1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

একটি ভিন্নধর্মী ঈদ : ব্যারিস্টার মেহনাজ অবন্তী হুদা

  • প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, ২৪ মে, ২০২০
  • ১১৮২ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট:   রাত পোহালেই ঈদুল ফিতর উৎযাপিত হবে। তবে এবারের ঈদ,ঈদের আনন্দ অনেকটাই ফ্যাকাসে,বিবর্ণ। কারণ করোনাভাইরাসের কারণে সবাই এখন গৃহবন্দী। করোনাকালীন এই ঈদ নিয়ে কথা বলেছেন ব্যারিস্টার মেহনাজ অবন্তী হুদা। তিনি কাজ করছেন দি লিগ্যালিজম নামক ল’ ফার্মে।

অবন্তী বলেন, পেশাগত জীবনের প্রারম্ভে এসেই সাক্ষাৎ পেলাম একটি ব্যতিক্রমী ঈদের। অথচ  কখনো ভাবতেই পারিনি এমন একটি ঈদ আমাদের জীবনে আসবে যেখানে থাকবেনা ঈদ পূর্বক কেনা কাটার ঢল, রকমারি ইফতারের সমাহার, উৎসবমুখর বিভিন্ন মিলনমেলা কিংবা চাঁদ রাতের আমেজ।

এই ভিন্নধর্মী ঈদকে কেন্দ্র করে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রতিনিয়ত যে ভাবনাটি নাড়া দিয়েছে তাহল এই ক্রান্তি লগ্নে আমাদের কি করনীয় ? আর এই ধরনের ভাবনার তাড়নায় যে উত্তরটি আমাদের বিবেকে কড়া নেড়েছে তাহলো এই সঙ্কটাপন্ন সময়ে এমন কিছু করা দরকার যা অসহায়, নিপীড়িত মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এই মুহূর্তে অতীব প্রয়োজন। তারই ধারাবাহিকতায় চেষ্টা করেছি কিছু পদক্ষেপ গ্রহনের- যা ভিন্নতর না হলে ও রমজান ও ঈদ প্রেক্ষোপটে একেবারেই ব্যতিক্রম।

ক্রমাগত লকডাউন বৃদ্ধির কারনে নিম্ন আয়ের মানুষেরা ঘরেবন্দী হয়ে তাদের দিন মজুরীর প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, মুচি, খবরের কাগজ বিক্রেতা,ফেরিওয়ালা,তালাচাবি,মেরামতকারী এ রকম অসংখ্য পেশাজীবী মানুষের জীবনের স্পন্দন যেন একেবারেই থেমে গেছে, দিন শেষে তাদের হাতশূন্য অথচ এদেরকে প্রায়শই দেখা যেত আমাদের-ই আশেপাশে হাসি মাখামুখে।  তাই এই চেনামুখগুলোর মাঝে একচিলতে হাসি ফুটনোর মাধ্যমেই আমরা বেছে নিয়েছি আমাদের ঈদ আনন্দ। আমরা পরিবারের সদস্যরা মিলে এরকম পরিচিত ২০টি পরিবারকে চিহ্নিত করেছি এবংতাদের এপ্রিল ও মে – ২ মাসের আহার সংস্থানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি। শুধুমাত্র এই দুই মাস নয় বরং এসকল পরিবারের সদস্যদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসা পর্যন্ত তাদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে একর্মসূচীটি অব্যাহত রাখব আমরা। পারিবারিক ভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান ব্যতিরেকে ও যখন দেখেছি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান/সমিতি এ ধরনের জনকল্যাণ মূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তাদের সাথে ও সম্পৃক্ত হয়েছি। আমি মনে করি সমাজের স্বচ্ছল ব্যক্তিরা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অস্বচ্ছলদের পাশে দাঁড়ায় তবে করোনার অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে আমরা অনেকাংশেই জয়ী হতে সক্ষম হব।  

সামাজিক বা পেশাগত দায়বদ্ধতার বাইরে বাকি পুরো সময়টুকু কাটছে পরিবারের সবার সাথে যা পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করে তুলছে। লকডাউনের কারনে সামাজিক বা পারিবারিক মিলনমেলা বন্ধ থাকলেও ডিজিটালপ্লাটফর্ম এর মাধ্যমে দেশ বিদেশের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধ বসবার সাথে কুশল বিনিময় করা হচ্ছে নিয়মিত।ঈদ আড্ডা বা পুনর্মিলনীর মাধ্যম হিসেবে এই ডিজিটাল প্লাটফর্মকেই বেছে নিয়েছি আমি ও আমার পরিবার। এককথায় এই ব্যতিক্রম ধর্মী ঈদ আমাদের ক্রমাগত নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে এবং আমাদের জীবন-দর্শন ও দৃষ্টি ভঙ্গি কে বদলে দিয়েছে।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ