তুষার ও মোহাম্মদ শাহিন মিয়া।

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেকের সাতদিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গ্রেফতার তিনজনের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ও ডিবি-উত্তর) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, রাজধানীর আল-রাজি কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় ফ্লোরকে নিজেদের কার্যালয় সাজিয়ে গত ১১ জুলাই টিকেএস গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকেএস হেলথ কেয়ার সার্ভিস নামক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান তৈরি করে চক্রটি। এরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন করা হয়। আবেদনে তারা দেশের আট বিভাগ, ৬৪ জেলা, ৪৯২ উপজেলা ও ৪ হাজার ৫৬২ ইউনিয়নে বিনামূল্যে করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করার অনুমতি চায়। প্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ১২৬ জন সম্মুখযোদ্ধা এ কাজের জন্য প্রস্তুত আছে মর্মে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, প্রতিষ্ঠানের বৈধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্ব না থাকায় মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পাবে না বুঝতে পেরে তারা প্রতারণার আশ্রয় নেয়।

ADVERTISEMENT

চক্রটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, প্রশাসন শাখা-১ অধিশাখার ১৯ জুলাই তারিখের স্বারক সম্পূর্ণ জালিয়াতি করে। এছাড়া তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জাকিয়া পারভীনের স্বাক্ষর-সিল জালিয়াতি করে নিজেরাই বুথ স্থাপন, স্যাম্পল কালেকশন, লোক নিয়োগ ও ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুমতি নিয়ে নেয়।

এই ভুয়া অনুমতিপত্রের মাধ্যমে প্রতারক চক্রটি ঢাকা ও ঝালকাঠি জেলার উপজেলা কো-অর্ডিনেটর ও ইউনিয়নের ফিল্ড অফিসার পদে কয়েকজনকে নিয়োগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়। স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কোনো রকম সনদ ও অভিজ্ঞতা না থাকার পরেও শুধু প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয় তারা।

আব্দুল্লাহ আল আমিন ও আবুল হোসেন তুষার প্রাথমিকভাবে কোম্পানির প্রোফাইল বানানোর জন্য এক হাজার টাকা খরচ করেন। এছাড়া বিভিন্ন লোগো সম্বলিত আবেদনপত্র প্রিন্টে এক হাজার টাকা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার জন্য ২০০ টাকাসহ মোট আড়াই হাজার টাকা বিনিয়োগ করে সমগ্র বাংলাদেশে ১০০টি ক্যাম্পাস স্থাপন করে। প্রতিটি ক্যাম্পাসের ডিলারশিপ দেওয়ার জন্য তারা কমপক্ষে দুই লাখ টাকা করে মোট দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা করেছিলেন।

একই সঙ্গে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে ছাত্র ও যুবকদের ১০০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশনের নামে আরও কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন বলেন, এর আগেও প্রতারক সাবরিনা ও সাহেদদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সুতরাং, আমরা জানাতে চাই, কেউ প্রতারিত হবেন না। কোথাও টাকা দেওয়ার আগে যাচাই করুন।

এক প্রশ্নের জবাবে এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। আইজিপির স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যারাই করোনা পরিস্থিতিকে অপব্যবহার করে জাল-জালিয়াতি বা প্রতারণার চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারাদেশে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এম/এ/হ

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ