1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

হাজারো ইয়াতিমকে লালন-পালন করেন বিচারাপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ

  • প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০
  • ১২৪১ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট:  নিজের তত্ত্বাবধানে থাকা ১১ টি ইয়াতিম খানার হাজারো ইয়াতিম ছেলে-মেয়ের মাঝে বাকী জীবন কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ।

বৃহস্পতিবার তার শেষ কার্যদিবসে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যলয়ের পক্ষ থেকে দেয়া ভার্চুয়ালি বিদায় সংবর্ধনার জবাবে তিনি একথা বলেন।

ইয়াতিমদের সাথে বাকী জীবন কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ বলেন,বারের সভাপতি আমার ইয়াতিম খানার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা বলেছেন।  উনাকে  অনেক ধন্যবাদ। আসলে আমার ১১টি ইয়াতিম খানা। ১১টি ইয়াতিম খানার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা আছে। আমার হাজার হাজার ছেলে মেয়ে আছে।আমার শেষ ইচ্ছা, আমার শেষ জীবনে ইয়াতিম বাচ্চাদের মাঝে থেকেই তাদের ভালোবাসায় আমি বিদায় নিতে চাই।  

 বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ বলেন, করোনার এই ক্রান্তিকালে আমার প্রতি আপনাদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার বর্হিপ্রকাশ হিসেবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বার এবং বেঞ্চ একে অপরের পরিপূরক। বার ছাড়া যেমন বেঞ্চের অস্তিত্ব থাকে না। তেমনটি বেঞ্চ ছাড়া  বারের অস্তিত্ব থাকে না। তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এবং বিচারপ্রার্থী জনগনকে সুষ্ঠ ও ন্যায় বিচার প্রদানের জন্য বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুন্দর ও সৌহার্দ সম্পর্ক থাকা অত্যন্ত আবশ্যক।

তিনি তার বিচারিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন,‘ আমি আপনাদের সঙ্গে সুন্দর ও সোহার্দ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। আদালতের কার্যক্রমে আপনারা সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে আমাকে সহযোগিতা করেছেন সেজন্য আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আজকে থেকে প্রায় ৩৭ বছর আগে ১৯৮৩ সালের ২০ এপ্রিল মুনসেফ পদে বিচার বিভাগে আমি যোগদান করেছিলাম। চাকরির চিরন্তন নিয়ম অনুযায়ী আজ চাকরী থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছি। আমি চাকরি থেকে বিদায় নিচ্ছি এতে আমার কোন কষ্ট নাই, মানসিক কোন দু:খ নাই বরং আমি ভারমুক্ত। তবে যাদের সাথে আমি এতোদিন ছিলাম, তাদেরকে ফেলে যেতে আমার কষ্ট হচ্ছে। চাকরি জীবনে সম্পূর্ণ সৎ থেকে , ন্যায় নিষ্ঠার সাথে আমি আমার দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছি। কতটুকু করতে পেরেছি আপনারা তার বিচার করবেন।  

সিনিয়র আইনজীবীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সাথে যারা জুনিয়র আইনজীবী আছেন। তারা যেন বর্তমান কঠিন সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের পরিবাবর পরিজন নিয়ে সুষ্ঠভাবে এবং সম্মান জনক ভাবে বাচতে পারে সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন। কেননা আমিও একদিন জুনিয়র আইনজীবী ছিলাম। সেহেতু জুনিয়রদের দু:খ আমি বুঝি।

এর আগে  অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সংবর্ধনা  বক্তব্যে বলেন, বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ছিলেন একজন রুচিবান ও সংস্কৃতিবান ব্যক্তি। ব্যক্তি পর্যায়ে তিনি ছিলেন একজন সাধু। তিনি ছিলেন সৎ।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, বিচাপতি হিসেবে আপনার একটা গুন ছিল। আপনি শুনানি শেষে সঙ্গে সঙ্গে রায় দিয়ে দিতেন। এতে বিচারপ্রার্থীসহ আইনজীবীরা বেশি খুশি হতেন।

উল্লেখ্য, বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ নারায়নগঞ্জের সাতখুন মামলার রায়সহ বহু আলোচিত মামলার রায় দিয়েছেন।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ