1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১২:২৮ অপরাহ্ন

ভার্চুয়াল আদালত,সংবিধান এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা

  • প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০
  • ৪২৪ বার পঠিত হয়েছে

বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের Supreme Court  চলছে Virtually। অর্থাৎ ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এই আদালত নিয়ে নানান বিতর্ক আছে আমাদের আইনজীবিদের মধ্যে। যেমন একদল Virtual Court এর পক্ষে, আরেকদল Actual Court চাইছে। আমি সেই বিতর্কে যাচ্ছি না। আমার মনে একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন জাগছে আর সে বিষয়ে আমার বন্ধু তালিকায় বিজ্ঞজনদের মতামত জানার জন্য এই লেখা।

সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগ, প্রথম পরিচ্ছেদের ৯৪ অনুচ্ছেদ দিয়ে শুরু করি। ৯৪ অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করিঃ

“৯৪। (১) “বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট” নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকিবে এবং আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ লইয়া তাহা গঠিত হইবে।

  (২) প্রধান বিচারপতি (যিনি “বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি” নামে অভিহিত হইবেন) এবং প্রত্যেক বিভাগে আসন গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি যেরূপ সংখ্যক বিচারক নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করিবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য বিচারক লইয়া সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হইবে।

  (৩) প্রধান বিচারপতি ও আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ কেবল উক্ত বিভাগে এবং অন্যান্য বিচারক কেবল হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করিবেন।

  (৪) এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারক বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন।“

ইংরেজি অনুবাদ হলোঃ

“94. (1) There shall be a Supreme Court for Bangladesh (to be known as the Supreme Court of Bangladesh) comprising the Appellate Division and the High Court Division.

  (2) The Supreme Court shall consist of the Chief Justice, to be known as the Chief Justice of Bangladesh, and such number of other Judges as the President may deem it necessary to appoint to each division.

  (3) The Chief Justice, and the Judges appointed to the Appellate Division, shall sit only in that division, and the other Judges shall sit only in the High Court Division.

  (4) Subject to the provisions of this Constitution the Chief Justice and the other Judges shall be independent in the exercise of their judicial functions.”

৯৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মাননীয় প্রধান বিচারপতি এবং আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকেরা ছাড়া বাকী সকল বিচারক হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করবেন।

এবার আরেকটি অনুচ্ছেদের দিকে তাকাই। অনুচ্ছেদ ১০৭, সুপ্রীম কোর্টের বিধি প্রনয়ন করার ক্ষমতা দিচ্ছে। এর মাঝে অনুচ্ছেদ ১০৭ একবার দেখে নেই,

“১০৭। (১) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন-সাপেক্ষে সুপ্রীম কোর্ট রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লইয়া প্রত্যেক বিভাগের এবং অধঃস্তন যে কোন আদালতের রীতি ও পদ্ধতি-নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিতে পারিবেন।

  (২) সুপ্রীম কোর্ট এই অনুচ্ছেদের (১) দফা এবং এই সংবিধানের ১১৩ ও ১১৬ অনুচ্ছেদের অধীন দায়িত্বসমূহের ভার উক্ত আদালতের কোন একটি বিভাগকে কিংবা এক বা একাধিক বিচারককে অর্পণ করিতে পারিবেন।

  (৩) এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিসমূহ-সাপেক্ষে কোন্ কোন্ বিচারককে লইয়া কোন্ বিভাগের কোন্ বেঞ্চ গঠিত হইবে এবং কোন্ কোন্ বিচারক কোন্ উদ্দেশ্যে আসন গ্রহণ করিবেন, তাহা প্রধান বিচারপতি নির্ধারণ করিবেন।

  (৪) প্রধান বিচারপতি সুপ্রীম কোর্টের যে কোন বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারককে সেই বিভাগে এই অনুচ্ছেদের (৩) দফা কিংবা এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিসমূহ-দ্বারা অর্পিত যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ভার প্রদান করিতে পারিবেন।“

ইংরেজি অনুবাদঃ

107. (1) Subject to any law made by Parliament the Supreme Court may, with the approval of the President, make rules for regulating the practice and procedure of each division of the Supreme Court and of any court subordinate to it.

(2) The Supreme Court may delegate any of its functions under clause (1) and article 113 and 116 to a division of that Court or to one or more judges.

(3) Subject to any rules made under this article the Chief Justice shall determine which judges are to constitute any Bench of a division of the Supreme Court and which judges are to sit for any purpose.

(4) The Chief Justice may authorise the next most senior judge of either division of the Supreme Court to exercise in that division any of the powers conferred by clause (3) or by rules made under this article.

এখানে বিশেষভাবে সবাইকে ১০৭(৩) অনুচ্ছেদ পড়তে বলছি। মাননীয় প্রধান বিচারপতি বিধি সাপেক্ষে বিভিন্ন বিচারকদের নিয়ে বেঞ্চ গঠন করবেন আর তাদের অধিক্ষেত্র মানে Jurisdiction নির্ধারন করে দিতে পারবেন।

১০ মে, সীমিত আকারে স্বল্প সংখ্যক বেঞ্চ দিয়ে Gazette করে Virtual আদালত খোলা হলো। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম যে, আদালত খোলা হলো বলে, কারন রাষ্ট্রযন্ত্র তার একটি অংশ বাদ দিয়ে চলতে পারেনা এবং আদালত এর বিচারিক কার্যক্রম ছোট করে হলেও শুরু হলো।

এরপর ৩১শে মে এরপর যখন সরকার সাধারন ছুটি থেকে সরে এল, তখন আমি দেখলাম যে, সেই একই রকমের সীমিত আকারেই Virtual আদালত চলছে। মাননীয় প্রধান বিচারপতি দু’ একটি বেঞ্চ বাড়িয়ে দিলেন, কিন্তু সীমিত আকারেই এখনো চলছে।

অবস্থাটা এখন মনে হচ্ছে যে, অন্যান্য বছর যখন Court, Vacation এ যায়, তখন যেমন ভ্যাকেশন কোর্ট বসে তেমন। এখনকার তরুন আইনজীবিরা দেখেননি হয়তো, কিন্তু আমরা দেখেছি যে আগে একক বেঞ্চ ভ্যাকেশনে বসতো, আর তাদের দেওয়া আদেশ, রেগুলার কোর্ট খুললে আমরা কনফার্ম করে নিতাম, যেমনটি এখন করা হবে বলে বলা হয়েছে।

আমার যেটা প্রশ্ন, তা হল, ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমাদের বিচারকেরা সাংবিধানিকভাবে শপথ নিয়েছেন হাই কোর্টে আসন গ্রহণ করার। অর্থাৎ তারা সংবিধান অনুযায়ী তাদের কাজ করতে বাধ্য। কিন্ত সাধারন ছুটি শেষ হবার পরও তারা অনেকেই বসছেন না কারন প্রধান বিচারপতি তাদের কোন বেঞ্চ দেননি। কার্যত তারা ছুটিতে রয়েছেন বলে মনে হলেও সেরকম কোন ঘোষনা আমার চোখে পড়েনি।

অন্যদিকে ১০৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়, বিচারপতিদের সমন্বয়ে বেঞ্চ গঠন করবেন আর তাঁদের অধিক্ষেত্র নির্ধারন করবেন। একটু খেয়াল করে দেখবেন যে, অনুচ্ছেদের ভাষাতে “করিতে পারিবেন” না বলে বলা হয়েছে “করিবেন” অর্থাৎ বাধ্যতামূলকভাবে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এর মাধ্যমে সকল বিচারকদের দায়িত্বপালনের ইঙ্গিত রয়েছে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়।

এখন, তাহলে প্রশ্ন এই যে, স্বল্প সংখ্যক বেঞ্চ দিয়ে Virtual Court চালানোটা কতটা সংবিধান সম্মত? যেখানে আমাদের সকল বিচারকেরা সংবিধান অনুযায়ী কোর্টে আসন গ্রহন করতে বাধ্য, তখন কেন তাদের সবাইকে Virtual কোর্টের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না?

তাহলে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় কি এই অল্প কয়টি বেঞ্চ গঠন করে পারেন বাকি বিচারপতিদের তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব অর্থাৎ বিচারিক কার্যক্রম থেকে থেকে দূরে রাখতে? অর্থাৎ এই পরোক্ষ নির্দেশনার কারনে কি আমাদের বিচারপতিরা তাদের শপথচূত্য হচ্ছেন? নাকি এখন কোন ঘোষনা ছাড়াই Vacation Court চলছে? না কি আমাদের বেশিরভাগ বিচারপতি এখন ছুটিতে আছেন?

মাননীয় প্রধান বিচারপতি কেন, এই অল্প সংখ্যক আদালত চালু রেখেছেন? যেখানে লক্ষ লক্ষ মামলা বিচারাধীন, সেখানে আমরা কিন্তু Virtual কোর্ট এ শুধু মোশন না করে, শুনানীও করতে পারি এবং অনেক মামলা শেষ করতে পারি। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি যে, Virtual কোর্টে, Actual আদালতের তুলনায় তাড়াতাড়ি মামলার শুনানি হয়, At least মোশনের ক্ষেত্রে।

আমি নিজে খুব একটা বেশি জানি না, আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে মনে হয় যে, সব বিচারপতি কে বেঞ্চ দিয়ে এ মুহুর্তে Virtual কোর্ট খুলে দেওয়া বোধহয় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মাঝে পড়ে। বিজ্ঞ বন্ধুরা আপনাদের মতামত, দিবেন কি?

ব্যারিস্টার অনিক আর হক

আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ