1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন

সিকদার গ্রুপের দুই ভাইয়ের জামিন শুনানিতে ‘বিব্রত’ হাইকোর্ট যা বললেন

  • প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০
  • ৬১৫ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট: আইনত সুযোগ না থাকলেও প্রভাবখাটিয়ে বিধিবহির্ভুতভাবে বিদেশ বসে আগাম জামিনের আবেদন করায় বিব্রত হয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে এমন বেআইনী আবেদন করার মাধ্যমে আদালতের সময় নষ্ট করায় জামিন আবেদনকারীদের ১০ হাজার পিপিই জরিমানাও করেছেন আদালত। 


সোমবার (২০ জুলাই) বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ সহ আদেশ দেন।


ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লন্ডন থেকে আসামীদের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেস্ঠ আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। 

আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি শুনানির শুরুতে বলেন, আসামীরা বিদেশে অবস্থান করছেন। তারা সেখানে বসেই আগাম জামিন চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। তবে আসামীরা কোথায় কিভাবে আত্মসমর্পন করবে সে বিষয়ে আপনারা শর্ত দিয়ে দিতে পারেন। ভার্চুয়াল কোর্ট আইনে ৪ নম্বর ধারায় বিচার পদ্ধতিগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা জামিন চাইছেন। 


অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে শুরুর দিকে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আত্মসমর্পনের সুযোগ ছিলোনা। কিন্তু এখন আছে। কাজেই তারা নীচের কোর্টে গিয়ে উপস্থিত (আত্মসমর্পন করে) হয়ে জামিন চাইতে পারে।    


অ্যাটর্নি আরও বলেন, কোর্টের মহাত্ব ও ভাবমূর্তি যেন কোনভাবেই ক্ষুন্ন না হয় আমাকে সবসময় সেভাবেই শুনানি করতে হয়। আজকে এতগুলো আইনজীবীরা আগাম জামিনের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিন্তু তারা পারলেন না। কিন্তু একজন অত্যাধিক বিত্তশালী, ক্ষমতাশালী তিনি যদি এই কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে যান তাহলে সমাজে কি সিগন্যাল যাবে? এজন্যই কিন্তু কোর্টের সাথে আজ সাংবাদিকরা যুক্ত হয়েছেন। 


জবাবে আদালত বলেন, আমি এজন্যই ইচ্ছাকৃতভাবে মামলাটি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত করেছি। এ মামলার মধ্য দিয়ে আইনজীবীরা দেখুক, একজন অর্থশালী বাক্তি কত শক্তিশালী হতে পারে। তারা (আসামীরা) বাংলাদেশের সেরা সেরা আইনজীবীদের নিজেদের পক্ষে দাঁড় করাতে পারে। সাংবাদিকরাও দেখুক। আজ সংবাদপত্রে কি লেখা হচ্ছে? সাধারণ মানুষ কি সিগন্যাল পাচ্ছে? সাধারণ মানুষ পত্রিকা পড়ে জানবে আগাম জামিন দেশে বসেই হয়না কিন্তু বিদেশ থেকে বসে তাদের আবেদন আদালত শুনতে পারে! সাধারণ মানুষদের এমন প্রশ্নের জবাবতো আমাদেরই দিতে হবে। কারণ, আমাদের প্রতিটি আইনজীবী সহ সবার দায়িত্ব আদালতের সম্মান, ভাবমূর্তি রক্ষা করা। এটা শুধু আদালতের একার দায়িত্ব না। আইনজীবী, বিচারক, অ্যাটর্নি জেনারেল মিলেই আদালত। তাই সবাই মিলেই যদি জনগণকে দেখাতে পারি যে, এখান থেকে এমন কোন কিছু হচ্ছেনা যার দ্বারা বিত্তশালীরা বিশেষ সুবিধা পায়, আর সাধারণ মানুষরা বিশেষ সুবিধা পায়না। এজন্যই মামলাটা আজ শুনানির জন্য রেখেছি। 


আদালত আরও বলেন, সত্যি বলতে জনমতটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা আজ কোথায় এসে ঠেকেছি যে, এই একটি মামলার শুনানি হচ্ছে আর সবাই তাকিয়ে আছে। কেন তাকিয়ে আছে? সবার তো ভাবনা, আশঙ্কা যে, অমুকে অমুকে যখন দাঁড়িয়েছে (আইনজীবী), অমুক অমুক যখন হয়েছে তাহলে তমুক তমুকই হইবে (আদালতের আদেশ)। আমাদেরকে ভাবতে হবে, আমরা কেন সেই ধরণের মামলা যেটা জনমত ও আইন, নীতি-নৈতিকতাকে আদালতে নিয়ে আসবে। আমরা সবাই আদালত থেকে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের ব্যবস্থা করি। এটা আমাদের সবার আদালত। এই আদালতকে কিভাবে আমরা পূতপবিত্র রেখে মানুষের সেবা দেয়া যায়। বিতর্কিত করা আমাদের কাজ না, আমরা যখন একটা মামলা নিয়ে আসবো। 


আদালত বলেন, আমরা যদি বাংলাদেশের কোন প্রফেসর বা জ্ঞানতাপসের জন্য এই সবাই (আইনজীবীরা) যদি এসে দাঁড়াতো কোন মিডিয়া, ব্যাক্তি বা আইনজীবী টু শব্দ করতোনা। বরং বলতো, ভালোই হয়েছে, তারা ভালো কাজই করেছেন। কিন্তু যখন মিডিয়া, সাধারণ আইনজীবীরা দেখে, যারা একটু বিতর্কিত মানুষ হয়ে যায়, যেভাবেই হোক, তখন সেটা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন হয় ওনাদের (বিতর্কিত মানুষ) কেন আমাদের সেরা সেরা আইনজীবীরা নিয়ে আসবেন। তখন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। এটার উদ্দেশ্য হলো এই- আমরা কোন মামলা আনবো আর কোন মামলা আনবোনা। কারণ এটা আমাদের আদালত। আমাদের আদালতও অনেকের চাপে পড়ে অনেক কিছু করে ফেলে। তাতে যা হচ্ছে, এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। কেন আজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এ কথা আসবে? কারণ কিছুনা কিছুতো আমরা করি তো। আমরা এমন কিছুর সাথে জড়িয়ে ফেলেছি। 


এরপর আদালত তার আদেশে বলেন, আবেদনকারীদের আবেদন পর্যালোচনা এবং আইনজীবীদের মতামতের ওপর শুনানি নিয়ে এটি কাঁচের মত স্পষ্ট যে, এই মামলাটি আইনের বিধিবিধান ও এখতিয়ার বহির্ভুতভাবে এই আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আবেদনকারীদ্বয় ও বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীগণ বিধিবহির্ভুতভাবে এই আবেদন  আদালতে দাখিল করেছেন। এর দ্বারা আবেদনকারীদের সক্ষমতা অনুমেয়। আইন-আদালতকে সংবিধান ও আইনের বিপরীতে চালানোর প্রচেষ্টা সুস্পষ্ট। কিন্তু জ্যেষ্ঠ আইনজীবীগণ এই আবেদন করে এর পক্ষে শুনানি করা যেমনই আইন পরিপন্থি তেমনি নৈতিকতা পরিপন্থি। বাংলাদেশের সকল আইনের ছাত্র, শিক্ষক, অ্যাডভোকেট, বিচারক এবং সর্বোপরী বাংলাদেশের সাধারণ মানুষদের আমি আহবান জানাবো আপনারা- এই মামলা দাখিল এবং এর পক্ষে দাঁড়ানো অ্যাডভোকেটগণের আইন ও নৈতিকতা যুক্তি চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন। আইন ও নৈতিকতা হলো- এমনতর বেআইনি ও নৈতিকতাহীন মামলা গ্রহণ না করাই ছিলো এই আইনজীবীগণের দায়িত্ব। সেই আলোকে এই আবেদনকারীদের বেআইনী এই আবেদন জারিমানা সহ নিষ্পত্তি করা হলো। 


জরিমানার আদেশে আদালত বলেন, আবেদনকারীরা বেআইনী আবেদন করা ও আবেদনের পক্ষে আইনজীবীদের জোর করে শুনানিতে হাজির করার জন্য তাদেরকে (আবেদনকারীদের) ১০ হাজার পিপিই জরিমানা করা হলো। প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে এগুলো প্রদাণের নির্দেশ দেওয়া হলো। কারণ তারা আদালতের সময় নষ্ট করেছে, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের বাধ্য করেছে শুনানিতে নিয়ে আসতে। তাই এসব সাজা প্রদান করা হলো। আর এ পিপিই দাখিল আদেশ পালন করে বিষয়টি আবেদন আকারে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে জানাতে হবে। কিন্তু তারা পিপিই না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হবে।    

প্রসঙ্গত, এর আগে বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় গত ১৯ মে মামলা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, গত ৭ মে রন ও দিপু এক্সিম ব্যাংকের এমডি মুহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ও অতিরিক্ত এমডি মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে একটি অ্যাপার্টমেন্টে বন্দি করে রাখে। তাদেরকে গুলি করে হত্যা করার চেষ্টাও করা হয়।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই রন হক ও দিপু হক পলাতক রয়েছেন। পরে নিজেদের চার্টার্ড বিমানে করে তারা থাইল্যান্ডে পাড়ি জমান। সেখান থেকেই তারা আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানায়।

 সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ