1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আট মাসেও প্রতিবেদন না দেওয়ায় আদালতের উষ্মা আবরার হত্যা : ২৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ মণ্ডপে হামলা: নুরের দলের ৭ নেতাকর্মী রিমান্ডে বরগুনার আদালতে ব্যতিক্রমী রায়:মাদক মামলায় দোষী সাব্যস্ত আসামীকে ৭ শর্তে প্রবেশন দিয়েছে আদালত সোনাগাজীতে বদর মোকাম খালে অবৈধ বাঁধে জলাবদ্ধতা,ডুবে গেছে ফসল:ব্যবস্থা নিতে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বপ্রণোদিত আদেশ আবরার হত্যা: রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন ২৪ অক্টোবর বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষক রুমা সরকার রিমান্ডে বারাহিপুরে চাঞ্চল্যকর ফেসবুক লাইভে স্ত্রী খুনের মামলায় টুটুলের মৃত্যুদন্ড আদালতের পরিদর্শনে ধরা পড়ল এসি ল্যান্ড অফিসের নামজারি কার্যক্রমের ভয়াবহ অনিয়ম Producing a aktionär Porch Pitch

সালথা রণক্ষেত্র, আগুন গুলিতে নিহত এক

  • প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৫৩ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট: ফরিদপুরের সালথায় সোমবার সন্ধ্যায় লকডাউনে সরকারি আদেশ অমান্য করায় মারধরের ঘটনা নিয়ে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে তাণ্ডব চালিয়েছে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ। উত্তেজিত ব্যক্তিরা উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে ব্যাপক হামলা চালিয়ে সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। ইউএনও-এসি ল্যান্ডের দুটি সরকারি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া ছাড়াও তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৬ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে। বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গ্রেফতার এড়াতে এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এদিকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জনগণকে সচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে সোমবার রাতে ইউএনওর ওপর হামলা ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইলিয়াস শেখ দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। খবর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের।

 

ফরিদপুর: জেলার সালথায় কয়েকশ মানুষ সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলা চত্বরে দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা, লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় তাণ্ডব চালায়। মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলাকারীরা তিন ঘণ্টাব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তাদের হামলায় রক্ষা পায়নি উপজেলা পরিষদ চত্বরের গাছপালা ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। এতে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জুবায়ের হোসেন (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। ৮ পুলিশ-র‌্যাব সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। নিহত জুবায়ের উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামের আশরাফ আলী মোল্যার ছেলে।

জানা গেছে, এর আগে সন্ধ্যায় সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি। এ সময় সহকারী কমিশনারের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি বাজারে কয়েকজনকে লাঠিপেটা করেন। এতে পাশের নটাখোলা গ্রামের জাকির হোসেন মোল্যাসহ কয়েকজন আহত হন। জাকিরকে আহত করার খবরে সেখানে উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে আরও লোকজন জড়ো হন। খবর পেয়ে সেখানে সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর হামলা করে। এতে মিজানুর রহমান মাথায় আঘাত পান। পরে পুলিশের গুলিতে কয়েকজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে সালথা থানা ঘেরাও করেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে সেখানে আরও লোকজন জড়ো হন। পরে একে-একে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস, স্থাপনা ও বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় ইউএনও ও এসি ল্যান্ডের দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এসি ল্যান্ড মারুফা সুলতানা বলেন, তিনি রুটিন ওয়ার্কে বিভিন্ন বাজারে গিয়েছিলেন। এরই অংশ হিসাবে ফুকরা বাজারে যান। সেখানে দুটি দোকান খোলা ছিল, তাদের বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। পেটানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুজ্জামান বলেন, সহকারী কমিশনারের কাছ থেকে খবর পেয়ে ফুকরা বাজারে পুলিশ পৌঁছায়। সেখানে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। এতে এসআই মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সালথা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর জানান, আমার বাসভবনসহ বিভিন্ন অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) আলিমুজ্জামান বিপিএম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথা পুলিশের পাশাপাশি ফরিদপুর, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা ও নগরকান্দা পুলিশ সদস্যসহ র‌্যাব, আনসার সদস্যরা ৫৮৮ রাউন্ড শটগানের গুলি, ৩২ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস, ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছোড়ে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ সদস্য আহত হন। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) : এদিকে করোনা ঠেকাতে জনগণকে সচেতন করতে সোমবার রাতে ইউএনওর ওপর হামলা ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইলিয়াস শেখ দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। এ ছাড়া কুয়াকাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুয়াকাটা সৈকতে পেশাদার ফটোগ্রাফার সংগঠনের সেক্রেটারি কথিত সাংবাদিক ইলিয়াস শেখসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মহিপুর থানায় জিডি করা হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত শহীদুল হকের গাড়িচালক আফজাল হোসেন মঙ্গলবার বিকালে জিডি করেছেন। ইউএনওকে সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে অবরুদ্ধ করে তার গাড়ির ওপর হামলার ঘটনায় মহিপুর থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। খবর পেয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরীর নির্দেশে রাত ১২টার দিকে সরেজমিন তদন্তে আসেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির। এ সময় কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদারের উপস্থিতিতে ইলিয়াস শেখ ঘটনার দায় স্বীকার করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত দিয়েছেন। সোমবার রাতে ইলিয়াসকে পুলিশের লাঠিপেটা-পরবর্তী ঘটনায় ইউএনওকে অবরুদ্ধ এবং ধাওয়া-পালটাধাওয়ার বিষয়ে কুয়াকাটার সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলে মঙ্গলবার দিনভর আলোচনা।

সৈকতে পর্যটকদের ছবি তোলার পেশায় নিয়োজিত প্রায় দু’শ ফটোগ্রাফারের নেতৃত্বে থাকা ইলিয়াস শেখ সম্প্রতি ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন। তিনি একটি আঞ্চলিক দৈনিকের সাংবাদিক হিসাবেও দাপিয়ে বেড়ান এলাকা।

মহিপুর থানার ওসি বলেন, সোমবার রাতের ঘটনায় ভয়ভীতি হুমকি এবং সরকারি কাজে বাধাদানের বিষয়ে উল্লেখ করে একটি জিডি হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, সরকারি কাজে বাধাদান এবং আমাকে অবরুদ্ধ করে হামলার ঘটনায় মহিপু থানায় জিডি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখবেন।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ