1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন

মৃতদেহের সাথে যৌনকর্ম কি শুধুই শাস্তিবিহীন অধর্ম?

  • প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৬১৪ বার পঠিত হয়েছে

সম্প্রতি মর্গের এক ডোম/ডোমের আত্মীয় কর্তৃক মৃতদেহের সাথে যৌনকর্মের খবরে একদিকে যেমন অনেকের গা শিউরে উঠেছে অপরদিকে এক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে – এরুপ জঘন্য কাজের কি সাজা নেই?

অপরাধমূলক যৌনকর্ম নিয়ে The Penal Code, 1860 এর ৩৭৫, ৩৭৬ ও ৩৭৭ ধারায় বলা আছে এবং ৩৭৬ ও ৩৭৭ ধারায় শাস্তির বিধান আছে। তবে ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের যে সংজ্ঞা দেয়া আছে তার জন্য ভিকটিমকে অবশ্যই একজন নারী হতে হবে। আবার  ৩৭৭ ধারার অপরাধের জন্য ভিকটিমকে অবশ্যই নারী/পুরুষ/পশু হতে হবে। আর হ্যাঁ, উভয় ধারার ক্ষেত্রেই নারী/পুরুষ/পশুকে(ক্ষেত্র মতো) জীবিত হতে হবে; মৃত নয়।

এখানে একটা যুক্তি দেয়া যেতে পারে যে – উক্ত ধারা দুটিতে বলা নেই a LIVING woman/man/animal. এটা ঠিক। কিন্তু  Penal Code  এর কোন ধারাতেই a LIVING woman/man বলা নেই। আর তাই woman/man/animal বলতে জীবিত নারী/পুরুষ/পশু বোঝানো হয়েছে। মূলত  Penal Code জীবিত নারী/পুরুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে, মৃত নারী/পুরুষের নয়। তাই man/woman বলতে অবশ্যই জীবিত ব্যক্তি বোঝাবে। তাছাড়া আমরা সকলেই জানি মৃত ব্যক্তির কোন ফৌজদারী দায় নেই। তাই LIVING শব্দটি না থাকার যুক্তিতে যদি Penal Code এ বর্ণিত man/woman শব্দ দ্বারা মৃত ব্যক্তিও বোঝানোর চেষ্টা করা হয় তাহলে এটা শুধু victim নয়  accused person এর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতে হবে আর সেক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিও ফৌজদারী দায় এর আওতায় আসবে। বিষয়টি পরিস্কার করে বলি- ধরুণ জলিল একটি বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে এক নির্জন কক্ষে ধর্ষণ করে; কিন্তু লোকজন এই ঘটনা দেখে ফেলায় জলিল দৌড়ে পালাতে গিয়ে অসাবধানতা বশত একটি বাসের নীচে পড়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করে। এখন ধর্ষণের অপরাধে কি জলিলের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে? নিশ্চয়ই না। কিন্তু Penal Code এর ৩৭৫ ধারায় তো man বলা আছে, LIVING man বলা নেই। Penal Code এর অন্যান্য ধারায় Whoever বলা আছে যা man/woman উভয়কে বোঝায়; আবার সেখানেও LIVING বলা নেই। কাজেই Penal Code এর যেখানে man/woman/animal/whoerver বলা আছে, সেখানে জীবিত ব্যক্তি/প্রাণীর কথা বলা হয়েছে; অবশ্যই মৃতকে বোঝানো হয় নি।

Penal Code এর ১০ ধারায় পুরুষ/নারীর সংজ্ঞায় বলা আছে The word “man” denotes a male human being of any age; the word “woman” denotes a female human being of any age. অনাগত বা মৃত কোন ব্যক্তিরই বয়স থাকে না। মানুষ জন্মের আগে তার বয়স গণনা শুরু হয় না তাই মানুষের জন্মের দিনে তার বয়স ধরা হয় ১( এক) দিন। আবার মৃতদেহের নাম,পরিচয়, ঠিকানা থাকতে পারে কিন্তু বয়স কোনক্রমেই থাকে না। মৃত্যুর সাথে সাথেই তার বয়সের ঘড়ি থেমে যায় এবং তার বয়স গণনা শেষ হয়ে যায় আর তাই বলা হয় “মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৫০/৬০/৭০ বছর”। বিষয়গুলি বিবেচনায় নিয়েই অনাগত ব্যক্তি বোঝাতে Penal Code এ woman with child (Sec 312/314), মৃতদেহকে human corpse (Sec 297), আর মৃত ব্যক্তিকে deceased person (Sec. 499, Explanation-1) মর্মে অভিহিত করা হয়েছে। আবার যেহেতু মৃত ব্যক্তিকে (deceased person) আর মৃতদেহকে ( human corpse) বলা হয়েছে সেহেতু  এটা স্পষ্ট যে Penal Code এ man/woman/whoever শব্দ দ্বারা অবশ্যই জীবিত ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে; নাহলে এরুপ ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল না।

এটা ঠিক যে Penetration হলেই ধর্ষণ সম্পূর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু যত্রতত্র penetrate করলেই কি ধর্ষণ হবে? অবশ্যই না। তাহলে কোথায় Penetration হতে হবে? অবশ্যই নারীর শরীরে হতে হবে; আরও স্পষ্ট করে বললে বলতে হবে যে rape সংঘটিত হতে হলে penetration অবশ্যই নারী vagina তে হতে হবে। কাজেই যত্রতত্র এমনকি কোন মৃতদেহের শরীরে penetration করা ধর্ষণ নয়। তাছাড়াও ধর্ষণের সাথে সম্মতির সম্পর্ক ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। কারণ সম্মতি ছিল মর্মে প্রমাণ করা গেলে Penetration থাকলেও ধর্ষণ হবে না। কিন্তু মৃতদেহ সম্মতি দিতে পারে না হেতু এক্ষেত্রে সম্মতির প্রশ্ন অবান্তর। তাই শুধু Penetration কে ভিত্তি ধরে এরুপ ঘটনাকে ধর্ষণের ( Sec 375 of the Penal Code) আওতায় আনা যাবে না। এরই ধারাবাহিকতায় বলা যায় মৃতদেহের সাথে যৌনকর্ম Penal Code এর ৩৭৭ ধারার অপরাধ ( unnatural offence) নয়। কারণ এই ধারার অপকর্মের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত (voluntariness) বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু মৃতদেহ সম্মতি দিতে পারে না। আবার আগেই দেখানোর চেষ্টা করেছি আইনে মৃতদেহ কোন নারী/পুরুষ নয়; এটা শুধুই মৃতদেহ (human corpse)।

তাহলে কী মৃতদেহের কোন সম্মান আইনে নেই? অবশ্যই আছে এবং প্রশ্নের মধ্যেই উত্তরের ইংগিত আছে। পূর্বেই বলেছি Penal Code এর ২৯৭ ধারায় মৃতদেহকে human corpse মর্মে অভিহিত করা হয়েছে আর সেই ধারাতেই এই সমস্যার সমাধান আছে। মূলত মৃতদেহকে অসম্মান করা Penal Code এর ২৯৭ ধারায় অপরাধ। এই ধারাটি নিম্নরুপঃ 297. Trespassing on burial places, etc.:—WHOEVER, with the inten­tion of wounding the feelings of any person, or of insulting the religion of any person, or WITH THE KNOWLEDGE THAT THE FEELINGS OF ANY PERSON ARE LIKELY TO BE WOUNDED, or that the religion of any person is likely to be insulted thereby, commits any trespass in any place of worship or on any place of sepulchre, or any place set apart from the performance of funeral rites or as a depository for the remains of the dead, or OFFERS ANY INDIGNITY TO ANY HUMAN CORPSE, or causes disturbance to any persons assembled for the performance of funeral ceremonies, SHALL BE PUNISHED WITH IMPRISONMENT of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both. (শুধু capital letter গুলো পড়লেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়)।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে- মৃতদেহের অসম্মান হয় কীভাবে? এটা ঠিক যে Indignity to any human corpse বলতে কি বোঝায় তা আইনে বলা নেই। তবে সাধারণত কোন জীবিত ব্যক্তির জন্য যা অসম্মানজনক কোন মৃতদেহের জন্যও তা অসম্মানজনক; আবার কোন জীবিত ব্যক্তিকে যেভাবে সম্মান দেখানো হয় কোন মৃতদেহকেও সেভাবেই সম্মান দেখানো হয়( কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)। ধর্ষণের মাধ্যমে এর শিকার নারীকে চরম অবমাননা/অমর্যাদা করা হয়। কাজেই কোন মৃতদেহের সাথে যৌনকর্ম করলে তার মাধ্যমে অবশ্যই সেই মৃতদেহকে অসম্মান/অমর্যাদা করা হয়। আর এর মাধ্যমে অবশ্যই সেই মৃতদেহের আত্মীয়ের/যে কোন সুস্থ ব্যক্তির অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

বিধায় মৃতদেহের সাথে যৌনকর্ম শুধুই শাস্তিবিহীন অধর্ম নয় বরং The Penal Code, 1860 এর ২৯৭ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

লেখক:

মেহেদী হাসান মন্ডল

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ

দিনাজপুর।

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ