1. [email protected] : dalim :
  2. [email protected] : dalim1 :
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজকে যুক্তিতর্কের জাবেদা কপি প্রদানের নির্দেশ উচ্চ আদালতের ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিক কারাগারে ফখরুলসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ২১ নভেম্বর বিএনপি নেতা দুলুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা চলবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩১ অক্টোবর ৪৬০ কোটির মালিক কম্পিউটার অপারেটর নুরুল ফের রিমান্ডে ‘ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডি প্রতারক চক্রের লিডার’ ভুল চিকিৎসায় পুরুষত্বহীনতার অভিযোগ:২৪ ঘন্টার মধ্যে ওসিকে মামলা নেয়ার নির্দেশ দিলেন ম্যাজিষ্ট্রেট ফেনীর দাদনার খাল দখল ও দুষণের অভিযোগ:স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট ফেনীর দাদনার খাল দখল ও দুষণের অভিযোগ:স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট

মেডিয়েশন আন্দোলন : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

  • প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪০৮ বার পঠিত হয়েছে

আমরা জানি মামলায় জড়ানো থেকে জনগণকে নিবৃত্ত করা আর জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করা যাতে মামলার মধ্যে না জড়িয়ে পরে। সেটাই মেডিয়েশন।শান্তিপূর্ণ উপায়ে যেন নিজেদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ নিরসন করতে পারে এবং ভবিষ্যত যেন কোন বিরোধে না জড়ায়। শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ মীমাংসায় উদ্বুদ্ধকরণই মেডিয়েশন। অন্যভাবে বলা যায়, আদালতের বাইরে আপোষ ও মীমাংসা করতে মামলার দু’পক্ষকে উদ্বুদ্ধকরণই মেডিয়েশন। আর যিনি  উদ্বুদ্ধ করেন তিনি হলেন মেডিয়েটর।

বলার অপেক্ষা রাখে না বাংলাদেশের মত  দেশে মেডিয়েশন পদ্ধতি প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া সময়ের অনির্বার্ দাবিতে পরিণত হয়েছে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শতকরা ৮০ ভাগ মামলাই মেডিয়েশনের মাধ্যমে নিত্তি হয়। আদালতের বাইরে মামলা নিত্তি করতে চায় সেখানকার বিচারপ্রার্থীরা।

আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থায় ৩২ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত অসংখ্য মামলা ঝুলছে। প্রতিদিন যত মামলা ফাইল হচ্ছে, সেগুলো মাসে কিংবা বছরেও নিষ্পত্তি হচ্ছে না।   বিভিন্ন আইনে  মামলা নিস্পত্তিতে মেডিয়েশনের কথা  কথা বলা আছে, কিন্তু এর প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

তবে  বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে  মেডিয়েশনের সম্ভাবনা ও কার্যকারিতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেডিয়েশন সোসাইটি।

বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মেডিয়েশন বিষয়ে পদ্ধতিগতভাবে প্রশিক্ষিত করতে সংগঠনটি সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। মেডিয়েশনের  বাংলাদেশ মডেলের উদ্ভাবক হলেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী  অ্যাডভোকেট সমরেন্দ্র নাথ গোস্বামী।

বাংলাদেশে মেডিয়েশন আন্দোলন:  শুরুটা এত সহজ ছিলনা। অনেক আইনজীবী বন্ধু নাক সিঁটকিয়ে বলেছেন,বাংলাদেশে মেডিয়েশন দিয়ে কিছু হবেনা। সেই ২০০৪ সাল থেকে চেষ্টা করে এসেছি। বারবার আঘাত এসেছে। তবে কখনও ভেঙ্গে পড়েনি। প্রথম থেকেই আমি দৃঢ আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমি সবসময় বিশ্বাস করে এসেছি বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে একমাত্র মেডিয়েশন পদ্ধতিই বিচারব্যবস্থায় মামলাজট নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই মেডিয়েশন আন্দোলন।’কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশে মেডিয়েশন আন্দোলনের স্বপ্নদ্রষ্টা অ্যাডভোকেট সমরেন্দ্র নাথ গোস্বামী। যিনি আইনঅঙ্গনে এস এন গোস্বামী নামে পরিচিত।

মেডিয়েশন আন্দোলন শুরুর প্রেক্ষাপট বণর্না করতে গিয়ে এস এন গোস্বামী বলেন,১৯৭৪ সালে আমি যখন আইনপেশা শুরু করি  তখন থেকেই আমি লক্ষ্য করলাম সাধারণ মানুষের কিন্তু মামলার প্রতি অনীহা। এই অনীহার কারণ হচ্ছে, মামলার ফলে শত্রুতা বৃদ্ধি পায়,সামাজিক দিক হতে অন্যর কাছে  হেয় প্র্রতিপন্ন হতে হয়,ছোট হতে হয়। এ কারণে সাধারণ মানুষ চাই না মামলা হোক। নিজেরা কোন মামলা করুক এটাও চাইনা। কিন্তু বিভিন্ন কারণে যখন তারা মামলায় জড়ায়ে পরে।এ কারণে আমাদের দেশে দিনের পর দিন মামলাজট হুহু করে বেড়ে চলছে।

হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস করতে এসে যখন মামলারজট লক্ষ্য করি তখন বেশ কিছু দেশ ভ্রমণ করে দেখলাম ওই সমস্ত দেশে মামলাজট নিরসনে মেডিয়েশনকে বেশি গরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০০৪ সালে ইউসি ট্রায়ালে  মডেল ল যখন গ্রহণ করা হচ্ছে সেখানে আমি অঙ্গীকার করেছিলাম,বাংলাদেশে আমি চেষ্টা করবো এই মডেল ল টাকে কার্যকর করতে। মডেল ল’ টা কি ? মডেল ল হচ্ছে বিশ্বব্যাপী একটা সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে মামলাজট কমানোর পন্থা। শুধু মামলার জট বন্ধ করা না সেই সঙ্গে মামলার যে উৎস স্থল মানুষের মন সেটাকে পরিবর্তনের চেষ্টা করা।  আমরা জনগণকে বোঝাবো নিজেরা সহজে কোন মামলায় যাব না এবং অন্যকে উদ্ধুদ্ধ করবো মামলাতে যাতে কেউ না আসে।তাহলে সাধারণত মামলার উৎসস্থল বন্ধ হতে পারে। ভয় দেখিয়ে মামলা থেকে জনগণকে নিবৃত্ত করা যাবে না। সামাজিক ভাবে জনগণকে বোঝানো,দুটো বিরোধী পার্টিকে একত্রে বসায়ে সামাজিক ভাবে শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে নিজেদের বিরোধ নিজেরাই মিটমাট করতে পারে। সেটা জমি হতে পারে, ফ্যামিলি ডিসপুট হতে পারে। অর্থনৈতিক ডিসপুট হতে পারে। নিজের জীবনে এধরণের কাজ করে যখন সফল হয়েছি তখন কিছু আইনজীবী বন্ধুদের কাছে আলোচনা করলাম যে সেই মডেল ল’টাকে নিয়ে আমরা  প্রসিট করতে পারে কি না। সেখানে বারবার আঘাত এসেছে, অনেকে নাক সিটকায়েছেন। অনেক আইনজীবী বন্ধু বলেছেন মেডিয়েমন দিয়ে কোন কাজ হবে না। অনেক বাঁধা এসেছে।কিন্তু সেই আগে থেকেই আমার দৃঢ বিশ্বাস  বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে একমাত্র মেডিয়েশন পদ্ধতিই বিচারব্যবস্থায় মামলাজট নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন ভাল মেডিয়েটর। ভাল মেডিয়েটর তৈরির আকাঙ্খা থেকেই মেডিয়েশন আন্দোলনের যাত্রা।আমি মনে করি একজন ভাল মেডিয়েটর তাদের দ্বারা মেডিয়েশন আন্দোলন সফল হতে পারে। ২০০৪ সাল থেকে মেডিয়েশন আন্দোলনের সাথে জনগণকে সম্পৃক্ত করা, জনগণের মধ্যে একটা সচেতনতা সৃষ্টি  করার জন্য বাংলাদেশ ল’ জার্নাল পত্রিকায় এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোতে টিচার/ছাত্রদের একত্রিত করে মেডিয়েশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। মেডিয়েশন নিয়ে জনগণের সাথে মত বিনিময়,কিছু বিজ্ঞ আইনজীবীর মতামতও গ্রহণ করি। আলোচনার পর সবাই এটা স্বীকার করেছে যে একমাত্র মেডিয়েশনই বাংলাদেশে মামলার জট কমাতে পারে।বাংলাদেশকে শান্তি প্রিয় দেশ হিসেবে গড়তে অবদান রাখতে পারে। দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই প্রথম ২০১৬ সালে কিছু আইনজীবী বন্ধুদের নিয়ে মেডিয়েশন সোসাইটি শুরু করতে গিয়ে হোঁচট খায়। কিন্তু আমি থেমে থাকেনি,ভেঙ্গে পরেনি আমার লক্ষ্য ছিল অটুট্। পরে ২০১৭ সালের ৩১ মে  মেডিয়েশন সোসাইটির আনুষ্ঠানিক শুরু করতে সক্ষম হই।

মেডিয়েশন সোসাইটির আত্মপ্রকাশ : সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০১৭ সালে ৩১ মে আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেডিয়েশন সোসাইটি(বিমস)। সেদিন থেকেই একটি স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়। বিচারপতি দেলোয়ার হোসেন ও অ্যাডভোকেট এস এন গোস্বামীর প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটিতে কিছু উদ্যমী আইনজীবীকে রাখা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাপ্তাহিক-মাসিক বিভিন্ন কর্মশালা-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে বিমসের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের ও এর সাথে সম্পৃক্তদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত থাকে।এক পর্যায়ে সংগঠনকে আরো গতিশীল করার জন্য অ্যাডভোকেট এস এন গোস্বামীকে বিমসের সভাপতি ঘোষণা করা হয়।কাজ এগিয়ে যেতে থাকে। ২০১৭ সালের রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার। প্রথম বিশেষ কর্মশালাতেই চাটার্ড ইনস্টিটিউট অব আরবিট্রেটর্স (ইউকে)’র কোর্স ডিরেক্টর মি: ইনবাভিজান, চাটার্ড ইনস্টিটিউট অব আরবিট্রেটর্স ইউকের প্রশিক্ষক আনান্থ ম্যারাথিয়া, আন্তর্জাতিক মেডিয়েটর কে এস শর্মা প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত থেকে সবার নজর কাড়েন। প্রশিক্ষণ শেষে ২৮ জন ডেলিগেট কে তুলে দেওয়া হয় ‘অ্যাক্রিডিটেড মেডিয়েটর’ সনদ। ধারাবাহিক ভাবে হোটেল পূর্বানীতে আরো দুইটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।এসব প্রশিক্ষণ শেষে আরো ৫০ জনের মত আইনজীবী লাভ করেন ‘অ্যাক্রিডিটেড মেডিয়েটর’ সনদ।আইনজীবী মহলে ছড়িয়ে পরে মেডিয়েশন সোসাইটির নাম। অ্যাক্রিডিটেড মেডিয়েটরদের মধ্যে থেকে অনেকেই ভারতের কোচিন থেকে মেডিশনের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন।এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট এস এন গোস্বামী বলেন,‘আমরা তিনটা বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশের বাইরে থেকে ইন্টারন্যাশনাল  মেডিয়েটর,ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেটর্স দিয়ে অতি সামান্য টাকায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। যেটা বাইরে থেকে করতে গেলে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হতো। ভাল মানের মেডিয়েটর তৈরির কাজ অব্যাহত রেখেছি।কারণ একজন ভাল মেডিয়েটর একজন ভাল বিচারক হতে পারেন,একজন ভাল আইনজীবী হয়ে মামলা জট নিরসনে অবদান রাখতে পারেন।’

দেশে প্রথম আন্তর্জাতিক মেডিয়েশন সামিট: প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১৮ সালের ৩১ মে আন্তর্জাতিক সামিটের আয়োজন করেন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেডিয়েশন সোসাইটি(বিমস)। হোটেল পূর্বানীতে জমকালো এই আয়োজনের খবর ৪ মাস আগে থেকে বিভিন্ন পত্র/পত্রিকায় প্রচার হতে থাকে।দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত  আন্তর্জাতিক সামিটে এই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাছাইকৃত ৪ শতাধিক ডেলিগেট অংশগ্রহণ করেন।সামিটে ইন্টারন্যাশনাল মেডিয়েটর্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কেভিন ব্রাউন,ভারতের জাতীয় ইন্দিরা গান্ধী পুরুষ্কার প্রাপ্ত ও ইন্টারন্যাশনাল মেডিয়েশন ট্রেইনার পিভি রাজা গোপাল, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনার অন সলিডারিটি জিল কার্ল হারিস,ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব আরবিট্রেশন এন্ড মেডিয়েশনের সভাপতি অনিল জাভিয়ার,বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেডিয়েশন সোসাইটির চীফ ট্রেইনার ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল মেডিয়েটর কে এস শর্মা,ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেটর্স মি: ইনবাভিজান, কম্বোডিয়া সরকারের প্রতিনিধি মি. হুও ভিয়েসনা,বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেডিয়েশন সোসাইটির রিজওনাল ডিরেক্টর ইরাম মজিদ সহ প্রমুখ বিদেশী অতিথির উপস্থিতি  আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। অনুষ্টানে অংশগ্রহণকারী অনেক ডেলিগেটকে বলতে শোনা যায়,সামিটে এত বিদেশী অতিথির অংশগ্রহণ সত্যিই অকল্পনীয়,অভাবনীয়। পরের দিন সামিটের খবর বিভিন্ন প্রিন্ট,ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হয়। বাংলাদেশে প্রথম ইন্টারন্যাশনাল সামিট অনুষ্ঠিত, মধ্যস্থতা বিষয়ক প্রথম সম্মেলন বাংলাদেশে’ এ ধরণের শিরোনামে প্রকাশিত সামিটের নিউজ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যপক সাড়া ফেলে। সামিট আয়োজনের ফলে  আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেকগুন বেড়ে গিয়েছে। বিশ্ববাসী জেনেছে বাংলাদেশের জনগণ মামলার উৎপত্তিস্থল মেডিয়েশন দ্বারা বন্ধ করতে চ ান এবং মেডিয়েশন দ্বারা মামলার জট কমাতে চান।

মেডিয়েশন অ্যাক্ট-২০১৮ এখন আইন কমিশনে: মেডিয়েশন আন্দোলন সফলের জন্য বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেডিয়েশন সোসাইটি (বিমস) কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘মেডিয়েশন অ্যাক্ট-২০১৮’ বিবেচনার জন্য আইন কমিশনে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত বছরের ১৩ আগস্ট রাজধানীর আইন কমিশনের কার্যালয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের কাছে বিমসের প্রতিনিধিদল প্রস্তাবিত আইনটি হস্তান্তর করেন। এ সময় আইন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাডভোকেট সমরেন্দ্র নাথ গোস্বামী বলেন, ‘মেডিয়েশন অ্যাক্ট-২০১৮’ নামে প্রস্তাবিত আইনটিতে ৭টি প্যারায় ৪৮টি ধারা সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে উপযুক্ত ট্রেইনারের মাধ্যমে সৎ ও আইনে দক্ষ মেডিয়েটরের মাধ্যমে মেডিয়েশন কার্য পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। একটি কেন্দ্রীয় মেডিয়েশন বোর্ড গঠনের কথাও বলা হয়েছে, যেখানে প্রধান বিচারপতি পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন।

প্রস্তাবিত আইনে আরো বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত এবং জাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত মেডিয়েটরদের দ্বারা বিচার বিভাগীয় ও প্রাক বিচার বিভাগীয় বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, মেডিয়েটরবৃন্দ বর্তমান মামলাজট নিয়ন্ত্রিত ও নতুন মামলা পরিহারে শান্তিপূর্ণ ভূমিকা পালনের কথা প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত মেডিয়েশন বোর্ড নিজ ক্ষমতাবলে জাতীয় পর্যায়ে মেডিয়েশন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবে।

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেন, মেডিয়েশনের এই আইনটি আমরা যাচাই-বাছাই করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। প্রস্তাবিত ‘মেডিয়েশন অ্যাক্ট-২০১৮’ যেন আইনে রূপ লাভ সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব। মেডিয়েশন আইনের খসড়া প্রণয়ন নি:সন্দেহে বাংলাদেশে মেডিয়েশন আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় অর্জন।

যেতে হবে বহুদুর: মেডিয়েশন সোসাইটির অগ্রযাত্রাকে স্বাগত জানিয়েছে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়,মাননীয় বিচারপতিদের অনেকে ও বহু বিজ্ঞ আইনজীবী।বর্তমানে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যেও মেডিয়েশন ধারণা ব্যপকতা লাভ করেছে। এটা অবশ্যই আশার কথা।তবে মেডিয়েশন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোন সুযোগ নেই।এখনও পাড়ি দিতে হবে বহুপথ।এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে আমাদের দেশের বিচার বিভাগ প্রায় ৩২ লাখ মামলার জট বয়ে বেড়াচ্ছে। এই মামলার জট নিরসনে  ও মামলার উৎসস্থল বন্ধ করতে তৈরি করতে হবে হাজারো বিশেষজ্ঞ মেডিয়েটর। মেডিয়েশন আন্দোলনকে দূর্বার গতিতে ছড়িয়ে দিতে হবে দেশের প্রতিটি আদালতে,প্রতিটি বারে ও গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।

লেখক:

মেহেদী হাসান ডালিম

সাংবাদিক ও  মেডিয়েটর।

 

অনুগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ সম্পর্কীত আরো সংবাদ