1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৮:২৭ অপরাহ্ন

ফাঁসির আসামিকে কনডেম সেলে রাখার বৈধতা নিয়ে রিট শুনানি পেছালো

  • প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৮ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্টঃমামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার আগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কনডেম সেলে বন্দি রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি পিছিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। ওইদিন উভয়পক্ষকে জেলকোডসহ এ বিষয়ে আইনে কী আছে তার প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে বলেছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির।

এর আগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন বন্দির পক্ষে বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শিশির মনির। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিটকারী এ তিন আসামি হলেন- চট্টগ্রাম কারাগারের কনডেম সেলে থাকা সাতকানিয়ার জিল্লুর রহমান, সিলেট কারাগারে থাকা সুনামগঞ্জের আব্দুল বশির ও কুমিল্লা কারাগারে থাকা খাগড়াছড়ির শাহ আলম।

তাদের আপিল হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ভার্চুয়াল বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য ছিল।

রিট আবেদনে মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে কনডেম সেলে আবদ্ধ রাখা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় আবেদনকারীদের কনডেম সেল থেকে স্বাভাবিক সেলে স্থানান্তরের আবেদন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের সব জেলের কনডেম সেলে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রাখার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে (সুযোগ-সুবিধা) কারা মহাপরিদর্শককে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইন সচিব, আইজিপি, আইজি প্রিজন্স, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লার সিনিয়র জেল সুপারকে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী মো. শিশির মনির জানান, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক সাজা কার্যকর করার আইনগত কোনো বিধান নেই। মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করতে কয়েকটি আবশ্যকীয় আইনগত ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

প্রথমত, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে। সেই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১০ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়েরের বিধান রয়েছে। দ্বিতীয়ত, হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সাংবিধানিক অধিকারবলে আপিল বিভাগে সরাসরি আপিল দায়ের করতে পারেন। তৃতীয়ত, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের আইনগত সুযোগ রয়েছে।

সর্বোপরি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৯ এর অধীন রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। রাষ্ট্রপতি ক্ষমার আবেদন নামঞ্জুর করলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আইনগত বৈধতা লাভ করে। কিন্তু বাংলাদেশে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পরই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্জন কনডেম সেলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে বন্দি রাখা হয়।

শিশির মনির আরও জানান, গত ১৮ জুন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ‘ডেথ রেফারেন্স জটে বছরের পর বছর কনডেম সেলে আসামিরা’ শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। রিপোর্টে দেখা যায়, হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি চলছে।

অর্থাৎ, ২০২১ সালে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানি হবে ২০২৬ সালে। ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন ডেথ রেফারেন্সের সংখ্যা ৭৭৫টি। এ সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের ৩টি বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি করছে।

দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে দুই হাজার পাঁচজন ফাঁসির আসামি কনডেম সেলে বন্দি রয়েছেন।

এম/এ/হ

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ