1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৫:১২ অপরাহ্ন

সাইবার বুলিং ও আমাদের করণীয়

  • প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ৮৯০ বার পঠিত হয়েছে

বাংলাদেশে বেশির ভাগ সাইবার অপরাধ গুলো ঘটে থাকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোতে। বিশেষ করে ফেসবুকে। দেশে প্রায় ৩০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ প্রতিনিয়ত ফেসবুক ব্যবহার করছে। যাদের অধিকাংশের বয়স ১৮-৩০বছর।  এর মধ্যে  বড় একটা অংশ হলো শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় অনেকেই কমবেশি অনলাইনে মানহানিমূলক ঘটনা বা ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার হয়ে থাকেন।  তবে এতে নারী অর্থাৎ মেয়ে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হন।

ডিজিটাল কোন ডিভাইস বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাসেজ করে বা পোস্ট দিয়ে কাউকে কুরুচিপূর্ণ কথা বলা,মানসিক ভাবে আঘাত দেয়া,অপমান করা,হুমকি দেয়া মূলত সাইবার বুলিং বা অনলাইন হ্যারেসেম্টের অধীনে পড়ে। সাইবার বুলিং এ মূলত কোন ব্যক্তিকে মানসিক ভাবে আঘাত করে তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়। ব্যক্তির পোশাক, রুচি শারীরিক গঠন,চলাফেরা নিয়ে বিদ্রুপ করে পোস্ট বা ম্যাসেজ দেয়া হয় যার ফলে সে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। শুধু তাই নয় এর ফলে একজন ব্যক্তি বিষন্নতা, হীনমন্যতায় ভুগতে পারেন। এতে তার লেখা-পড়া এবং আনুষাঙ্গিক কাজে ব্যাঘাত  ঘটে থাকে।

অনেক সময় ব্যক্তি মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে আত্নবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন এবং সুইসাইডাল আচরণ প্রকাশ করেন যাকে বলা হয় সাইবার ট্রমা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা কালীন সময়ে আমরা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় পার করি। যেখানে আমাদের মানসিক উন্নতির বিকাশ সাধন হয়।এই পথচলায় আমরা ভাল-মন্দ দুটি সত্তাকেই নিজেদের মাঝে ঠাঁই দেই।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা যদি বলি তাহলে বলব বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর প্রথমদিকে অনেকের সাথেই আমাদের সখ্যতা হয় এবং পরবর্তীতে হয়ত নানা কারণে সে বন্ধুত্ব ভেঙে যেতে পারে। আমি দেখেছি একে অপরের বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানা রকম পোস্ট এবং কমেন্ট করে বা  পরোক্ষভাবে একজন আরেকজনের নামে নানা রকম কুরুচিপূর্ণ কথা বা গুজব সৃষ্টি করে ব্যক্তির সামাজিক ইমেজ নষ্ট করে। এসব ঘটনা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি হয়। যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক ভাবে হীনমন্যতায় ভুগে। আমি এমনও দেখেছি একপক্ষ যদি ফেসবুকে কাউকে অবমাননা করে পোস্ট করে, সেখানে অনেকেই কমেন্ট করে বাহবা জানায় বা নিজেরাও সমালোচনা শুরু করেন। এটাকে বলা যেতে পারে সম্মিলিত ভাবে করা সাইবার বুলিং যা একটি অপরাধ। অথচ আমাদের উচিত ছিলো  অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রকাশ করে পোস্ট বা কমেন্ট দাতা কে এধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত রাখা।

এ ধরনের সমস্যায় আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো কখনো নিজেকে দোষারোপ করা যাবে না এবং অপরাধবোধ কাজ করলে নিজেকে সময় দিন। কিন্তু  ভুলেও পাল্টা পোস্ট কমেন্ট করবেন না এবং রাগের মাথায় শারীরিক আক্রমণ করবেন না। কেউ যদি ভূল করে তবে তার সাথে সরাসরি কথা বলুন।সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করে শত্রুর সম্মানহানি থেকে বিরত থাকুন। প্রথমত তাকে বুঝিয়ে বলুন। এরপরেও কথা না শুনলে ব্লক করে দিন।

অবশ্যই পোস্টের স্ক্রিনশট প্রমাণ হিসেবে রাখবেন এবং বিভাগের শিক্ষক বা সিনিয়রদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবেন যদি তাতেও কাজ না হয় বা আপনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন তাহলে আইনি সহায়তা নিতে ভুলবেন না।

মনে রাখবেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা একে অন্যকে হেয় করে এবং সমালোচনামূলক কথাবার্তা বলেন তারা মানুষ হিসেবে একে অপরের জন্য সহনশীলতার অভাবে এবং শ্রদ্ধাবোধের অভাবে এ কাজ গুলো করে থাকেন।পারিবারিকভাবে সুশিক্ষার অভাব থেকে তারা একে অপরকে মানসিক ভাবে আঘাত করে উগ্র মনোভাবের প্রকাশ করে থাকেন।  যেকোন সম্পর্ক কে শ্রদ্ধা করতে শিখুন। আসুন আমরা একে অপরের প্রতি হৃদ্যতা,সহনশীলতা বৃদ্ধি করি এবং মানসিক ভাবে কাউকে আঘাত করা থেকে ভিতর থাকি।

 

নুসরাত জাহান মিমি

শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ