1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০২:২৮ অপরাহ্ন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করার আইন

  • প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৯৭ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট:  গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন রাজপথে সরব হয়ে উঠেছে। সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন আইনটির কয়েকটি ধারা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকেই এ আইনকে সংবিধানবিরোধী ও বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী উল্লেখ করে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তবে আইন বাতিলের বিপক্ষে আইন বিশেষজ্ঞরা। তারা কয়েকটি ধারা বাতিল করে এ সংক্রান্ত নতুন আইন প্রণয়ন করতে বলছেন। আবার অনেকে বর্তমান আইনটি সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছেন।

জানতে চাইলে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বলেন, আমি চাই আইনটি সংশোধন করা হোক। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করে বলেই আমি মনে করি। এ কারণে আইনটির অপপ্রয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মাঝে মধ্যে আইনটির অপপ্রয়োগের অভিযোগও উঠছে।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, এ আইনে জামিনের বিষয়টি একটু সহজ করা উচিত। তাহলে আইনের অপপ্রয়োগ করার সুযোগ থাকবে না।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এ আইনটি সম্পূর্ণ বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করার একটি আইন। বিশেষ করে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি ও তাদের মনে ভীতি সৃষ্টির জন্য এ আইন করা হয়েছে। সরকার এ আইন রাজনৈতিক হীন উদ্দেশে ব্যবহার করছে। আমি মনে করি অবিলম্বে আইনটি বাতিল করা উচিত।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, আইন তো মানুষের জন্য। যদি দেখা যায়, এ আইন সমাজের জন্য মঙ্গল বয়ে আনছে না, আইনটি থাকলে মানুষের অসুবিধা হবে। তাহলে সরকারের কাছে দাবি করতে পারে, আবেদন করতে পারে আইন সংশোধনের জন্য। সংশোধনের তো সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া আইনটি চ্যালেঞ্জও করতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ আইনের কয়েকটি ধারা সংবিধানে দেওয়া বাকস্বাধীনতা পরিপন্থী। আইনটির অপপ্রয়োগের যে অভিযোগ উঠছে, সেটা বন্ধ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বাতিল করতে হবে। এ আইনের মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে। যতদিন এটা না হবে ততদিন এ আইনের অপপ্রয়োগ চলতেই থাকবে। বাকস্বাধীনতা খর্ব হতেই থাকবে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি করাই হয়েছে মানুষের বাকস্বাধীনতা খর্ব করতে। ভাবমূর্তি রক্ষার নামে সরকারের সমালোচনা ঠেকানোর জন্যই এ আইন করা হয়েছে। রাজা-বাদশার দেশ ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এ রকম বাকস্বাধীনতা খর্ব করা আইন নেই। তিনি আরও বলেন, লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আইনটির সর্বশেষ অপপ্রয়োগের ফল দেখলাম।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারাকে বাকস্বাধীনতা পরিপন্থী বলা হচ্ছে। সেগুলো চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। যারা রিট আবেদন করেছেন, এখন তাদের উচিত হবে এটা শুনানি করা। কারণ সরকার নিজ উদ্যোগে আইন বাতিল করবে না বা করে না। আদালতের মাধ্যমে গেলে তা কার্যকর হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অব্যাহত অপপ্রয়োগের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গত বছর আইনটির চারটি ধারা (২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১ নম্বর ধারা) বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। এসব ধারা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী উল্লেখ করে বাতিল চাওয়া হয়। হাইকোর্ট ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুটি ধারা (২৫ ও ৩১ নম্বর) কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এ রুল এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন। রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির জানিয়েছেন, শিগগিরই রুল শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্টিকেল-১৯ এর তথ্যানুযায়ী, আইনটি পাস হওয়ার পর থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ১৯৮টি মামলায় ৪৫৭ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা ৭৫।

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদ বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে র‌্যাবের করা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দিন হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে মুশতাক আহমেদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর মরদেহ মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের আল মারকাজুল ইসলাম বাংলাদেশে রাখা হয়। ময়নাতদন্তে তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শাফী মোহাইমেন।

শুক্রবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে মুশতাক আহমেদকে দাফন করা হয়। তার আগে এশার নামাজের পর লালমাটিয়ার মিনার মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরাসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, কারাগারে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুকে ‘রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এ লেখকের মৃত্যুতে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগে আন্দোলন করেছে।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ