1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন

সম্পত্তি অবমুক্তির রায় জালিয়াতি: মাধব চন্দ্রকে কোটি টাকা জরিমানা

  • প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩২৯ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্টঃ কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি অবমুক্তির রায় জালিয়াত চক্রের প্রধান মাধব চন্দ্র সাহাকে এক কোটি টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই না করে সম্পত্তি অবমুক্তির রায় জালিয়াত চক্রের অনুকূলে দেওয়ায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ এবং আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল করেছেন আদালত।

আদালত বলেছেন, ‘স্বতঃসিদ্ধ যেকোনো মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কারণগুলো যথেষ্ট যুক্তিসম্পন্ন হতে হবে। যুক্তিহীন রায় বিচার বিভাগকে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কারণগুলো যুক্তিসম্মত না হলে সে সিদ্ধান্ত বা রায় জনমনে আস্থাহীনতার সৃষ্টি করে। আর বিচারকের প্রজ্ঞা ও সততা ছাড়া মানসম্মত বিচার ব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না।’

গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন। শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ঢাকা জেলার সাভারের গান্ধারীয়া মৌজার ২ নং খতিয়ানের এস. এ ৩০ নং দাগের ১৫ দশমিক ২ একর, ৭২ নং দাগের শূন্য দশমিক ১৬ একর, ৭৮ নং দাগের শূন্য দশমিক ৫৬ একরসহ মোট ১৫ দশমিক ৭৪ একর ভূমির মালিক বীরেশ চন্দ্র সাহা পোদ্দার। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তিনি ভারতে চলে যান। ফলে নালিশি সম্পত্তি সেনসাস লিস্ট অনুযায়ী শত্রু সম্পত্তি হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়। পরে নালিশি সম্পত্তিকে অর্পিত সম্পত্তি তথা ভেস্টেড প্রপার্টি (ভি.পি) তালিকাভুক্ত হয়। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ২০১২ সালে মাধব চন্দ্র সাহা পোদ্দার ও রোহী চন্দ্র সাহা সংশ্লিষ্ট মৌজার এক হাজার ৫৫৬ শতাংশ সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে এবং প্রকাশিত গেজেটে ‘ক’ তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তির তালিকা হতে অবমুক্তির জন্য ঢাকার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা (মামলা নং: ৪৭৯/২০১২) দায়ের করেন। ২০১৬ সালে ২৫ অক্টোবর সভারের সিনিয়র সহকারী জজ আদালত এক রায়ে বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেন। নালিশি সম্পত্তি অবমুক্তির আদেশ দেন।

হাইকোর্ট বলেছেন, আবেদনকারীরা (মাধব ও রোহী) বীরেশ চন্দ্র সাহা পোদ্দারের সন্তান হলে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের পারিবারিক ছবি আদালতে দাখিল করতেন। বাবা-মায়ের নামের ভোটার তালিকা উপস্থাপন করতেন। বাবা-মা কবে মারা গেছেন, কোথায় দাহ করা হয়েছে বলতে পারতেন। তাদের অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের নাম, ঠিকানা বলতে পারতেন। নথি পর্যালোচনায় এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, আবেদনকারীরা বীরেশ চন্দ্র সাহা পোদ্দারের সন্তান হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

আদালত বলেছেন, জনগণের সম্পত্তি দেখভালের সর্বশেষ স্তরে জনগণ বিচারকদের ওপর আস্থা রেখেছেন। বিচারকদের বিশাল গুরুদায়িত্ব হলো জনগণের সম্পত্তি যেন জোচ্চর, ঠক, বাটপার এবং জালিয়াত চক্র গ্রাস করতে না পারে। সেজন্য রায়ের এই অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণের জন্য পাঠাতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হলো। যাতে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত উদ্যোগে নালিশি অর্পিত সম্পত্তিসহ লাখ লাখ কোটি টাকার রাষ্ট্র তথা জনগণের সম্পত্তি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের মতো লুটেরা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করতে যথাযথ উদ্যোগ নিতে পারেন।

রায়ে বলা হয়, মামলার বাদীরা যে বীরেশ চন্দ্র সাহার ওয়ারিশ নয়, সেই মর্মে কোনো প্রমাণ আদালতে দাখিলে বিবাদীরা ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া বাদীদের দাখিল করা নথি (জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের দেওয়া নাগরিক সনদপত্র) যে জাল তাও প্রমাণ করতে পারেনি। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে বীরেশ চন্দ্র সাহার সম্পত্তি অবৈধভাবে ভিপি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বাদীরা তার বৈধ ওয়ারিশ।

এই রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল (আপিল নং: ২০/২০১৭) করেন ঢাকার জেলা প্রশাসক। অর্পিত সম্পত্তি আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং ঢাকার জেলা জজ ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর আপিল খারিজ করে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের রায় বহাল রাখেন। পরে এই রায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সাভার থানা অসহায় পরিবার পুনর্বাসন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। রিটে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় ও ডিক্রি অবৈধ ঘোষণার আবেদন জানানো হয়। ঐ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত বছর হাইকোর্ট দুটি ট্রাইব্যুনালে রায় বাতিল করে দেন।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মৌজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক দাবি করা মাধব ও রোহী পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স দেননি। বিদ্যুৎ বিলের কোনো কাগজ নেই। কোনো সরকারি খাজনা দেওয়ার রশিদ নেই। সম্পত্তির মালিককে স্থানীয় সাভার থানার কেউ চেনেন না। স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি থেকে কোনো সনদ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। একইসঙ্গে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত রেখে দীর্ঘ ৪০/৫০ বছর কেন নীরব ছিলেন সেই বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই। নিজেদের সম্পত্তিতে না থেকে মিরপুরে কালশিতে ভাড়া বাসায় থাকেন সেই বাসার হোল্ডিং নম্বরও দেননি। অর্থাৎ ট্রাইব্যুনালে মামলাকারী যে প্রকৃতপক্ষে ভুয়া এবং জালিয়াতকারী তা দিনের আলোর মতো প্রমাণিত সত্য। এমনকি মাধব চন্দ্র মূল মামলার হলফনামায় যেসব তথ্য দিয়েছেন তা আদালতের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

রায়ে পুনরায় জাল দলিল তৈরি করে এই নালিশি সম্পত্তি গ্রাস করার প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে মূল মালিক ‘ক্ষেত্র মোহন’ এর নামে সাভার অঞ্চলের শিশু কিশোরদের জন্য একটি শিশু পার্ক নির্মাণ করতে ঢাকার ডিসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সূত্রঃ ঢাকা পোষ্ট

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ