1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৪:০১ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতির ঘটনায় হাইকোর্টের অসন্তোষ

  • প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১
  • ১৩৮ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্টঃ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতির ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়ার মামলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরখাস্তকৃত কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের জামিন শুনানিতে মঙ্গলবার (৮ জুন) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

আদালতে ফাতেমা খাতুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোমতাজউদ্দিন আহমেদ মেহেদী।

শুনানিকালে আইনজীবীকে উদ্দেশ করে হাইকোর্ট বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অফিসকে কেন বিতর্কিত করেন? রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসকে কেন প্রশ্নের সম্মুখীন করেন? আপনার (আইনজীবী) কাছে এ ধরনের অপরাধ ছোট মনে হতে পারে; কিন্তু এটাকে নমনীয় দৃষ্টিকোন থেকে দেখার সুযোগ নাই।’

এসময় আইনজীবী আদালতকে বলেন, ‘এক বছরের বেশি সময় ধরে আসামি জেলে আছেন। তিনি অসুস্থ।’ এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, ‘জেলখানায় গেলেই কি সবাই অসুস্থ হয়ে যায়? আমাদের কিছুই করার নাই।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘তিনি এজাহারের তিন নম্বর আসামি। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রয়েছে। গত বছরের ১০ মে থেকে কারাগারে। জামিন মঞ্জুরের আবেদন করছি।’

এরপর হাইকোর্ট বলেন, ‘জামিন দেওয়া হবে না। শুধু রুল নিতে পারেন।’ পরে হাইকোর্ট আসামির জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নথি বের করে জালিয়াতির মাধ্যমে তার (প্রধানমন্ত্রীর) সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদী হয়ে গত ৫ মে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা তরিকুল ইসলাম মমিন, কর্মচারী ফাতেমা খাতুনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্রে অপর আসামিরা হলেন নাজিম উদ্দীন, রুবেল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফরহাদ হোসেন ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

এই নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে এলে তিনি ‘এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন পাননি’−গোপনীয় এ তথ্য ফোনে ছাত্রলীগ নেতা তরিকুলকে জানিয়ে দেন।

এরপরেই তরিকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১ মার্চ নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ৪ নম্বর গেটের সামনে আসামি ফরহাদের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। এ কাজের জন্য ফাতেমাকে আসামিরা ১০ হাজার করে বিকাশে মোট ২০ হাজার টাকা দেয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এরপরেই সেই নথিতে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া টিক চিহ্নটি ‘টেম্পারিং করে সেখানে ক্রস চিহ্ন দেয়। একইভাবে অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফের নামের পাশেও ক্রস চিহ্ন দিয়ে এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেয়।

পরে আসামিরা গত ৩ মার্চ তারিখে নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠায়। এসব ঘটনা নিয়ে ভাটারা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আসামি নাজিমের সঙ্গে তরিকুল ও ফরহাদ শলাপরামর্শ করে। তবে তাদের জালিয়াতিটি ধরা পড়ে যায়।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ