1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

মালিকানা নির্ধারণের বিচার নিষ্পত্তিতে কি পূর্বের রেকর্ড ‘মৃত’ হতে পারে?

  • প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, ১ মে, ২০২০
  • ১৫৩ বার পঠিত হয়েছে

রাজীব কুমার দেব ||

আমাদের দেওয়ানী বিচার ব্যবস্থায় Record of Rights বা সত্ত্বলিপি একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম যার সাক্ষ্যগত মূল্য বিচারিক নিষ্পত্তিতে অনন্য ভূমিকা রাখে। Bengal Tenancy Act, 1885 (BT Act) এবং State Acquisition and Tenancy Act, 1950 (SAT Act) সত্ত্বলিপি প্রস্তুততের উদ্দ্যেশ্যে জরিপের মাধ্যমে রেকর্ড প্রস্তুতের বিধান করেছিল। এখন প্রশ্ন আসতে পারে- তাহলে কি পূর্বের রেকর্ড ‘মৃত’?

এই প্রশ্নের সমর্থণে যুক্তি দেখানো হয় যেহেতু SAT Act এর মাধ্যমে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে Existing প্রজার কাছে স্বত্ত্ব চলে গিয়েছে এবং এই আইনের অধীনেই তার স্বত্ত্বলিপি প্রস্তুত পূর্বক চূড়ান্ত খতিয়ান প্রচারিত আছে, তাহলে পূর্বের রেকর্ড কি প্রয়োজন? আরো যুক্তি দেখানো হয় যে যেহেতু বর্তমান রেকর্ডের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ, জমি বিক্রয় সহ সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে, সেহেতু পূর্বের রেকর্ড প্রয়োজন নেই।

ভূমি জরিপের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ১৮৮৫ সালের পূর্বে ভূমি জরিপের মাধ্যমে স্বত্বলিপি প্রস্তুতকরণের কোন সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না। তখন পূর্ব বংগে মঘি জড়িপ (১৮৩২-১৮৪৮), থাকবাস্ট জড়ীপ(১৮৪৬-১৮৭২), রাজস্ব জড়ীপ (১৮৪৬-১৮৭৮), দিয়ারা জরিপ (১৮৭১-১৮৭৮) পরিচালিত হলেও এ সকল জরিপ দিয়ে কোন স্বত্বলিপি প্রস্তুত করা হয়নি।

বাংলাদেশে জরিপ সংক্রান্তে Survey Act, 1875, Bengal Tenancy Act, 1885, ১৯৩৩ সালের Standard Rules Regarding the Revisions l Settlement Operation in Bengal, Sylhet Tenancy Act, 1936, The Bengal Land Revenue Commission (ফ্লাউড কমিশন) এর সুপারিশ, ১৯৪৪ সালে গঠিত The Bengal Administrative Inquiry Committee এর প্রতিবেদন, The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 প্রচলিত ছিল ও কার্যকর আছে।

১৮৮৫ সালে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ণের মাধ্যমে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকৃত ও অস্থায়ী বন্দোবস্তকৃত সকল জমির স্বত্বলিপি (Record of Rights) প্রস্তুত করার বিধান রাখা হয়। এ আইনের ১০ম অধ্যায়ে বিস্তারিত মৌজাওয়ারী প্লটভিত্তিক জড়িপ শেষে নকশা প্রস্তুত ও স্বত্বলিপি প্রণয়ন করার কথা বলা আছে। সার্ভে আইন, ১৮৭৫ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫ অনুসারে ১৮৮৮ সাল হতে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতিত ১৬ টি জেলায় Cadestral Survey (CS) কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে সর্বপ্রথম কক্সবাজারের রামু থানায় এবং সর্বশেষে দিনারপুরে এই জরিপ পরিচালনা করা হয় যা সি এস জরিপ নামে পরিচিত। দু’টি পর্যায়ে Cadestral Survey (CS) কার্যক্রম পরিচালিত হয় – প্রথমত জমির অবস্থান, আয়তন ইত্যাদি সম্বলিত মৌজা ভিত্তিক নকশা প্রণয়ন এবং দ্বিতীয়ত জমির মালিকানা, পরিমাণ ও শ্রেণী উল্লেখপূর্বক স্বত্বলিপি প্রণয়ন করা।

আবার কোন কোন জেলায় জমিদারদের আবেদনের ভিত্তিতে সরকারি নিয়মে District Settlement (DS) পরিচালনা করা হয়। সিলেট জেলা এই জরিপের আওতাভূক্ত না থাকলেও Sylhet Tenancy Act, 1936 অনুসারে ক্যাডেস্ট্রাল পদ্ধতি প্রয়োগ করে (১৯৫০-১৯৬৪) এস এ নকশা ও জরিপ প্রস্তুত করা হয়।

উল্লেখ্য ৫৩ বছর ধরে সি এস জরিপ চলাকালীন সময়ে ভূমির প্রকৃতি, মালিকানা ইত্যাদির প্রভূত পরিবর্তন সাধিত হওয়ার কারণে সূচিত পরিবর্তন হালকরণের উদ্দ্যেশ্যে নতুন করে সংশোধনী জরিপ করা হয় আর এ জরিপ Revisional Survey (RS) হিসেবে পরিচিত। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে ১৯২৩-১৯৩৩ এবং সাবেক বাযেরগঞ্জে ১৯৪০-১৯৪২ সালে RS (সংশোধনী জরিপ) পরিচালনা করা হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সি এস জরিপে প্রণীত খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপের ভিত্তিতে মালিকানা বা দখলের পরিবর্তন হেতু সংশোধনীসহ আর এস খতিয়ান প্রণীত হয়। উল্লেখ্য মালিকানা পরিবর্তিত হলে পূর্বের নকশায় দাগের পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে পয়স্থিজনিত কারণে জমির শ্রেণী পরিবর্তিত হলে সে সব স্থানে ক্যাডেস্ট্রাল পদ্ধতির মাধ্যমে নতুন নকশা প্রণীত হয়েছে।

প্রস্ততকৃত সি এস ও আর এস জরিপের বৈশিস্ট্যসমূহ বা Evidentiary value নিন্মরুপ –

১। ক্যাডেস্ট্রেল পদ্ধতি ব্যবহার করে সি এস নকশা ও রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়েছে।

২। সি এস নকশার সাথে মিল রেখে পরিবর্তিত মালিকানা ও দখল উল্লেখ সহ আর এস খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়েছে।

৩। BT Act এর বিধান অনুসারে উভয় খতিয়ান স্বত্বলিপি (Record of Rights) পদমর্যাদা পেয়েছে।

৪। উভয় খতিয়ানে জমির অবস্থান, আয়তন ইত্যাদি সম্বলিত মৌজা ভিত্তিক নকশার বিবরণ এবং জমির মালিকানা, পরিমাণ ও শ্রেণী ও প্লটভিত্তিক মালিকানা উল্লেখ আছে।

৫। এখানে জমিদার/ তালুকদার ও রায়তের নাম উল্লেখপূর্বক মালিকানা ও পরিশোধযোগ্য খাজনার পরিমান উল্লেখ আছে।

৬। ক্যাডেস্ট্রাল পদ্ধতিতে প্রস্তত হওয়ায় প্রণীত নকশা ও খতিয়ানের গ্রহণযোগ্যতা বেশি।

১৯৩৮ সালে গঠিত The Bengal Land Revenue Commission (ফ্লাউড কমিশন) এর সুপারিশ এবং ১৯৪৪ সালে গঠিত The Bengal Administrative Inquiry Committee এর প্রতিবেদন অনুসারে The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 প্রণীত হয় এবং ১৯৫৬ সালে কার্যকর হয়। এ আইনের অনুবলে ১৯৫৬ সালের ১৪ই এপ্রিল State Acquisition Record (SA) প্রণয়নের কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত চলমান থাকে। এই রেকর্ড সি এস বা আর এস এর মত ক্যাডেস্ট্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করে নতুনভাবে প্রস্তুতকৃত ও প্রণয়নকৃত কোন রেকর্ড নয় শুধুমাত্র রেকর্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করে প্রজাদের কে সরাসরি সরকারের অধীনে মালিকে পরিণত করা হয়। এ আইনের মাধ্যমে রায়তের নাম, জমির পরিমাণ, খাজনার পরিমাণ ইত্যাদির বিবরণ উল্লেখ করে তালিকা সম্বলিত খতিয়ান হিসেবে গণ্য করে কালেক্টার বরাবরে প্রেরণ করা হয় এগুলো প্রাথমিক এস এ খতিয়ান বা এম আর আর (Modified Record of Rights) বা পি আর আর (Provisional Record of Rights) হিসেবে পরিচিত। তবে বিভিন্ন কারণে চূড়ান্ত এস এ খতিয়ান কার্যক্রম এগুয়ইনি।

এস এ খাতিয়ানের বৈশিস্ট্য বা Evidentiary value নিন্মরুপ:-

১। শুধ রেকর্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে জমিদারি প্রথার বিলুপ্ত করে প্রজা বা অধিনস্তরা জমিদারের বদলে সরকার কে খাজনা দিবেন।

২। সাবেক নকশা বহাল রেখে এস এ খতিয়ান প্রস্তুত হয় ফলে সরেজমিনের সংগে মিল রেখে এই খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় নি।

৩। তাড়াহুড়োয় প্রণীত এবং রেকর্ডে ভূলের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।

৪। এই জরিপ সংশীধনী জরিপের মত পুংখানুপুংখভাবে সরেজমিনে জরিপ ছিল না।

৫। জমিদারি অধিগ্রহণের প্রয়োজনে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে জমিদার দের কাছ থেকে প্রাপ্ত সি এস জরিপের কাগজপত্রের উপর ভিত্তি করে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং প্রতিটি খতিয়ানের মাত্র তিনটি কপি তিনটি স্থানে – জেলা রেকর্ড রুম, সার্কেল ও তহসিলদার অফিসে সরবরাহ করা হয়েছিল।

৬। বিবাদপূর্ণ কিছু কিছু এলাকায় নকশা প্রণয়ন ছাড়া অন্য সকল ক্ষেত্রে সি এস নকশা অনুসারেই এস এ প্রস্তুত করা হয়।

৭। অনেক খতিয়ানে প্রজাদের হিস্যা না থাকায় যৌথ খতিয়ানে মালিকানা ও দখলগত বিরোধ বেড়ে যায়।

৮। এখানে প্লট টু প্লট সার্ভে করা হয়নি।

৯। সরজমিনে জরিপের মাধ্যমে পরিমাপ করে নকশা প্রণয়ন নকশা ও রেকর্ড প্রণয়ন করা সময়সাপেক্ষ ছিল বিধায় সাবেক নকশা বহাল রেখে রেকর্ড পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

১০। জমিদারের নিকট হতে প্রাপ্ত কাগজ দিয়েও কিছু কিছু জায়গায় নকশা, রেকর্ড ও মুদ্রণ হয়েছিল।

১১। সিলেট ও বরিশাল জেলায় মুদ্রণ ছাড়া অন্যান্য জেলায় হাতে লেখা খতিয়ান ই চূড়ান্ত করা হয়।

তবে ঢাকা সহ কিছু পৌর এলাকায় ক্যাডেস্ট্র্যাল জরিপের মাধ্যমে নকশা ও রেকর্ড করা হলেও এস এ জরিপের বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তদপরর্তীতে সরকার ভূমি রাজস্ব প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং এই কমিটি তদন্তে এস এ খতিয়ান বিষয়ে ভূলভ্রান্তি পেলে এস এ খতিয়ান সংশোধনের জন্য সুপারিশ করে।

SAT Act এর ১৪৪(১) ধারা অনুসারে ১৯৩৩ সালের Standard Rules Regarding the Revisions l Settlement Operation in Bangle জারী করেন এবং ৭৯ ধারা মোতাবেক খতিয়ান হালনাগাত করণের উদ্দ্যেশ্যে সংশোধনী কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে ঢাকা ও রাজশাহীতে শুরু এবং ১৯৭৮-৯৭ সালে ময়মনসিংহ ও জামালপুর শেষ হয়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সহ অন্যান্য জেলায় জরিপের মাধ্যমে বি এস খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। আর এস ও বি এস খতিয়ান এস এ খতিয়ানের রিভিশন মাত্র। তবে প্লট টু প্লট জরিপের মাধ্যমে আর এস/ বি এসএস খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।

Chronological record of right এর Evidentiary value নিয়ে মত কয়েকটি উচ্চাদালতের সিদ্ধান্তও দেখা যাক :-

(1) It is already noted that after final publication of a record of rights and revised record of rights, every entry in such record of rights shall be presumed to be correct until such preparation is proved by evidence to be correct… 61 DLR HCD 18

(2) A finally published record if rights revised under section 144A of the SAT Act has presumption of correctness and that presumption continues till it is otherwise rebutted by reliable evidence…. 59 DLR 186

(3) the case of Abdul Hafez and another Vs. Lal Meah and others14the court discussed regarding Presumption of correctness of record of rights which are as follows: “In the case reported in 30 DLR (AD) 81 it is held that according to section 103 B (5) of the Bengal Tenancy Act every entry in a record of right finally published shall be evidence of the matter referred to in such entry and shall be presumed to be correct until it is proved to be incorrect.

(4) In 33 DLR (HC) it is held that the presumption of correctness as available on the strength of section 103 B (5) of the Bengal Tenancy Act has got to be rebutted by the person who alleges it. In the light of proposition of law enunciated in the Appellate Division case reported in 30 DLR (AD) 81 the RS Khatian in the present case of presumption of its correctness until proved to be incorrect and in view of the decisions in 33 DLR (HC) 126 the onus is on the plaintiffs to rebut the presumption of the correctness”.

(5) the said case enumerates that every entry in a record of right shall be presumed to be correct until it is proved to be incorrect. The presumption of correctness with regard to S.A. Khatian does not arise; it is available in the case of in the case of C.S. or R.S Khatian or recent Khatians… Mohammad Towhidul Islam, Land Law: Text, Cases & Material (Second Edition, 2018), 95.

(6) The record of rights is presumed to indicate the correct state of affairs as at the date of the final publication of the said record… Mvi. Abdus Sobhan Chowdhury & Others Vs. Fazlur Rahman Chowdhury and others 9 DLR (1957) 467

(7) Record of rights can be an evidence to support title…. 62 CLJ 10

(8) Section 103 of The Bengal Tenancy Act, 1885 enunciates that, CS Khatian does have an evidentiary value of correctness. But SA Khatian does not have any evidentiary value of correctness as no plot to plot survey conducted for preparing this Khatian…. Mohammad Towhidul Islam, Land Law: Text, Cases & Material (Second Edition, 2018), 77.

(9) Onus of proving lies on the person who alleges that possession has been wrongly recorded in C.S. Khatian…. Azhar Bepari Vs. Abdul Aziz Gazi 22 DLR (1970) 36

উল্লেখ্য SAT Act এর ১৭ ধারায় উল্লিখিত “Revision of Record of Rights” ও ১৪৪ ক ধারায় উল্লিখিত “Presumption as to correctness of Records of Rights” নীতি Chronology as to Records of Rights এর Evidentiary value কে ইংগিত করে। আমাদের দেওয়ানী বিচারিক চর্চায় Contrary evidence না আসা অবধি সি এস / আর এস খতিয়ান কে mother খতিয়ান হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে record of right chronology শুরু করা হয়। বর্ণিত বিশ্লেষণ থেকে জানা যায় যে আর এস খতিয়ান হচ্ছে সি এস এর Revision এবং সর্বশেষ পাবলিকেশন হচ্ছে এস এ / পি এস / এম আর আর এর Revision. আবার Final publication of Record and Revision of Record দুইটিই প্রশাসনিক আদেশ এবং Revision হলেই Final Publication বাতিল হবে বা মৃত হয়ে যাবে এমন বিচারিক চর্চ্চা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক্ষ বাধা হতে পারে। সুতরাং সকল রেকর্ডের বৈশিস্ট্যগত মূল্য, presumption বিষয়ে আইনি অবস্থান এবং record chronology এর Evidentiary value বিবেচনায় কখনোই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত হবে না। অর্থাৎ প্রশাসনিক কার্যাবলী বিষয়ে conclusive decision না নিয়ে অথবা Revision এর পর পূর্বের রেকর্ড মৃত না ভেবে বা deadline টেনে না দিয়ে chronology as to record of rights এর evidentiary value পর্যালোচনায় বিচারিক পর্যালোচনার space রাখা উচিত। পরিশেষে মোখলেস ভাইয়ের স্ট্যাটাসে বর্ণিত গল্পটি যেমন সত্য, বিচারিক দিকনির্দেশনামূলক মতামতও সত্য তবে পূর্বের Record of Rights এর Evidentiary value কে অস্বীকার করে বা মৃত ভেবে নয়।

উপরোক্ত আলোচনায় কিছু ফাইন্ডিংস দাঁড় করানো যায় – ১। SAT Act এর ১৭ ও ১৪৪ ক ধারা এবং উচ্চাদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত BT Act অধীনে প্রস্তুতকৃত চূড়ান্ত ও রিভাইজড রেকর্ড কে স্বীকৃতি সহ Evidentiary value দিয়েছে।

২। SAT Act ১৯৫৬ সালে কার্যকর হয় এবং এই আইন অনুবলে প্রস্ততকৃত এস এ নকশা প্রকৃত জরিপ ভিত্তিতে না হওয়ায় এবং অন্যান্য কারণ বিবেচনায় এটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় ক্যাডেস্ট্রাল পদ্ধতির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য পূর্ববর্তী রেকর্ড তথা সি এস ও আর এর evidentiary value বিচারিক বিবেচনায় চলে আসে।

৩। একটি প্রশ্নবিদ্ধ এস এ (সিলেট জেলা বাদে) কে SAT Act এর ৩ ধারার বিধান বিবেচনায় “জমিদার উচ্চেদ হয়েছে” বিবেচনায় নিলে বিচারিক বিভ্রান্তি থেকে যাবে। কারণ আমরা তো জমিদারের সত্ত্ব নয় প্রজার স্বত্ত্ব বিবেচনা করছি। পূর্ব রেকর্ডে প্রজার অবস্থান আর এস এ রেকর্ডে নতুন প্রজার অবস্থান – কোনটি বিশ্বাসযোগ্য তা উপস্থাপিত মালিকানা কাগজাদি দেখেই বিচারিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা যদি পূর্বের রেকর্ড কে মৃত বলে ধরে নিই বিচারিক বিভ্রান্তই হবে অন্য কিছু নয়।

৪। পূর্বের রেকর্ড কে মৃত হিসেবে ধরে নেওয়ার কোন আইন আছে কিনা আমার জানা নাই। যদি SAT Act ১৭ ধারায় Revision শব্দ ব্যবহার করার কারণে Final publication কে মৃত হিসেবে মনে করা হয় তাহলে কিছু বলার নাই।

৫। কোন বটম লাইন / ডেড লাইন দিয়ে বিচারিক নিষ্পত্তি বিবেচনা করা উচিত নয় তাতে বিচারিক বাধা তৈরি হবে।

৬। পূর্বের রেকর্ড ও বর্তমানের রেকর্ড দুইটি প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং কোনটি বেশি গ্রহণযোগ্য তা বিচারিক বিবেচনার উপর ছেড়ে দেয়া উচিত কোন প্রশাসনিক বটম লাইনের উপর নয়। দাখিলীয় কাগজাদি বিবেচনায় পূর্বের বা বর্তমানের রেকর্ড কোনটি বেশি গ্রহণযোগ্য তা বিচারিক বিবেচনার উপর ছেড়ে উচিত না হলে বিচারিক ঝুকি থেকে যাবে।

৭। পূর্বের রেকর্ড কে মৃত হিসেবে নিলে বিচারিক নিষ্পত্তি অনিস্পন্ন থেকে যাবে। আমি বলছি না পূর্বের রেকর্ড কে টাইটেলের ভিত্তি হিসেবে নিতে contrary evidence না আসা পর্যন্ত পূর্বের রেকর্ডে Evidentiary value বিবেচনার দাবি রাখে।

৮। সর্বোপরি BT Act ও SAT Act এর মাধ্যমে প্রস্তুতকরণ রেকর্ডগুলোত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বৈশিস্ট্যগত Evidentiary value কে অস্বীকার করলে Claimant with better title কে অস্বীকারের সামিল হবে। প্রকারান্তরে প্রশাসনিক কার্যক্রমের উপর বিচারিক নিষ্পত্তির নির্ভরতার সামিল হবে।

পরিশেষে পূর্ববর্তী রেকর্ড কে ‘মৃত’ হিসেবে না ভেবে এর Evidentiary value কে বিচারিক বিবেচনায় নিয়ে মালিকানার প্রশ্ন নিষ্পত্তি করলে একদিকে যেমন Claimant with better title এর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাবে অপরদিকে তেমনি Claimant with clouded title কে হঠিয়ে দেয়া যাবে।

লেখক: সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কক্সবাজার।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ