1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পাঠ্যবইয়ে ভুল : এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টে তলব মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা: রিপনের হাইকোর্টে আগাম জামিন সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে পূর্বানুমতি কেন অবৈধ নয় সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান দম্পতির বিচার শুরু বৃদ্ধা আছিয়াকে হাজির করতে এবার পুলিশকে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট সিজিএম মোঃ শওকত আলীর সুস্থতা কামনায় ভার্চুয়াল দোয়া মাহফিল ই-কমার্স গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষায় ৩৩ ভুক্তভোগীর রিট আসামির শরীরে ক্ষতচিহ্ন; স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন আদালত মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিবাদীকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালন করলো সিএমসি

কোর্টে তালা : আইনজীবী- বিচারকের সম্পর্ক এবং বিচারপ্রার্থীর দায়

  • প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১০৯৩ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শরিফ ভূঁইয়া 

আমার লেখাটা স্রোতের বিপরীতের- আয়নার ওপিঠের।  ফেসবুকে দেখলাম  লাইভ দেখাচ্ছে-  সি এম এম  কোর্টের ফটকে তালা- আইনজীবীকে হেনস্থার অভিযোগ বিচারকের বিরুদ্ধে।  এ নিয়ে কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে  তির্যক কমেন্টস, স্ট্যাটাস দেখলাম প্রচুর।  দেখলাম এক  উকিল – একটি অনলাইন পোর্টালে বললেন- আইনজীবী মানে বিচারপ্রার্থী স্বয়ং নিজে। যদিও আমি এতদিন  জানতাম- বিচারপ্রার্থী আর তার আইনজীবীর মাঝে – প্রিন্সিপাল এবং এজেন্ট এর সম্পর্ক। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির পক্ষে একজন আইনজীবী তার এজেন্ট হিশেবে মামলা পরিচালনা করেন। বিনিময়ে পারিশ্রমিক পান। ফি ছাড়া মামলা লড়েন কিছু কিছু আইনজীবী ; তবে তা  হাতে গোনা। আর শুধু মাত্র লিগাল-এইড অফিস  কোন রকম ফি ছাড়া মামলা পরিচালনা করেন গরীব, সুবিধা বঞ্চিত জনগনের জন্য। তাও লিগাল এইড অফিসের প্যানেলভুক্ত আইনজীবী সরকার থেকে নির্ধারিত হারে ফি পান।  আবার যদি যুক্তির খাতিরে বিচারপ্রার্থী-মক্কেল এবং আইনজীবীকে এক হিশেবে ধরি তাহলে- কোর্ট বর্জন করা হয় কেন? আমরা বিভিন্ন  সময়ে দেখে থাকি আইনজীবীরা কোর্ট বর্জন করেন। এটা কার স্বার্থে করেন? একজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সঠিক ফোরামকে এড়িয়ে কোর্ট বর্জন করে বাকি বিচারপ্রার্থী জনগনের জন্য হয়রানী ডেকে আনা কী ন্যায়সঙ্গত? কোন বিচারপ্রার্থী কি আজ পর্যন্ত কোন কোর্ট বর্জনের ডাক দিয়েছেন? কোর্ট কী বর্জন করা যায়? এক কোর্টে রিলিফ না পেলে উপরের কোর্টে আপিল করার সুযোগতো আইনেই আছে তাহলে বর্জন কেন? তার মানে – বর্জন বিষয়টির সাথে বিচারপ্রার্থীর কোন সম্পর্ক নেই – যতটুক আছে – সম্পূর্ণই আইনজীবীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।

আমাদের দেশে মামলা হেরে রিফান্ডের কোন সিস্টেম নেই। আজ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত রিলিফ না এনে দিতে পারলে কোনো বিচারপ্রার্থী তার টাকা ফেরত পেয়েছেন বলে শুনিনি। কোনো প্যাকেজ সিস্টেমও নাই।  এখানে মামলা করা মানে জালে ফেঁসে যাওয়া।   ৫০০০ টাকা  নিয়ে কোর্টে  আসলে – ৪৮০০ টাকাই খরচ হয় – আইনজীবী নিয়োগ, মুহুরীর টাকা দেওয়া এসবে।  এমন কি মাঝে মাঝে ফটোকপি, প্রিন্টের টাকাও দেয়া লাগে।

আর এদিকে  শুধু মাত্র ২০০ টাকা পাচ্ছে রাষ্ট্র কোর্ট ফি হিসেবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে  দেখা যায় – জমির দাম এক লক্ষ – মামলার খরচ ১.৫ লক্ষ পড়ে  গেছে। মামলা কীভাবে কত রকমে ঘুরানো যায় তা আমাদের আইনে আছে। অনেক আইনজীবীকে  এর সুযোগ নিয়ে মামলা ইচ্ছামত বিলম্বও করতেও দেখা যায়।  আমি নিজেই তার ভুক্তভুগী। আবার অনেক দক্ষ,সৎ এবং পেশাদার আইনজীবী শুরুতেই বলে দেন – ‘এই মামলা চলেবনা’ বা মেরিট পেলে – দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা শেষ করেন। ফৌজদারীতে –  পুলিশ ধরে আনলো – একজন উকিল জামিন আবেদন করলেন- আইনের মধ্যে, আইনের বাইরে যা যা উনার চাওয়ার সব চাইলেন- এখন ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের পালা – তিনি আইন-কানুন দেখে, রায়ের কারণ লিখে, নথী পর্যালোচনা করে অনেক বাড়তি কথা বা অনেক সময়  মিথ্যা,বানোয়াট গাল-গল্পের মাঝে সত্য বের করে – তার আইনগত এখতিয়ার ব্যবহার করে জামিন হয়তো দিলেন না হয় না-মঞ্জুর করলেন।  দিলে উকিল সাহেব, বিচারপ্রার্থী  খুশি। না দিলে নাখোশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। অনেক সময় বলতে শোনা যায়-  ‘ জজ সাহেব কিছু বুঝেননা’।    পুরা নথী পড়ে- বিশ্লেষণ করে – জামিন দেন বিচারক। ফি নেন আইনজীবী। বিচারক সরকারী বেতন পান। আইনজীবীর  ফি’র কোনো লিমিট নাই।  অনেক সময় জামিন শুনানির  আগেই  ফি দিয়ে দিতে হয়। জামিন পেলে আগে দেওয়া টাকার সাথে কিছু আরো দেবার দাবী  জানানো হয় – আর জামিন না পেলে পূর্বের টাকা কী রিফান্ড? এমন কখনো শুনিনি। এই প্র্যাকটিস নাই।

এখন বলতে গেলে  প্রকৃত আইনজীবীগণের ব্যাপক আকাল। আছেন উনারা। কিন্তু অত্যন্ত নগণ্য সংখ্যায়। কোর্টের আশেপাশে  জামিনজীবী, টাউট, জামিন-দালালে ভরা। অনেক সময় বার থেকে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় আবার অনেক সময় অদৃশ্য কারনে বারগুলো নিরব থাকে।  দেওয়ানী মামলাতো আরো খারাপ অবস্থায় – যেখানে ২০ ডেটে মামলা শেষ হবার কথা সেখানে – সময়ের দরখাস্ত দিয়ে দিয়ে – আর প্লিডিংস সংশোধন, অনর্থক আবেদন করে করে মামলা ১০০ প্লাস ডেটেও শেষ হচ্ছেনা। হিসাবটা খুব সহজ।  ডিম পাড়া হাঁসটা  যখন মাসে মাসে ডিম দেয় – তাহলে তাকে কেন দ্রুত শেষ করা! আবার এটিও  শুনেছি  যে – কোনো বিচারক একটু মানবিক হয়ে  –  এসব মামলা  আর ঘুরাতে না দিয়ে রায়ের জন্য নিয়ে গেলে তাতেও  বেজায় মন:কষ্ট অনেকের। মামলার দ্রুত নিস্পত্তিতে আমাদের আইনজীবীগণ আজ পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন বা কী কী  দাবী সরকারের কাছে উপস্থাপন করেছেন- তা জনগনের কাছে তুলে ধরা উচিত।

বিচার বিভাগ চলে পাবলিক কনফিডেন্সের উপর ভর করে। আর উকিল-জজের সম্পর্ক দাঁড়িয়ে থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মানের উপর।  সম্মান জিনিসটা দুই পক্ষ থেকে আসা উচিত।

বিচারক যেমন আইনজীবীদের একোমোডেশন দেবেন তেমনি আইনজীবীরা বিচারক, কোর্টের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মানবোধ বজায় রাখবেন। জানি-আইনজীবীরা অনেক কোর্টে ব্যস্ত থাকেন অনেক মামলা থাকে – থাকতেই পারে।  এটা তার জীবিকা। বিচারকের জন্য এটা ব্যবসা বা জীবিকা না।  এটা বিচার কাজ। তিনি বিচারজীবী না; বিচারক।    রায়  আর আদেশ লিখতে হয় তাকে ।  উকিল সাহেব দিনে ৪,৫ টা  মামলার শুনিনি করেন  – সেখানে কোনো কোনো জজ/  ম্যাজিস্ট্রেট কে ৮০ প্লাস মামলার রায়, আদেশ দেওয়া লাগে। যেই উপজেলার কোর্ট সেই উপজেলায় হলে এই সমস্যা অনেক লাঘব হত। কিন্তু এক অদ্ভুত নিয়ম হল এই দেশে – সব উপজেলার  কোর্ট – ঐ উপজেলায় না হয়ে জেলা সদরে অবস্থিত। ফলে দূর দূরান্তের উপজেলা থেকে হাজিরা দিতে একজন বিচারপ্রার্থী, সাক্ষীকে জেলা সদরে আসতে হয়। ফলে এক জন আইনজীবী একাধিক উপজেলার কোর্টে শুনানি করার সুযোগ পান।  ১৭ কোটি জনগণ ১৫ শত বিচারক। এর মধ্যে ১২০০ এর মতন কোর্টে বাকিরা ডেপুটেশনে। এই স্বল্প সংখ্যক বিচারক নিয়েও বিচারবিভাগ মামলা নিষ্পত্তিতে পূর্বের চেয়ে ভালো  অবস্থানে আছে। বিচার বিভাগের নানা অপ্রাপ্তি আছে। কিন্তু এক অজানা কারনে আমাদের আইনজীবীরা বিচারবিভাগের অপ্রাপ্তির বিষয়গুলো সঠিক ফোরামে তুলে আনেন না।

বিচারক অপেশাদার কিছু করলে – তার জন্য যেমন ফোরাম আছে – উকিল সাবেহের জন্য ও আছে।  কিন্তু  কিছু হলেই কোর্টে তালা লাগিয়ে দেয়া গুরুতর অন্যায়। কোর্ট কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। কোর্ট রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। সকালে লাইভে শুনলাম আইনজীবীরা কোন এক বিচারকের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষায় স্লোগান দিচ্ছেন। মূল ঘটনা কি ঘটেছে টা কিন্তু দেশবাসী এখনো জানেনা। কারন যেই বিচারকের বিরুদ্ধে লক-আপে আটকে রাখার অভিযোগ তার আত্মপক্ষ সমর্থনে কোন বক্তব্য আমরা শুনিনি।   বিচারকের যেমন কোন আইনজীবীকে বিশৃঙ্খলার জন্য লক আপে পাঠানো উচিত হয়নি তেমনি বাকি কোর্টের বিচারকাজ  ব্যহত করে  কোর্টে গেটে তালা লাগিয়ে, বিচারপ্রার্থীদের হয়রানী বাড়িয়ে  রাজনৈতিক ক্যাডারের মতন স্লোগান দেয়াও আইনজীবীদের  উচিত হয়নি।  উভয়পক্ষ সর্বোচ্চ সহনশীলতা   দেখিয়ে বিচারপ্রার্থী জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন- এই আমাদের প্রত্যাশা।

 

শিক্ষার্থী,

 আইন বিভাগ, স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ