1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

ড. মিজানকে নিয়ে সময় টিভির ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রত্যাহারে ৫ আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশ

  • প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪৩৪ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট:  প্রতারণার মামলায় কারাবন্দি জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনার দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় নির্বাচন কমিশন ও সময় টেলিভিশন কতৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।   ২৪ ঘন্টার মধ্যে ড. মিজানুর রহমানকে জড়িয়ে সময় টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদন প্রত্যাহার ও সংবাদ সম্মেলন করে নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। অন্যাথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে  ড. মিজানুর রহমানের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের ৫  আইনজীবী এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।

ড. মিজানের পক্ষে নোটিশ প্রেরণকারী ৫ আইনজীবী হলেন,ব্যারিস্টার মো: সাজ্জাদ হোসেন,ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ,অ্যাডভোকেট বাকির উদ্দিন ভূইয়া,মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম  ও ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব।

নির্বাচন কমিশনের সচিব মো: আলমগীর,নির্বাচন কমিশনের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মো: শাহাবুদ্দিন,সময় টিভির বার্তা প্রধান তুষার আবদুল্লাহ,সময় টিভির প্রতিবেদক বেলায়েত হোসেনকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

 নোটিশে বলা হয়, গত ৩  সময় টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার নমুনা পরীক্ষায় প্রতারণা মামলায় কারাবন্দি জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনার জাতীয় পরিচয়পত্রের তদবিরে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। এ সংবাদটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এছাড়া সময় টিভির প্রতিবেদনে প্রচারিত হয়,‘সাবরিনার এনআইএইডি জালিয়াতিতে ড. মিজানুর রহমানের সম্পৃক্ততা পেলে আসামী করা হবে।’  সময় টিভির এই সম্প্রচারের পর অন্যান্য প্রিন্ট মিডিয়াসংবাদটি অনুসরণ করা শুরু করে এবং ৪ সেপ্টেম্বর  সারা দেশে এই খবর  ছড়িয়ে পড়ে । সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মারফতে এই মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদটি সারা বিশ্বে ছড়ায়ে গেছে। ইহাতে আমাদের মক্কেল যে কেবল মানসিকভাবে বিপর্যস্ত  হয়েছেন তাই নয়, বরং  তার সারা জীবনের তিল তিল  করে  শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে গড়িয়া তোলা সম্মানের অপরিমেয় এবং অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত  হয়েছে। উক্ত মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার কারণে আমাদের মক্কেলের সমাজের সর্বস্তরের শুভাকাঙ্খী ও অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি  হয়েছে।  যার ফলশ্রুতিতে সমাজ ও জাতির নিকট আমাদের মক্কেলের সারা জীবনের অর্জিত সম্মান মুহুর্তে ভুলূন্ঠিত হওয়ার উপক্রম  হয়েছে।

নোটিশে নির্বাচন কমিশনের সচিব মো: আলমগীর,নির্বাচন কমিশনের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মো: শাহাবুদ্দিনকে উদ্দেশ্যে করে বলা হয়,অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে  আপনারা নোটিশ গ্রহীতাগণ আমাদের মক্কেলের সুনামের হানী ঘটাবার হীন উদ্দেশ্যে এবং নিজেদের অপরাধমূলক কর্ম এবং দাপ্তরিক কার্য সম্পাদনের অবহেলা ও অযোগ্যতার কারণে সৃষ্ট অপরাধের দায়ভার আমাদের মক্কেলের উপরে  চাপিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য ও সংবদ্ধ চক্রান্তে লীপ্ত হয়ে   এই মিথ্যা, বানোয়াট এবং মানহানীকর বক্তব্য প্রদান করে  ড. মিজানুর রহমানের চরম সম্মানহানী  করে চলছেন।

নোটিশে সময় টিভি কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্যে করে বলা হয়,   নিজেদের খবরের কাটতি বাড়ানোর অপকৌশল হিসাবে চটকদার শিরোনাম ব্যবহার  করে   আমাদের মক্কেলকে জড়ায়ে আপনার সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ইউটিউবসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে মিথ্যা, বানায়োট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করিয়া আমাদের মক্কেলের চরম মানহানী  করেছেন। যা দন্ডবিধির ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী মানহানীকর এবং ৫০০ ধারা অনুযায়ী একটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারী অপরাধ। যা প্রমাণিত হলে আপনারা নোটিশ গ্রহিতাগণ ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ডে বা অর্থ দন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত  হতে পারেন। অধিকন্তু, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ২৯ ধারা অনুযায়ী আপনাদের (নোটিশ গ্রহীতাগণ) কর্তৃক উপরে বর্ণিত আকারে ও প্রকারে আমাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে মানহানীকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার  করে অপরাধ  করেছেন। যা  প্রমাণিত  হলে আপনারা প্রত্যেকেই অনধিক ৩ বৎসর কারাদন্ডে বা অনধিক ৫ লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে বা উভয়দন্ডে দন্ডিত  হবেন।  এছাড়াও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আমাদের মক্কেলের ক্ষতি ও মান সম্মানহানী করার কারণে আপনাদের বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের মোকদ্দমা দায়ের  করার আইনী বিধান রয়েছে।

তাই লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার মাধ্যে   ইলেক্ট্রনিক ও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রত্যাহার  করে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের মক্কেলের নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।   অন্যথায়   দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা  হবে।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ