1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

বৈষম্যের কথা তুলে ধরলেন তিন রুপান্তরিত নারী

  • প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১
  • ২০৭ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট: ছোট বেলা থেকেই পরিবারে-সমাজে বৈষম্যের স্বীকার হওয়ার কথা তুলে ধরেছেন আমেরিকা,ভারত ও বাংলাদেশের তিনজন রুপান্তরিত নারী। তারা হলেন, কলকাতার মানবাধিকার কর্মী ও লেখক অচিন্ত্যা প্রান্তর, ইন্ডিয়ান-আমেরিকান ট্যান্সজেন্ডার নারী সিলিয়া ড্যানিয়েল ও বাংলাদেশের রুপান্তরিত নারী হো চি মিন ইসলাম।

নারী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলাদেশি ‘নো পাসপোর্ট ভয়েস’ এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে তারা এ বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে কলকাতার মানবাধিকার কর্মী ও লেখক অচিন্ত্যা প্রান্তর বলেন, রুপান্তরিত নারীদের ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন বাধা বিপত্তি পার করে বড় হতে হয়। আমাকেও পরিবারে,সমাজে বাধা মোকাবেলা করতে হয়েছে, বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। নিজের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন,ছোটবেলাতে আমি চুল কাটতে চাইতাম না। কিন্তু বাবা জোর করে চুল কেটে দিতো। সেই কষ্টের কথা এখনও মনে পড়ে। সমাজের নানা ভাবে বুলিং উপেক্ষা করে,বাধা বিপত্তি পেরিয়ে আজ এ পর‌্যন্ত এসেছি।

ইন্ডিয়ান-আমেরিকান রুপান্তরিত নারী সিলিয়া ড্যানিয়েল বলেন, ছোট বেলা থেকেই পুরুষ হিসেবে নিজেকে মনে না করলেও সামাজিক বাস্তবতার কারণে একজন নারীকে বিয়ে করে ৯০ এর দশকে আমি আমেরিকায় আসি। পরে রুপান্তরিত নারীতে পরিণিত হই। বাধা বিপত্তি পেরিয়ে আজ সফল হয়েছি।পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে কী-নোট পাঠ করেন সিলিয়া । সেখানে ইন্টার সেক্সয়ুালিটি এবং ট্যান্সজেন্ডার নিয়ে তিনি বিশদ আলোচনা করেন।

‘নো পোসপোর্ট ভয়েস’ এর উন্নয়ন কর্মকর্তা ও রুপান্তরিত নারী হো চি মিন ইসলাম বলেন, কোভিড ১৯ এর সময় আমি ট্যান্সজেন্ডার নারী হিসেবে নয়,মানুষ হিসেবে সকলের পাশে দাড়িয়েছিলাম। মনে রাখতে হবে আমরা প্রথমে মানুষ। আজকে আমি এই ওয়েবিনারের একজন আলোচক হিসেবে থাকতে পেরে গর্বিত। রুপান্তরিত নারী হিসেবে এটা আমার জন্য সম্মানের। এখানে তিন দেশের তিন ট্যান্সজেন্ডার নারী আছেন। এছাড়া প্রথিতযশা আলোচকরা আছেন।

সাবেক মিস ইউরোপ ও পাবলিক স্পিকার লুইসা বার্টন বলেন, ছোট বেলায় শ্বেত রোগের মত আমার রোগ ছিল। তবে আমার ইচ্ছে ছিল মডেলিং করার। সবাই বলতো এই মেয়ে কিভাবে মডেলিং করবে। ওর তো স্কীনে সমস্যা। নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে ২০১৬ সালে মিস ইউরোপ হওয়ার গৌরব অর্জন করি। এখন জলবায়ু নিয়ে কাজ করছি।

জাতীয় মহিলা দলের ক্রিকেটার জান্নাতুল সুমনা বলেন,আমাদের দেশে বাবা মায়েদের ইচ্ছেই থাকে মেয়েরা ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার বা এরকম কিছু হোক। কিন্তু খেলোয়ার হওয়ার জন্য আমার পরিবার থেকে অনেক সাপোর্ট পেয়েছি। তবে বাংলাদেশে নারীদের এ খেলাকে এখনও পুরুষদের মত মর‌্যাদা দেওয়া হয় না। খেলার জন্য পুরুষদের মত আর্থিকসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয় না। উন্নত বিশ্বে খেলাধুলায় মেয়েদের অনেক সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে এখনও অনেক পিছিয়ে। তবে প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নের জন্য অনেক কাজ করছেন। এটা প্রশংসনীয়।

আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অব স্টোরি প্রেসিডেন্ট শেলি জুনেজা বলেন, সব নারীদের একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে,আমরা নিজেরা যা করতে চাই বা হতে চাই,সেটাকে প্রায়োরিটি দিতে হবে। রুপান্তরিত নারীদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি নো পাসপোর্ট ভয়েসকে অভিনন্দন জানান।

বান্দরবনের মারমা সম্প্রদায়ের নারী অধিকার কর্মী ড নাই প্রু ন্যালি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে আসছি। তবে কখনও কোন সেমিনারে আলোচনার জন্য ডাক পায়নি। “ নো পোসপোর্ট ভয়েসের’ সেমিনারে বিদেশী অতিথিদের সাথে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। তিনি তার সম্প্রদায়ের গল্প বলতে গিয়ে বলেন,আমাদের সমাজে বিয়ের নিবন্ধন এখনও চালু হয়নি। এখানে ইচ্ছেমত বিয়ে করে আবার যেকোন সময় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। এটার পরিবর্তন হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ফারজানা চৌধুরী বলেন,সব শ্রেণী-পেশার নারীদের গল্প তুলে ধরার জন্য ‘নো পাসপোর্ট ভয়েস’ একটি বিশ্বস্ত প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে। নারী দিবস উপলক্ষে এ ওয়েবিনায়ের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি নিজের জীবনের বাস্তব ঘটনা তুলে ধরে বলেন, আমি যখন গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স শুরু করি,তখন অনেকেই নাক সিটকিয়ে বলেছে, মেয়ে হয়ে ইন্সুরেন্সের কি বুঝবে,কি করবে। কিন্তু নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আমি আজ সফল হয়েছি। গ্রিন ডেল্টায় ২০২৪ সালের মধ্যে পুরুষের সমান সংখ্যক নারী কর্মী কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে চট্রগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান বলেন,দেশে বড় বড় জায়গায় নারীদের অবস্থান আছে। কিন্তু এখনও যখন আমি কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি,তখন লক্ষ করি  অংশগ্রহণকারীদের  আমিই একমাত্র নারী। সবক্ষেত্রে নারীদের আরো এগিয়ে আসতে হবে। প্রিয়াংকা বলেন,আমি মনে করি আমাদের আইনে রুপান্তরিত নারীদের অধিকারও অন্তভূক্ত করতে হবে এবং আইন তৈরির সময় তাদের প্রতিনিধির কাছ থেকেও মতামত নিতে হবে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও নো পাসপোর্ট ভয়েসের কো-ফাউন্ডার ব্যারিস্টার ফাতিমা ওয়ারিথা আহসান বলেন, আমরা একটি ম্যাসেজ নিয়ে এসেছি,একটি ভয়েস রেইস করতে চাই,সেটা হলো ভয়েস অব অল। নারী দিবসে আমরা সমাজের সব শ্রেণীর নারীদের গল্প শুনতে এসেছি। নো পাসপোর্ট ভয়েস এমন একটা সংগঠন যেখানে আমরা সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকে অন্তভূক্ত করতে চাই।

অনুষ্ঠানে নো পাসপোর্ট ভয়েসের কো ফাউন্ডার ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান, কমপ্লায়েন্স অফিসার আদিবা তারান্নুম, রিসার্চ বডি সারিকা তাসনিম, ইয়ুথ অ্যাম্বাসেডর ফর ওম্যান অ্যান্ড চিলড্রেন রাইটস রেজিতা গুরুং অংশ নেন।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ