1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন

মধ্যরাতে পৈত্রিক বাড়িতে তুলে দেয়ার পর এবার সেই শিশুদের বক্তব্য শুনবেন হাইকোর্ট

  • প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ১১৭ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট: সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কেএস নবীর দুই নাতি বাবা হারানো কাজী আদিয়ান নবী ও কাজী নাহিয়ান নবীকে মধ্যরাতে কোর্ট বসিয়ে পৈত্রিক বাড়িতে তুলে  দেওয়ার পর এবার তাদের নিরাপত্তায় দুইজন পুলিশ  সদস্য  রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই দুই শিশুকে ১১ অক্টোবর আদালতে আসতে বলা হয়েছে। ১১ অক্টোবর হাইকোর্ট শিশুদের ও তার চাচার বক্তব্য শুনে পরবর্তী আদেশ দিবেন।

রোববার   বিচারপতি আবু তাহের মো: সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো: জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ায়েস আল হারুনী।

এর আগে শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কেএস নবীর দুই নাতি বাবা হারানো কাজী আদিয়ান নবী ও কাজী নাহিয়ান নবীকে পৈত্রিক বাড়ীতে  তুলে দিয়ে  তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ  দেন  হাইকোর্ট।   মধ্যরাতে একটি বেসরকারি টিভিতে এ সংক্রান্ত টকশো নজরে নিয়ে স্ব-প্রণোদিত হয়ে বিচারপতি আবু তাহের মো: সাইফুর রহমান এ আদেশ দেন।

হাইকোর্টের এই আদেশের পর রাতেই ধানমন্ডি থানার ওসি দুই শিশুকে পৈত্রিক বাড়িতে তুলে দিয়ে আসেন।

মধ্যরাতে টকশোতে থাকা আইনজীবীঅ্যাডভোকেট মসজিল মোরসেদ বলেন, একটি বেসরকারি টেলিভিশন  টিভিতে আলোচনা হচ্ছিলো দুটি শিশু নিয়ে।ওই দুটি বাচ্চা সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল প্রয়াত ব্যারিস্টার কে এস নবীর নাতি।  যাদেরকে তাদের চাচা বাসায় ঢুকতে দিচ্ছে না। কিছুদিন আগে  এই দুই শিশু বাবা হারিয়েছেন। এই টশোতে আমি যুক্ত ছিলাম। টকশোটি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আবু তাহের মোহম্মদ সাইফুর রহমানের নজরে আসায় তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে তাৎক্ষণিক আদেশ দেন। আদেশে ওই দুই শিশুকে তাদের বাসায় নিরাপদে রেখে আসতে ধানমণ্ডি থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, রাজধানী ধানমন্ডির একটি চারতলা বাড়ীর মালিক সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কেএস নবী। উত্তারাধীকার সূত্রে ওই বাড়িতে ঢুকতে চাইলেও গত কয়েকদিন ধরে ঢুকতে পারছে না কেএস নবীর ছোট ছেলে সিরাতুন নবীর দুই পুত্র।

গত ১০ আগস্ট সিরাতুন নবীর মৃত্যুর পর তার দুই ছেলেকে গত কয়েকদিন আগে বাসা থেকে বের করে দেন ওই শিশুদের আপন চাচা কাজী রেহান নবী। আগেই শিশু দুটির বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটনা ঘটে। এরপর বাবার মৃত্যুর পর শিশু দুটি কিছুদিনের জন্য তার মায়ের আশ্রয়ে থেকে যায়। এরপর মায়ের কাছ থেকে নিজ পিত্রালয়ে ফেরার চেষ্টা করে ওই দুই শিশু। কিন্তু তাদেরকে আর বাড়ীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়না। এরপর কয়েকবারের চেষ্টা করেও শিশু দুটি ওই বাসায় প্রবেশ করতে পারেনি। তবে বিষয়টি ধানমন্ডি থানাকে জানানো হলেও পুলিশের কথা আমলে নেননি শিশুদের চাচা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী রেহান নবী।

 

শিশু দুটির ফুফু (কেএস নবীর বোনের মেয়ে) মেহরীন আহমেদ জানিয়েছেন, বিবাহবিচ্ছেদের জন্য ওদের বাবা-মা আলাদা থাকতেন। ওরা ওদের বাবার সঙ্গেই দাদার বাড়ীতে থাকতো। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর শিশু দুটি খুব বেশি বিষন্ন হয়ে পড়ে এবং ওদের মায়ের কাছে কিছুদিন থেকে আবার গতকাল বাড়ীতে ফেরে। কিন্তু তারা বাসার গেইট খোলেনি। আমরা পরিবার থেকে যোগাযোগ করি। শিশুদের বড় চাচা কাজী রেহান নবীকে ফোন করি। কিন্তু তিনি শরীর অসুস্থ্যতার অযুহাতে পরে বাড়ীতে আসতে বলেন। এরপর আমরা ধানমন্ডি থানায় বিষয়টি অবহিত করি।  তিনি আরও জানান, বাড়ীটি এখনো কেএস নবীর নামে। সেদিক থেকে দেখলে এই শিশু দুটিও ওই বাড়ীর উত্তরাধিকারী। আর শিশুদের বাবার মৃত্যুর পর তার ব্যাংক-ব্যালেন্স দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারই বড় ভাই রেহান নবী।

 

ঘটনাটি নিয়ে শনিবার দিবাগত রাত ১২টায় একাত্তর টিভির একাত্তর জার্নালে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এসময় একাত্তর জার্নালে শিশু দুটির সঙ্গে তাদের ফুফু, সাংবাদিক রেজওয়ানুল হক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ   আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।  অনুষ্ঠানটি প্রচার চলাকালীন সময়েই বিষয়টি নজরে আসে বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের। এরপর    স্ব প্রণোদিত হয়ে মাঝরাতে হাইকোর্টের বেঞ্চ বসিয়ে আদেশ দেন বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের  বেঞ্চ।

জানা গেছে, এর আগে রাতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বসে কয়েকটি আদেশ দেওয়ার ঘটনা আছে। কিন্তু মধ্যরাতে হাইকোর্ট বসে আদেশ দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে বিরল।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ