1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পাননি খুবির সেই তিন শিক্ষক

  • প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১
  • ৮৬ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চাকরিচ্যুতি’র আদেশ পাওয়া সেই তিন শিক্ষককে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দেওয়া হয়নি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ওই তিন শিক্ষকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত তাঁদের চাকরিজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

বেতন না দেওয়ার কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, চাকরিচ্যুতির পর আদালত স্থিতাদেশ জারি করেছেন। এর অর্থ হলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের যে চাকরিচ্যুত করেছে, সেটি বলবৎ রয়েছে। এ কারণে তাঁদের বেতন দেওয়া হয়নি।

পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল ফজলকে বরখাস্ত, একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক শাকিলা আলম এবং ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের প্রভাষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরীকে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ২৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ২১২তম সভায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন ওই তিন শিক্ষক। ৯ ফেব্রুয়ারি রিটের শুনানি শেষে আদালত ওই তিন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কেন তাঁদের চাকরিচ্যুতির আদেশ অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন।

বাংলা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল ফজল প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের নির্দেশনার পর তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন শিটে তাঁদের স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁরা আদালতের নির্দেশনার কথা জানিয়ে রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু মাস শেষে দেখতে পেয়েছেন, তাঁদের ব্যাংক হিসাবে বেতন যায়নি। রেজিস্ট্রার মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের বেতন দেওয়া হবে না।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতনসংক্রান্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হয় অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালকের দপ্তর থেকে। জানতে চাইলে ওই দপ্তরের পরিচালক শেখ মোস্তাক আলী প্রথম আলোকে বলেন, ওই তিন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা ও তাঁদের সব ধরনের আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ওই তিন শিক্ষককে বেতন দেওয়া হয়নি। তবে অন্য সবাই মাসের শেষ দিনে বেতন পেয়েছেন।

এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার খান গোলাম কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, ওই তিন শিক্ষক আদালত থেকে স্থিতাদেশ নিয়ে এসেছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের প্যানেল আইনজীবীরা বলছেন যে ওই স্থিতাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁদের যে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, সেটির স্থিতাদেশ। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি বলবৎ আছে। তবে ওই শূন্য পদে আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো শিক্ষক নেওয়া যাবে না।

তিন শিক্ষকের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশনার ভুল ব্যাখ্যা করছেন। আদালত শুনানির সময় স্পষ্ট করেই বলেছেন, যেহেতু ওই তিন শিক্ষক তখনো দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি, তাই তাঁদের নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার কিছু নেই। তাঁরা আগের মতোই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন। তাঁদের বেতন না দেওয়া হলে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হবে।

সূত্র: প্রথম আলো অনলাইন

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ