1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

আল জাজিরার প্রতিবেদন: মামলার আবেদন ফেরত দিয়েছেন আদালত

  • প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১১২ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট:  বাংলাদেশ সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের না করায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটির জন্য টেলিভিশন চ্যানেলটির ডিরেক্টর জেনারেল মোস্তফা সৌগসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি আদালত ফেরত দিয়েছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান, সুইডেনপ্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল ও হাঙ্গেরিপ্রবাসী বাংলাদেশি জুলকারনাইন সামি।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক ওরফে মশিউর মালেক।

আল-জাজিরার ওই প্রতিবেদনের প্রধান ভাষ্যকার ডেভিড বার্গম্যান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আর আল জাজিরার প্রতিবেদনটি প্রচারের পরদিন সেটির প্রতিবাদ জানিয়ে আইএসপিআর যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছিল সেখানে প্রতিবেদনে সামি হিসেবে চিহ্নিত জুলকারনাইন সায়ের খান সম্পর্কে লেখা হয়েছিল- তিনি মাদকাসক্তির অভিযোগে বাংলাদেশ সামরিক একাডেমি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক ক্যাডেট। তাসনিম খলিলের পরিচয় দেওয়া হয়েছিল তিনি ‌‘কুখ্যাত’ নেত্র নিউজের প্রধান সম্পাদক।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুনাম নষ্ট করে আন্তর্জাতিকভাবে অপপ্রচার চালিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছেন। তারা যৌথভাবে ও অজ্ঞাত আসামিদের দিয়ে ভুয়া তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন তৈরি করে গত ১ ফেব্রুয়ারি ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারর্স ম্যান’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে ইউটিউবে ব্যাপক প্রচার পায়। যা পরের দিন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ও অনলাইনে প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বাংলাদেশের ভেতরে এবং বাইরে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করাসহ দেশ ও জাতির সুনাম হানি করেছে।

আল জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে আগেই ‘মিথ্যা ও অবমাননাকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছে বাংলাদেশ সরকার। ২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে একে লন্ডন ও অন্যান্য জায়গায় সক্রিয় উগ্রপন্থী ও তাদের সহযোগীদের উসকানিতে বেপরোয়া ও নোংরা অপপ্রচার বলে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার এটি প্রত্যাখ্যান করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ প্রতিবেদন একগুচ্ছ বিভ্রান্তিকর শ্লেষ ছাড়া কিছুই নয়, যা আসলে চরমপন্থী গোষ্ঠী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কুখ্যাত ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।

আল জাজিরার ওই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরও (আইএসপিআর)। ১৫ ফেব্রুয়ারি আইএসপিআরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পেশাগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ, সবার কাছে অতি গ্রহণযোগ্য সেনাবাহিনী প্রধানকে কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়া আল-জাজিরা অসৎ উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিকভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত করার অপপ্রয়াস।

আলজাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও বেশ আলোচনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের তরফ থেকে প্রতিবেদনটিকে ষড়যন্ত্রমূলক বলে দেখা হচ্ছে। দেশে আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধের দাবিও তুলেছেন অনেকে।

সূত্র:  ঢাকা পোষ্ট

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ