1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

ফুলগাছ খাওয়ার অপরাধে ছাগল আটক:জরিমানা আদায় করে ছাগল ফেরত দিলেন ইউএনও

  • প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
  • ৭৭ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্টঃ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফুলগাছ খাওয়ার ‘অপরাধে’ ছাগল আটকের পর বিক্রি করার ১০ দিন পর সেই ছাগলটি ফিরিয়ে দিলেন ইউএনও সীমা শারমিন।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) বিকেলে উপজেলা চত্বরে মালিককে ডেকে ওই ছাগল ফেরত দেন তিনি। ছাগলের মালিক সাহারা বেগম জানান, স্থানীয় এক সাংবাদিকের মধ্যস্ততায় বিকেলে এই ছাগল ফেরত পান তিনি।

এ ব্যাপারে আদমদিঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা শারমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আদমদিঘি উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খান রাজু বলেন, উপজেলার পক্ষ থেকে জরিমানার দুই হাজার টাকা ইউএনওকে দেওয়া হয়েছে। কারণ, এ বিষয়টি নিয়ে আমার উপজেলার দুর্নাম হয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

গত ১৭ মে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঢুকে ফুলগাছের পাতা খায় ছাগলটি। এতে ছাগলটি আটক করেন ইউএনও সীমা শারমিন। পরে ছাগলের মালিক দ্বারে দ্বারে ঘুরে ছাগল ফেরত না পেয়ে সাংবাদিকের দারস্থ হন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন ছাগলের মালিক সাহারা বেগম। তিনি বলেন, এক বছর আগে ৫ হাজার টাকায় কিনেছিলাম, বর্তমান ৩ মাসের গার্ভবতী ছাগলটি।

ভুক্তভুগী ওই নারী জানান, স্বামী জিল্লুর রহমান একজন সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর বর্তমান ঢাকায় একটি কোম্পানিতে কাজ করছেন। উপজেলা পরিষদ চত্বর সংলগ্ন বসবাসরত সাহেরা খাতুন তার সংসার চালাতে মুরগি ও ছাগল পালন করে কষ্টের মধ্যে জীবনযাবন করেন। ছাগল বাড়ির আশপাশে খাবার খেয়ে থাকেন। গত ১৭ মে দিনের বেলায় যে কোনো সময় উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঢুকে ফুলগাছের পাতা খায়। এঘটনায় ছাগলটি আটক করেন ইউএনও।

সাহারা বেগম জানান, অনেক খোঁজাখুঁজির পর তিনি দেখতে পান, উপজেলা চত্বরের ভিতর ছাগলকে বেধে রেখে ঘাস খাওয়াচ্ছে এক আনসার সদস্য। ছাগলটি নিতে চাইলে তাকে ছাগল দেওয়া যাবে না বলে ছাপ জানিয়ে দেওয়া হয়। নিরূপায় হয়ে তিনি ৫ দিন ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গেলেও তাকে কোনো পাত্তা না দিয়ে বরং ছাগলের মালিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ছাগলের দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন।

 

এদিকে, ছাগলের মালিক জরিমানার টাকা জোগার করতে না পারায় আবশেষে ইউএনও গত শনিবার (২২ মে) ছাগলটি বিক্রি করে দেন এবং ছাগলের মালিককে খবর দেন যে ছাগল বাজারে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে জরিমানার ২ হাজার টাকা বাদ দিয়ে ৩ হাজার টাকা নিয়ে যেতে। এ খবর জানার পর থেকে ছাগলের মালিক বিভিন্ন জায়গায় সাহায্য চেয়েও কোনো সুফল পাননি। এলাকাবাসী জানান, কোনো গাছ পালা খেলে ছাগল আটক করে বিক্রি করবে এটা অন্যায়। তদন্ত করে এর সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ওই সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, গাছ খাওয়ার অপরাধে মালিকের বিরুদ্ধে মোবাইলকোর্টের আওতায় এনে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছাগল বিক্রি করা হয়নি, একজনের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ