1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পাঠ্যবইয়ে ভুল : এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টে তলব মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা: রিপনের হাইকোর্টে আগাম জামিন সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে পূর্বানুমতি কেন অবৈধ নয় সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান দম্পতির বিচার শুরু বৃদ্ধা আছিয়াকে হাজির করতে এবার পুলিশকে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট সিজিএম মোঃ শওকত আলীর সুস্থতা কামনায় ভার্চুয়াল দোয়া মাহফিল ই-কমার্স গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষায় ৩৩ ভুক্তভোগীর রিট আসামির শরীরে ক্ষতচিহ্ন; স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন আদালত মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিবাদীকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালন করলো সিএমসি

যুগান্তকারী রায়: বৈধ বিনিময় প্রমাণে ব্যর্থ হলে চেকের মামলায় সাজা নয়

  • প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩০৭ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট: চেক ডিজঅনার মামলায় বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি দূর করতে যুগান্তকারী রায় প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, চেকের বৈধ বিনিময় প্রমাণে ব্যর্থ হলে চেকের মামলায় কোন ব্যক্তিকে সাজা নয়। অথ্যাৎ চেক ডিজঅনার  মামলায় কনসিডারেশন বা চেক প্রাপ্তির বৈধ কারণ প্রমাণ করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ প্রায়  ২০ পৃষ্টার এ রায় প্রকাশ করেছেন।

বুধবার এ মামলার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ বলেন,আগে চেক ডিজঅনার হলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চেকদাতার সাজা হতো। চেকমূলে চেকগ্রহীতার টাকা পাওয়ার কোনো কারণ আছে কি না, সেটি দেখার বাধ্যবাধকতা দিক নির্দেশনা  ছিল না। এখন থেকে চেকগ্রহীতাকে প্রমাণ করতে হবে যে, চেকদাতা ও চেকগ্রহীতার মধ্যে লেনদেন সম্পর্কিত কোনো বৈধ চুক্তি ছিল। চেক প্রাপ্তির বৈধ কোনো কারণ প্রমাণ করতে না পারলে এখন আর চেকদাতার সাজা হবে না।

ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন,

আপিল বিভাগের রায়ের ফলে চেক দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে  চেকের বৈধ বিনিময় সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণ করতে হবে। চেকের বৈধ বিনিময় প্রমাণে ব্যর্থ হলে চেকের মামলায় কোন ব্যক্তিকে সাজা নয়।

তিনি বলেন, এ আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে  চেকদাতারা তাদের নির্দোষ প্রমাণের একটা সুযোগ পেলো। এছাড়া এ রায়ের ফলে চেক সংক্রান্ত মামলায় বিচার  প্রার্থীদের ভোগান্তি ও হয়রানি কমবে।

এর আগে গত  ১৮ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত এক আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়।

 প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার প্রয়াত হুমায়ূন রশিদ চৌধুরীর ছোট ভাই, সাবেক কূটনীতিক কায়সার রশিদ চৌধুরীর স্ত্রী (মৃত) সামছি খানমের মালিকানাধীন নর্থ গুলশানস্থ ৩০ কাঠা জমি বিগত ১৯৭৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সম্পাদিত ইজারা চুক্তি মূলে আমেরিকান দূতাবাসকে ১১০ বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয়। যেহেতু ওই ইজারা চুক্তিটি নিবন্ধন (রেজিস্ট্রি) করা হয়নি এবং বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের প্রেক্ষিতে মৃত সামছি খানমের উত্তরাধিকারগণ (ইমরান রশিদ চৌধুরী, পারভেজ রশিদ চৌধুরী ও জিনাত রশিদ চৌধুরী) জমিটি বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

 বিষয়টি জানতে পেরে আবুল কাহের শাহিন নামের এক ব্যক্তি ইমরান রশিদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করেন এবং জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য তথা ১৫০ কোটি টাকায় কিনতে আগ্রহী ক্রেতা রয়েছে এবং তিনি তা বিক্রি করে দিতে পারবেন। ইমরান রশিদ চৌধুরী ওই আশ্বাসের ভিত্তিতে সরল বিশ্বাসে ২০১২ সালের ১৩ মার্চ শাহিনের সাথে একটি সমঝোতা চুক্তি করেন। এই চুক্তির শর্তানুযায়ী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বর্তমান বাজারমূল্যে জমিটি বিক্রি করন দেবেন এবং তার জন্য শাহিন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ১৩% টাকা পাবেন। তখন ইমরান রশিদ চৌধুরী পোস্ট ডেইটেড ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার চারটি চেক আবুল কাহের শাহিনের নামে ইস্যু করেন। কিন্তু ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও শাহিন বর্তমান বাজার মূল্যে কোনো ক্রেতা যোগাড় করতে ব্যর্থ হন। ফলে চুক্তিটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৬ আগস্ট জমিটির ইজারা গ্রহীতা আমেরিকান দূতাবাসের সাথে জমিটির মালিকগণ একটি বায়না চুক্তি সম্পাদন করেন এবং শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালের ৩ জুলাই বিক্রয় পূর্বক দলিল সম্পাদন করেন। এরপর শাহিনকে চেকগুলো ফেরত দিতে বলেন।

 এদিকে আবুল কাহের শাহিন ওই পোস্ট ডেইটেড চেক চারটি ফেরত না দিয়ে নিজে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার ফন্দি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি চেক চারটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে উপস্থাপন করেন। ইতোমধ্যে ইমরান রশিদ চৌধুরী শাহিনকে দেয়া চেকগুলো সম্পর্কে ব্যাংকে ‘স্টপ পেমেন্ট ইন্সস্ট্রাকশন’ দিয়ে রাখলে সেগুলো যথারীতি ডিজঅনার হয়। তারপর শাহীন সিলেটের আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা করে তার পক্ষে রায় পান।

ইমরান রশিদ চৌধুরী উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন। এ প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ শুনানি শেষে আপিল মঞ্জুর করে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট রায় প্রধানের মাধ্যমে ইমরান রশিদ চৌধুরীকে মামলার অভিযোগ থেকে খালাস দেন। এতে আবুল কাহের শাহিন উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে আপিল দায়ের করেন। এ প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ১নং আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৮ফেব্রুয়ারি উক্ত আপিল (আপিল নং ৬৩/৬৪/৬৫/৬৬/২০১৭) খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ