1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আট মাসেও প্রতিবেদন না দেওয়ায় আদালতের উষ্মা আবরার হত্যা : ২৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ মণ্ডপে হামলা: নুরের দলের ৭ নেতাকর্মী রিমান্ডে বরগুনার আদালতে ব্যতিক্রমী রায়:মাদক মামলায় দোষী সাব্যস্ত আসামীকে ৭ শর্তে প্রবেশন দিয়েছে আদালত সোনাগাজীতে বদর মোকাম খালে অবৈধ বাঁধে জলাবদ্ধতা,ডুবে গেছে ফসল:ব্যবস্থা নিতে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বপ্রণোদিত আদেশ আবরার হত্যা: রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন ২৪ অক্টোবর বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষক রুমা সরকার রিমান্ডে বারাহিপুরে চাঞ্চল্যকর ফেসবুক লাইভে স্ত্রী খুনের মামলায় টুটুলের মৃত্যুদন্ড আদালতের পরিদর্শনে ধরা পড়ল এসি ল্যান্ড অফিসের নামজারি কার্যক্রমের ভয়াবহ অনিয়ম Producing a aktionär Porch Pitch

একটি সিনেমার কাহিনী ও প্রথম ফাঁসির রায় দেয়ার অনুভূতি

  • প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০
  • ৬৩৪ বার পঠিত হয়েছে

মো. জিয়াউর রহমান।। আমি যেদিন প্রথম ফাঁসির আদেশ দেই, সেদিন আদেশ পড়তে গিয়ে কন্ঠ বাষ্পরুদ্ধ হয়ে পড়ছিল। বুকের ভেতর কান্না উথলে উঠছিল। ভরা এজলাস, লয়ারস, ক্লায়েন্টস, সামনে কত কত লোক। না, নিজেকে সংবরণ করেছি। তারপর বেশ কিছু মামলায় ফাঁসির আদেশ হলেও কখনো এমন হয়নি।

আমরা যখন রায় দেই তখন সামনে থাকে সাক্ষী, প্রমান, পুলিশ উকিল! নিজে ঘটনা না দেখলেও তাদের সাক্ষ্যে ঘটনা দেখতে পাই। এই দেখতে পাওয়া নিশ্চয়ই সবসময় পূর্ণ হয় না। এমনি একটি গল্প বলছি।

কোভিড অযাচিত সময় এনে দিয়েছে। এ সময়ে এটা ওটা লিখি, সিনেমা দেখি। বিচারের সাথে সম্পৃক্ত বলেই হয়তো  ক্রাইম, সাসপেন্স, জাজমেন্ট এগুলো আমাদের টানে। আমার একজন অনুজ কলিগ একটা সিনেমা সাজেস্ট করায় আজ দেখতে বসলাম। বাসায় আমি একা, জুরি রাহিন ওদের মায়ের সাথে রাজশাহী। দেখতে শুরু করলাম “Miracle in Cell Number 7”

তুরস্কের পাহাড়ী এক লেকের পাড়ে বসবাস এক বৃদ্ধা মহিলা, তার ছেলে মিমো ও নাতনী ওভা এর। ভেড়া চড়িয়ে ওদের সংসার চলে। মিমো খানিকটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। উন্মাদ না হলেও তার চালচলন, চলাফেরা বাচ্চাদের মত। একদিন একটা দোকানে ওভার একটি স্কুল ব্যাগ পছন্দ হয়, মিমোর কাছে টাকা না থাকায় সেদিন কিনতে পারে না। পরেরদিন টাকা যোগাড় করে নিমো আর ওভা সেই দোকানে গিয়ে দেখে, ওভার এক বান্ধবীর বাবা সেটা কিনে নিয়েছে। মিমো তাকে টাকা দিয়ে ব্যাগটা নিতে চায়। মেয়েটার ব্যাগ ধরে টানাটানি করে। মেয়েটার বাবা একজন আর্মি অফিসার। সে মিমোকে আঘাত করে। বাসায় গিয়ে অপমানে, আঘাতে জর্জরিত মিমো ও ওভা নিজেদের জড়িয়ে ধরে কান্না করে।

মিমো বাচ্চাদের সাথে মিশতে ভালোবাসে যদিও বাচ্চারা তাকে পাগল বলে জ্বালায়। একদিন ওভার সেই বান্ধবী সেই ব্যাগটি নিয়ে খেলছিল। সে নিমোর সাথে মজা করে। ব্যাগটি ধরতে পারবে কি না! পাহাড়ী রাস্তা, নিচে লেক, এই ধরাধরি খেলতে গিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে মেয়েটি আঘাত পায় ও তৎক্ষণাৎ মারা যায়। নিমো মেয়েটি কে উদ্ধার করে। যখন কোলে নিয়ে জল হতে উঠছে, তখন সবাই দেখতে পায়। মেয়েটার রক্তাক্ত নিথর দেহ মিমোর কোলে! মিমোকে এরেস্ট করা হয়, ভিকটিমের বাবা আর্মির অফিসার হওয়ায় অত্যাচার করে মিমোর কনফেসন নেওয়া হয়।

বিচার শুরু হয়। মিমোকে ৭ নম্বর সেলে রাখা হয়। ও ওয়ার্ডের বাসিন্দারা কেউ খুনি, কেউ ডাকাত, কেউ চোর হলেও একটা বাচ্চাকে মেরেছে শুনে মিমোকে সবাই মিলে পেটায়। তারপর দিনে দিনে বুঝতে পারে, মিমো মানসিক ভাবে পূর্ণ নয়, কিন্তু চমৎকার মনের হাসিখুশী একজন মানুষ। আস্তে আস্তে ঐ সেলের সবাই নিমোকে ভালোবাসতে থাকে এবং জানতে পারে মিমো নির্দোষ।

মিমোর কোন সাক্ষী নেই। বিচারে তার ফাঁসি হয়। ফাঁসি কার্যকরের তোরজোর শুরু হয়। এর মধ্যে জানা যায়, একজন ঘটনাটা দেখেছে। সে বলে খেলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে মেয়েটা মারা গেছে। কোর্টে বলার আগেই ভিকটিম মেয়েটার ক্ষমতাধর বাবা এই সাক্ষীকে মেরে ফেললে মিমোর বাঁচার আশা শেষ হয়ে যায়। আমি সহ সব দর্শক হয়তো চায়, মৃত্যুদন্ড স্থগিতের Stay Order আসুক। আসে না। আর তখন ৭ নম্বর সেলের অন্য সব বন্দী মিলে মিমোকে বাঁচানোর জন্য প্লান করে। সিনেমার গল্প মোর খায়। মিমোর জন্য তাদের একজন নিজেকে স্যাক্রিফাইজ করে। আর মিমো জেলারের সহায়তায় পালায়।

এই ছবিতে পিতা ও কন্যার অপত্য স্নেহ, ভালোবাসার যে গল্প চিত্রায়িত হয়েছে তা বুকের গভীরে জায়গা করে নেয়। বার বার আবেগে কান্না আসে। মিমোর জায়গায় আমি আর ওভার জায়গায় জুরি কে ভেবে ছবি দেখতে গিয়ে কতবার কান্নায় বুক ভেসেছে।

এত সুন্দর একটা ছবি রিকমন্ডেড করার জন্য আমার সে অনুজ কলিগ কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

আপনিও দেখতে পারেন- আমি রিকমেন্ড করছি আপনার জন্য।

মো. জিয়াউর রহমান : চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মাগুরা।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ