1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৯:১৪ অপরাহ্ন

রায় প্রকাশ: মোবাইল কোর্ট শিশুদের সাজা দিতে পারে না

  • প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০
  • ৬৭৮ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট: ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুদের সাজা দেওয়া অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা  করে রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে  ১২১ শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজাও বাতিল করা হয়েছে। রায়ে  বলা হয়েছে, শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগের বিচার শুধু শিশু আদালতেই হতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত দূরের কথা, অধস্তন আদালতের কোনো বিচারক শিশুদের বিচার করলেও তা হবে বেআইনি।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো:মাহমুদ হোসেন তালুকদার স্বাক্ষরের পর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে এ রায় প্রকাশ করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান নিশ্চিত করেছেন।

রায়ে  বলা হয়েছে, শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগের বিচার শুধু শিশু আদালতেই হতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত দূরের কথা, অধস্তন আদালতের কোনো বিচারক শিশুদের বিচার করলেও তা হবে বেআইনি।

কোনো অপরাধ সংঘটনে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু একত্রে জড়িত থাকলেও শিশুর বিচার শুধু শিশু আদালতই করবে। অন্য কোনো আদালত দণ্ড দিলে তা অবৈধ হবে। শিশুদের মোবাইল কোর্ট কোনো দন্ড দিতে পারবে না। কারণ মোবাইল কোর্ট কোনো শিশুকে দন্ড দিলে সেই দন্ড সংবিধানের ৩০ এবং ৩৫ অনুচ্ছেদে মৌলিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে। ১২১ শিশুকে দন্ডদানের ক্ষেত্রেও মৌলিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।

এর আগে গত ১১ মার্চ এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে   বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ  এ রায় দেন।

 আদালত রায়ে বলেন,  ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে একইসময়ে ওই ১২১ শিশুকে যে প্রক্রিয়ায় সাজা দেওয়া হয়েছে তা মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং অমানবিক। একইসঙ্গে এই ধরণের সাজাপ্রদান আমাদের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বহির্বিশ্বে দেশের সুনামকে ব্যাহত করেছে।  তাই এখনই তা বন্ধ করতে হবে।

 ১২১ শিশুর সাজা বাতিল করে আদালত বলেন, ১২১ শিশুর সাজা বাতিলের ফলে তারা যে  পুরোপুরি নিষ্পাপ এটা প্রতিষ্ঠিত করা হল। ভবিষ্যতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজার ছায়াও যেন তাদের জীবনে না পরে।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর  ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া দণ্ডে যশোর ও টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অন্তরীণ ১২১ শিশুকে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিশুদের দেওয়া দণ্ড ও আটকাদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।আদালতের আদেশে পরে এসব শিশুদের মুক্তি দেওয়া হয়। “আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দণ্ড’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে  প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি নজরে  নিয়ে আদালত শিশুদের মুক্তির নির্দেশ ও রুল জারি করেন।  

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ