1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন

ভাসানচরের পথে আরও ২ হাজার ১২ জন রোহিঙ্গা

  • প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৫৯ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্টঃ  ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে গতকাল (রোববার) চট্টগ্রাম নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আজ সকালে নৌ বাহিনীর জাহাজে করে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন।

আগ্রহী ২ হাজার ১২ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী গতকাল সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রামে পৌঁছান। রাতে তারা চট্টগ্রামের বিএফ শাহিন কলেজ মাঠের অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করেন। সেখানেই তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

আজ সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বোট ক্লাব থেকে নৌবাহিনীর ৫টি জাহাজ শরণার্থীদের নিয়ে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। দুপুরের মধ্যে জাহাজগুলোর ভাসানচরে পৌঁছে যাওয়ার কথা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের চট্টগ্রাম থেকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার সাথে সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তবে বাংলাদেশ সরকার বলছে যে ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য তাদের কোনোরকম জোর করা বা ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে না, তারা স্বেচ্ছায় সেখানে যাচ্ছেন।

ভাসানচরগামী জাহাজে ওঠার আগে আগে কথা হয় রমেরা বেগম নামে এক নারীর সাথে। তিনি বলেন, তিন বাচ্চাসহ স্বামীর সাথে উন্নত জীবনের আশায় ভাসানচর যাচ্ছেন তিনি। এর আগে যাওয়া নিজের ভাইদের কাছ থেকে ভাসানচরের সুযোগ-সুবিধার কথা শুনে তিনি সেখানে যাচ্ছেন।

হোসেন নামে একজন রোহিঙ্গা বলেন, স্বেচ্ছায় পরিবার নিয়ে ভাসানচরে যাচ্ছি। আশা করছি ক্যাম্পের ঘিঞ্জি পরিবেশ থেকে ভাসনচরের খোলা পরিবেশে শিশুরা খেলাধুলা করতে পারবে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে সেখানে তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ সরকার। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসেই এই প্রকল্প নিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পটির বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে। চরে এক লক্ষ রোহিঙ্গা থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের জন্য ১২০টি ক্লাস্টার বা গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ঘর রয়েছে ১,৪৪০টি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যাতে ব্যবহার করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে ভাসানচরে পাঁচ তলা বিশিষ্ট ১২০টি শেল্টার হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। জোয়ার এবং জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে ভাসানচরকে রক্ষার জন্য চারপাশে নয় ফুট উচ্চতার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

মো. আলম নামের একজন বলেন, ভাসানচরের উন্নত জীবন যাপনের কথা শুনে আমরা যাচ্ছি। কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলো বেশির ভাগ পাহাড়ের ঢালুতে তৈরি। বর্ষার সময় পাহাড়ধসে ঘরবাড়ি বিলীন হয়, হতাহতের ঘটনা ঘটে। আর নবী হোসেন বলেন, টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে নানা ধরনের অসুবিধা রয়েছে। সাধারণ রোহিঙ্গারা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাই ঝুঁকি এড়াতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমিও তাই চলে যাচ্ছি ভাসানচরে।

গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় এক হাজার ৬৪২ জন এবং ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় এক হাজার ৮০৪ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসানচর নেওয়া হয়। ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি আরও প্রায় ৪ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭৬ জন। এই হিসাব ২০২০ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে সাত লাখ ৪১ হাজার ৮৪১ জন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার ৩৪টি অস্থায়ী শিবিরে তারা বসবাস করছেন। প্রায় ১০ হাজার একর বন ও সমতল ভূমিতে তাদের বসবাস।

সূত্রঃ ঢাকা পোষ্ট

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ