1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আট মাসেও প্রতিবেদন না দেওয়ায় আদালতের উষ্মা আবরার হত্যা : ২৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ মণ্ডপে হামলা: নুরের দলের ৭ নেতাকর্মী রিমান্ডে বরগুনার আদালতে ব্যতিক্রমী রায়:মাদক মামলায় দোষী সাব্যস্ত আসামীকে ৭ শর্তে প্রবেশন দিয়েছে আদালত সোনাগাজীতে বদর মোকাম খালে অবৈধ বাঁধে জলাবদ্ধতা,ডুবে গেছে ফসল:ব্যবস্থা নিতে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বপ্রণোদিত আদেশ আবরার হত্যা: রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন ২৪ অক্টোবর বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষক রুমা সরকার রিমান্ডে বারাহিপুরে চাঞ্চল্যকর ফেসবুক লাইভে স্ত্রী খুনের মামলায় টুটুলের মৃত্যুদন্ড আদালতের পরিদর্শনে ধরা পড়ল এসি ল্যান্ড অফিসের নামজারি কার্যক্রমের ভয়াবহ অনিয়ম Producing a aktionär Porch Pitch

১২৭ হত্যা মামলা: রহস্য উদ্ঘাটন হচ্ছে না

  • প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১
  • ১৭৩ বার পঠিত হয়েছে

ল লাইফ রিপোর্ট: তথ্যপ্রমাণের অভাবে ১২৭টি হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারছে না পুলিশ। বছরের পর বছর ধরে মামলাগুলোর তদন্ত ঝুলে আছে। গতিহীন হয়ে পড়েছে এর সঙ্গে জড়িতদের কাজ।

ফলে চাপ কমাতে পর্যায়ক্রমে ‘ক্লুলেস’ সব মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে যাচ্ছেন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে কোনোদিনই জানা যাবে না এসব হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ। অন্ধকারেই হারিয়ে যাবে ঘাতক চক্র। এদের কেউ শাস্তিও পাবে না।

তবে ১২৭টির মধ্যে প্রায় অর্ধেক মামলার তদন্তে গাফিলতি ও ত্রুটিবিচ্যুতি পেয়েছে ঊর্ধ্বতন তদারকি কর্মকর্তারা। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য মিলেছে।

এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন কোনো সমস্যা নেই যে তার সমাধান নেই। সমাধান বের করতে হবে। আমরা কেস টু কেস দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। সিআইডির মামলা তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার কথা প্রচলিত আছে। ৩০/৪০ বছর ধরে একটা মামলা তদন্তেরও নজির আছে। এটা শুধু হয়েছে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে। আমরা এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। এ ধরনের মামলা তদন্তে টাকার উৎস না থাকায় গাফিলতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা ঠিক নয়। কর্মকর্তারা তদন্ত ভাতা পান। হত্যা, ডাকাতি, চুরি, প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধারার মামলার জন্য আলাদা আলাদা তদন্ত ভাতা দেওয়া হয়। আগে নিয়ম ছিল সংশ্লিষ্ট থানা থেকে ভাতার টাকা আনতে হতো। আমাদের কর্মকর্তারা ভাতা আনতে থানায় যেত না। এখন আমাদের কর্মকর্তাদের আমরাই ভাতা দেব। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এটা অনুমোদনও হয়েছে। আগামী মাসে সিআইডি থেকেই কর্মকর্তারা তদন্ত ভাতা পাবেন।’

পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লুলেস হত্যা মামলা তদন্তের দুর্বল দিক হচ্ছে মরদেহের ডিএনএ প্রোফাইল ও ফিঙ্গার প্রিন্ট সংরক্ষণ না করা। মামলার শুরুতেই যদি তদন্ত কর্মকর্তারা ডিএনএ প্রোফাইল ও ফিঙ্গার প্রিন্ট সংরক্ষণ করতেন, তাহলে খুনিদের অনেকেই ধরা পড়ত। আসামি ধরা পড়লে হত্যাকাণ্ডের রহস্যও উদ্ঘাটিত হতো। কিন্তু কাজ দুটি করতে নিজস্ব অর্থ ব্যয় হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তারা সেটি করতে আগ্রহী হয়নি। এছাড়া এ ধরনের ‘ক্লুলেস’ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারার পেছনে দেশে ‘ন্যাশনাল প্ল্যাটফরর্ম’ না থাকাকেও একটি অন্যতম কারণ হিসাবে উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।

আইনবিদ শাহদীন মালিক মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, পৃথিবীতে খুনের মামলার রহস্য উদ্ঘাটন তুলনামূলকভাবে সহজ। কারণ অন্তত ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে যারা খুন হন, খুনি তাদের পূর্বপরিচিত। এজন্য তাদের খুঁজে বের করা সহজ। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় খুঁজে পাওয়া না গেলে কাজটা কঠিন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় খুঁজে পাওয়া না গেলে তদবিরকারকের অভাব থাকে। ফলে পুলিশের কাজও এক্ষেত্রে শিথিল হয়। সার্বিকভাবে আমাদের দেশের খুনের মামলার শতকরা ২৫/৩০ ভাগের বেশি সুরাহা হয় না। এজন্য পুলিশের কাজে শিথিলতা ও জবাবদিহিতার অভাব দায়ী।

সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এসব মামলার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে-যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, তাদের পরিচয় উদ্ধার না হওয়া। ফলে কোনো স্বজন তদবির নিয়ে পুলিশের কাছে যায় না। এতে তদন্ত কাজ চালিয়ে নিতে পুলিশের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হয়। একপর্যায়ে তদন্ত কাজে স্থবিরতা আসে। মামলা হারিয়ে যায় কালের অন্ধকারে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, এ ধরনের ক্লুলেস মামলা তদন্তে সুফল পাওয়ার জন্য ইউরোপে আছে ‘ইউরোপোল ডেটাবেজ।’ যেখানে সবাই সব তথ্য শেয়ার করতে পারে। সেখান থেকে তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারে তদন্তকারী সংস্থার সদস্যরাও। দেশেও ইউরোপোল ডেটাবেজের আদলে ‘ন্যাশনাল প্ল্যাটফরম’ নামে একটি ডেটাবেজ সেন্টার খোলা যেতে পারে। যেখানে হারানো বিজ্ঞপ্তি, অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ ও যে কোনো হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে যে কেউ তথ্য দিয়ে রাখতে পারবে। তাহলে দেশেও এতসংখ্যক মামলার তদন্তে ব্যর্থ হবে না পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের হটস্পট: পুলিশের তথ্যমতে, রাজধানীর উপকণ্ঠ নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকা হত্যাকাণ্ডের ‘হটস্পট’। এসব এলাকা থেকে মাসে অন্তত ১০টি মরদেহ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডগুলো এসব এলাকায় ঘটে। আবার ক্ষেত্রবিশেষ দূরে কোথাও খুন করার পর আলামত গায়েব করতে এসব স্থানে মরদেহ ফেলা হয়। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়। সারা দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতিমাসে এমন মামলার সংখ্যা অন্তত ৩০টি। হত্যাকাণ্ডের অনেক মামলা থানা পর্যায়ে তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে গভীরে গিয়ে তদন্তের জন্য এ ধরনের মামলা পাঠানো হয় সিআইডিতে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় জটিল এ মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি কর্মকর্তারাও হিমশিম খান। বছরের পর বছর তদন্ত শেষে দরকারি তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে না পেরে হাল ছেড়ে দেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তখনই ‘ক্লুলেস’ বিবেচনায় মামলাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

কেস স্টাডি: এ ধরণের একটি মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় খুন হন ২৮ বছরের অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. মো. আসাদুজ্জামান মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে মতামত দেন-‘ওই যুবককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।’

অবশ্য সুরতহাল রিপোর্টে পুলিশ উল্লেখ করেছিল-‘মরদেহের কপালে রক্তবর্ণের ছোপ ছোপ দাগ, মুখের বাম পাশে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ ও নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।’ সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে এক মাস পর ১৭ আগস্ট রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করেন। এরপর হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে শুরু হয় তদন্ত।

থানা পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হলে ওই বছরের ২২ নভেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার স্থানান্তরিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিআইডিতে। তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন সিআইডির পরিদর্শক কাইয়ুম খান। তদন্তকালে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে রূপগঞ্জের সলুপিনা গ্রামের বাসিন্দা একাধিক মামলার আসামি নূর হোসেন ওরফে নূরাকে গ্রেফতার করা হয়।

তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য বের করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। এর মধ্যে আরেক দফা পরিবর্তন হয় তদন্ত কর্মকর্তা। দীর্ঘ সময় তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদ্ধার করতে না পেরে গত ১ ফেব্রুয়ারিতে আদালতে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এ মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় গ্রেফতার হওয়া একমাত্র আসামি নূর হোসেন ওরফে নূরাকে।

তদন্তে গাফিলতি: সূত্র জানায়, সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মামলার নথি পর্যালোচনা করে তদন্ত কর্মকর্তাদের বেশকিছু গাফিলতি পেয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে এর ব্যাখ্যা চান। গত বছরের ১৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন আহমেদ ঢাকা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বরাবরে ব্যাখ্যার জবাব দেন।

তাদের মামলা তদন্তে ও তদারকিতে ত্রুটিবিচ্যুতি না করার জন্য ‘প্রথমবারের মতো সতর্ক’ করতে মতামত দেওয়া হয়। আর মামলা দায়েরকারী পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ও এসআই রুহুল আমিনকে শোকজ করা হয়।

পুলিশ সদরের বক্তব্য: তথ্যপ্রমাণের অভাবে ১২৭টি হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পেরে ক্লুলেস বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা লিখিত বক্তব্যে জানান, প্রতিটি মামলার যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে ফাইনাল রিপোর্ট অথবা চার্জশিট দেওয়ার আইনি বিধান আছে। তবে ঢালাওভাবে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি মোটেও যৌক্তিক নয়। এ ধরনের কোনো তথ্যও নেই।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ