1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১০:২৯ অপরাহ্ন

প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রো-বনো অ্যাওয়ার্ড পেলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান

  • প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৩৭ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট: বাংলাদেশে নারী ও শিশুর  অধিকার রক্ষায় আইনী লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রো-বোনো  অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান

সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ০৮.০৫ মিনিটে লন্ডনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বার এসোসিয়েশন এর কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি ভাবে  এই পুরস্কারের  ইশরাত হাসানের নাম ঘোষণা করা হয়।

আন্তর্জাতিক বার এসোসিয়েশনের  সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে   বলা হয়, জনস্বার্থে আইনজীবী ইশরাত হাসানের অসংখ্য কাজের মধ্যে আলোচিত হল  তার রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে রেলস্টেশন, বাস স্টেশন, শপিং মল, আদালতসমূহ এবং সকল অফিস সহ জনবহুল স্থানে ব্রেস্টফিডিং রুম এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আদালত রুল জারি করেন। ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশের কিছু কিছু কর্মস্থলে কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনজীবী ইশরাত হাসান এই রিটে তার ৯ মাস বয়সী শিশু উমাইর-বিন-সাদীকে পিটিশনার করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক বার এসোসিয়েশনের সভাপতি হোরাসিও বার্নাডে নেটো  বলেন, জন্মের আগেই গর্ভের শিশুর লিঙ্গ চিহ্নিতকরণের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার জন্য আবেদন করে মিসেস হাসান মা ও তাদের গর্ভের শিশুর অধিকার রক্ষার লড়াই করেছেন। তার যুক্তিছিল, লিঙ্গ চিহ্নিতকরণের পরীক্ষার ফলে গর্ভের শিশুর সংবিধান স্বীকৃত বেঁচে থাকার অধিকার, সমতার অধিকার এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার খর্ব হয়। বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় ছেলে সন্তান প্রত্যাশা করা হয়। কোন মা যখন দেখেন তার গর্ভের শিশুটি মেয়ে সন্তান তখন তিনি মানসিক চাপে পড়েন যা গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আরও গুরুতর হলো, কোন কোন পরিবারে গর্ভবতীকে মানসিক চাপ দেয়া হয় গর্ভপাত করানোর জন্য। আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে অনেকগুলো ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার গর্ভের শিশুর লিঙ্গ চিহ্নিতকরণ বন্ধ করে দিয়েছে। আইনজীবী ইশরাত হাসান মনে করেন,গর্ভের শিশুর লিঙ্গ চিহ্নিতকরণ পুরোপুরিভাবে বন্ধ করা গেলে দেশের নারীদের অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন হতে পারে।

এছাড়াও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সন্তানের বৈধতা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইন চ্যালেঞ্জ করে আইনজীবী ইশরাতের দায়ের করা রিট এবং গণপিটুনিতে নিহত এক মায়ের অনাথ হওয়া সন্তানদের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে দায়ের করা  রিটের বিষয় গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে অনুভুতি জানতে চাওয়া হলে, আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ভাবতে খুবই ভালো লাগছে বিশ্বের এতগুলো দেশের আইনজীবীদের মধ্যে আমাকে পুরস্কৃত করা হলো। এটা নিঃসন্দেহে আমার জন্য আমার দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এই পুরস্কার আমার একার না, আমাদের দেশের সকল নারী ও শিশুর জন্য এই পুরস্কার। আরও ভালো লাগছে, প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আমি এই পুরস্কার পাচ্ছি। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ করে নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষায় কাজ করতে আমাকে আরও উৎসাহ যোগাবে।

উল্লেখ্য, সারা বিশ্বের ৮০ হাজার আইনজীবী এবং ১৯০টি বার এসোসিয়েশন  এবং ল’সোসাইটি  আন্তর্জাতিক বার এসোসিয়েশনের সদস্য। ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদর দপ্তর লন্ডনে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট, দক্ষিন কোরিয়া এবং ব্রাজিলে আঞ্চলিক অফিস রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ