1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরাই সাংবাদিকদের কাজ : হাইকোর্ট বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা: দুদকের আবেদন পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি পাঠ্যবইয়ে ভুল : এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টে তলব মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা: রিপনের হাইকোর্টে আগাম জামিন সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে পূর্বানুমতি কেন অবৈধ নয় সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান দম্পতির বিচার শুরু বৃদ্ধা আছিয়াকে হাজির করতে এবার পুলিশকে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট সিজিএম মোঃ শওকত আলীর সুস্থতা কামনায় ভার্চুয়াল দোয়া মাহফিল ই-কমার্স গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষায় ৩৩ ভুক্তভোগীর রিট আসামির শরীরে ক্ষতচিহ্ন; স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন আদালত

আবর্ত

  • প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, ১২ মে, ২০২১
  • ২৪৭ বার পঠিত হয়েছে

শৈশবের সেইসব খরদুপুরগুলো ছিলো ঘোর লাগা,
নানান গন্ধে ভরা একেকটা সেন্টের শিশির মতোন;
নিজেকে তখন মনে হতো পরিব্রাজক
মনে হতো বিস্ময়ভরা প্রকৃ্তির বুকে এক অবোধ ফড়িং!
ভরদুপুরে মা বলতেন বাহির উঠোনে শুকোতে দেয়া কাপড়গুলো তুলে আনতে
আমি গিয়ে জড়িয়ে নাক ডুবিয়ে থাকতাম মার শুকোতে দেয়া শাড়িতে,
মা এমন সুন্দর করে শুকোতে দিতেন তাঁর বর্ণিল শাড়ি!
পাশাপাশি সমান্তরালে টানানো দুটো তারে
এমন চমৎকার করে শুকোতে দিতেন- যেন একটা তাবু,
যেন একটা ছায়া, যেন একটা আশ্রয়;
আমি ডুবে যেতাম ডিটারজেন্ট আর মাড়ে’র গন্ধে!

আচম্বিত মায়ের ডাকে চমকে উঠতাম-
“কি রে রোদে জ্বলে যাবে তো শাড়িগুলোর রং, নিয়ে আয় তাড়াতাড়ি!”
আমি আরো কিছুক্ষণ নাক ডুবিয়ে থাকতাম।
গ্রীষ্মের সেই তপ্ত রোদে মায়ের শাড়িগুলোকে মাথার উপর মনে হতো আশীর্বাদ;
ঘরের মধ্যে এনেও বিছানায় নাক ডুবিয়ে থাকতাম গরম গন্ধওয়ালা কাপড়গুলোতে,
মা বলতেন-
“ধূলোবালির শরীর নিয়ে ধোয়া কাপড়গুলো ময়লা করে ফেলছিস কেন !
ওগুলো একটু গুছিয়ে রাখলেই তো পারিস”
আমি অনেক যত্নে পাট পাট করে গুছিয়ে রাখতাম;
মা জানতেন না এইসব গ্রীষ্মের রোদে পোড়া মাড়ের গন্ধযুক্ত শাড়িগুলো ছিলো
আমার একেকটা দ্বীপ, একেকটা অজানা রাজ্য,
কত বিচিত্রসব রোদ্দুরমাখা-কল্পনা মিশে থাকতো সেগুলোয়!
মা জানতেন না কী এক অদ্ভুত আচ্ছন্নতায় ডুবিয়ে রাখতো সেগুলো আমাকে!

কলেজে ওঠার পর মা আর শুকোতে দেয়া শাড়ি আনতে বলতেন না,
আমিও তখন থেকে হারিয়ে ফেলেছি আমার একেকটা সুগন্ধী-দ্বীপ,
আমার সেইসব খররৌদ্রের আশ্রয়!
এখন মা-ই হয়তো আমার মধ্যে ছায়া খোঁজেন!
আমার মধ্যে সেইসব শাড়ির মতো গন্ধ কি খুঁজে পান মা?
আমাকে কি তাবু মনে হয় তাঁর?
নিদেনপক্ষে একটা আশ্রয় হয়েছি কি আমি তাঁর?
নাকি সমাজ-সংসারের খররৌদ্রে রং জ্বলে যাওয়ার ভয়ে
আমি নিজেই এখন ঘরের আবদ্ধতায় পাট পাট সাজিয়ে রাখা কাপড়মাত্র?
নাকি মা কে কেউ নিষেধ করেছে কোঁচকানো চামড়ার মলিন শরীরে
আমাকে জড়িয়ে ময়লা না করে ফেলতে?
মায়ের সেইসব শাড়িগুলোতেও কোথায় যেন একটা সুপ্ত প্রাণ লুকিয়ে থাকতো,
কিন্তু আমি কি ক্রমান্বয়ে জীবনডাঙার খর-রোদে শুকোতে দেয়া শাড়ি হয়ে উঠছি?
প্রাণহীন মাড় দেয়া কড়কড়ে খসখসে শুকনো শাড়ি!

ফাহিম ফয়সাল
বিচারক, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ