1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন

ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজের মৃত্যু: স্ত্রী সাবরিনাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

  • প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১২৭২ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট: রাজধানীর কাঁঠালবাগানে একটি ভবনের নয়তলার বারান্দা থেকে কথিত ‘লাফিয়ে পড়ে’ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তরুণ ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্ত্রী সাবরিনা শাহীদ নিশিতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন-আসিফ ইমতিয়াজের শ্বশুর এ এস এম শহিদুল্লাহ মজুমদার, শাশুড়ি রাশেদা শহীদ ও শ্যালক সায়মান শহীদ নিশাত।

বৃহস্পতিবার  আসিফের বাবা শহিদুল ইসলাম খান বাদী হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী কলাবাগান থানাকে অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

 আদালতে বাদীপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন ও সাবেক সভাপতি কাজী নজিবুল্লাহ হিরু শুনানি করেন।

 ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন জানান, আসিফ ইমতিয়াজের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কথায় তিনি একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে পারিপার্শ্বিক ঘটনা, সুরতহাল রিপোর্ট ও আসামিদের আচরণে বাদী বুঝতে পেরেছেন আসিফ লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেননি বরং তাকে হত্যা করে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাই দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় নিহত আসিফের বাবা বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। আদালত কলাবাগান থানাকে এই মামলার অভিযোগটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ভোর ৯ তলার বারান্দা থেকে ‘লাফিয়ে পড়ে’সুপ্রিম কোর্টের তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদের (৩৩) মৃত্যু হয়।   কাঁঠালবাগান এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি ভবনের নিচ থেকে   ভোরে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

আসিফ সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ শহিদুল ইসলাম খানের ছেলে। কাঁঠালবাগান এলাকায় একটি ভবনের নবম তলায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন তিনি। ওই ভবনের নিচ থেকে ভোরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

আসিফকে প্রথমে গ্রিন লাইফ হাসপাতাল, পরে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ চন্দ্র   বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।  খবর পেয়ে  বাসায় গিয়ে নিহতের বাবা-স্ত্রীসহ স্বজনদের বক্তব্য শুনি। স্ত্রীর ভাষ্য, ব্যারিস্টার আসিফ নিয়মিত বিয়ার খেতেন। গতরাতে খেয়েছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। আসিফ রাতে বারান্দায়ই বসা ছিলেন। শেষ রাতে ৯ তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন।

আসিফের শ্যালক নিশাদ জানান,  সেদিন রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একপর্যায়ে আসিফ ৯তলার বারান্দা থেকে রেলিংয়ের ওপর দিয়ে লাফিয়ে নিচে পড়েন।

সংকটাপন্ন অবস্থায় আসিফকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।তবে আসিফের বাবা শহিদুল ইসলাম খান বলেন, ছেলের শরীরে তিনি আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

আসিফ ব্যারিস্টারি পাশ করে সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করছিলেন। চার বছর আগে সাবরিনা শাহিদ নিশিতার সঙ্গে প্রেমের বিয়ে হয়। বাবা-মা কানাডা থাকায় আসিফ কাঁঠালবাগান শ্বশুর বাড়িতেই থাকতেন। তাদের কোনো সন্তান নেই। সম্প্রতি আসিফ স্ত্রীসহ কানাডা সেটেলড হওয়ার জন্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ