1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২২ অপরাহ্ন

বিগো-টিকটক-লাইকি নিষিদ্ধের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ

  • প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, ২১ জুন, ২০২১
  • ১৩০ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্টঃ যুব সমাজ ও তরুণদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষায় বিগো লাইভ, টিকটক, লাইকি মোবাইল অ্যাপ নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনটি কার্যতালিকা (কজলিস্ট) থেকে বাদ (আউট অব লিস্ট) দিয়ে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

নির্ধারিত দিনে রিটের শুনানি নিয়ে যাওয়ার পর সোমবার (২১ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল ইসলাম মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জে আর খান রবিন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আশিক রুবাইয়াত ও ব্যারিস্টার সারোয়ার আহমেদ পায়েল।

রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জে আর খান রবিন বলেন, বিষয়টি শুনানির জন্য অন্য কোনো আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর যুব সমাজ ও তরুণদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য বিগো লাইভ, টিকটক, লাইকি মোবাইল অ্যাপস নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। রিটে এসব অ্যাপস বন্ধে বা নিষিদ্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং একই সঙ্গে কেন ওই অ্যাপস বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হবে না মর্মেও প্রার্থনা করা হয়।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, আইজি পুলিশকে বিবাদী করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে রিটটি করেন।

রিটের বিষয়ে আইনজীবী রবিন বলেছিলেন, ‘এসব অ্যাপ তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামী করছে। নষ্ট হচ্ছে নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে অপরাধমূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন তারা। তরুণ সমাজ এসব অ্যাপের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চান এবং নিজেকে জনপ্রিয় ভাবতে শুরু করেন।’

রিটে বলা হয়েছে, বিগো লাইভ অ্যাপের মাধ্যমে তরুণ ও যুবকদের টার্গেট করে লাইভে এসে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দিয়ে এবং যৌনতার ফাঁদে ফেলে কৌশলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়।

এতে বলা হয়, প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক তরুণ। এ অ্যাপটি মূলত একটি লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে একজন ব্যবহারকারী তার অনুসারীদের সঙ্গে লাইভ মুহূর্ত শেয়ার করেন। এই অ্যাপের ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে আমাদের প্রতিবেশী দেশ তা নিষিদ্ধ করেছে।

এতে আরও বলা হয়, টিকটক অ্যাপের মাধ্যমে অনেক কিশোর-তরুণ উদ্ভট রঙে চুল রাঙিয়ে এবং ভিনদেশি অপসংস্কৃতি অনুসরণ করে ভিডিও তৈরি করছেন, যাতে সহিংস ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট থাকে। তরুণীরা টিকটকের অশ্লীল ভিডিওতে নাচ, গান ও অভিনয়ের পাশাপাশি নিজেদের ধূমপান ও সিসা গ্রহণ করার ভিত্তিও আপলোড করেছেন।

‘উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ভিডিওতে কোনো শিক্ষণীয় বার্তা নেই। উল্টো এসব ভিডিওর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা চলে যাচ্ছে। বিব্রতকর, অনৈতিক ও অশ্লীল ভিডিও যা পর্নোগ্রাফিকে উৎসাহিত করায় ইতোমধ্যে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ায় এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অ্যাপগুলোর মধ্যে এক ধরনের শো-অফের বিষয় থাকে। এই শর্ট ভিডিও ক্রিয়েশন এবং শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে গিয়ে তরুণ প্রজন্ম অশ্লীল ভিডিও ছড়াচ্ছেন। এসব কাজে সম্পৃক্ত হয়ে একদিকে যেমন তরুণ সমাজ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের পড়ালেখাও চরম হুমকির মুখে পড়ছে।

এর আগে, এ বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে আইনজীবী রবিন গত ৮ অক্টোবর জনস্বার্থে একটি নোটিশ পাঠান। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় রিট দায়ের করেন তিনি।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ